প্রায় এক যুগ পর নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (বিকেএমইএ) ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন তিন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যারা একক প্যানেলের বাইরে দাঁড়িয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের বিরুদ্ধে। এ তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা না থাকলে একক প্যানেল হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতেন হাতেম প্যানেল।
আগামী ১০ মে ৩৫টি পরিচালকের পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। চূড়ান্ত প্রার্থী হয়েছেন ৩৮ জন। এর মধ্যে ৩৫ জনই বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের ঘোষিত প্যানেলের প্রার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন জিএম হায়দার আলী, মো. মনির হোসেন শেখ ও মো. শাহজাহান আলম। বিকেএমইএ’র নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন শফিউল্লাহ চৌধুরী।
বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ হাতেম, মনসুর আহমেদ, ফজলে শামীম এহসান, মো. সামসুজ্জামান, অমল পোদ্দার, মো. মোরশেদ সারোয়ার, মোহাম্মদ রাশেদ, আশিকুর রহমান, মো. জামাল উদ্দিন মিয়া, খন্দকার সাইফুল ইসলাম, রতন কুমার সাহা, নন্দ দুলার সাহা, মো. আব্দুল হান্নান, ইঞ্জিনিয়ার ইমরান কাদের তুর্য, ফকির কামরুজ্জামান নাহিদ, মোহাম্মদ জাকারিয়া ওয়াহিদ, মিনহাজুল হক, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন রিপন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গাওহার সিরাজ জামিল, আহমেদ নূর ফয়সাল, মোহাম্মদ শামসুল আজম, ফওজুল ইমরান খান, মোহাম্মদ সেলিম, আহসান খান চৌধুরী, মো. শাহরিয়ার সাইদ, রাজীব চৌধুরী, মো. মহসিন রাব্বানি, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, মো. মনিরুজ্জামান, এম. ইসফাক আহসান, মো. মামুনুর রশিদ, রাকিব সোবহান মিয়া, আব্দুল বারেক, মো. ইয়াসিন।
বিকেএমইএ’র বিগত নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাতেম ঘোষিত প্যানেলের ২০ জন প্রার্থী পূর্ববর্তী বার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সেলিম ওসমানের আগের প্যানেলগুলোতেও ছিলেন। পরবর্তীতে বিকেএমইএ’র গুরুত্বপূর্ণ পদেও ছিলেন।
গত ৯ এপ্রিল এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ৩৫টি পদের বিপরীতে মোট ৪২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এই ৪২ জনের মধ্যে বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের প্যানেলে ৩৯ জন ছিলেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন জিএম হায়দার আলী, মো. মনির হোসেন শেখ ও মো. শাহজাহান আলম। তবে ১৯ এপ্রিল প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৪ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
বিকেএমইএ সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রথম সভাপতি হন একেএম সেলিম ওসমান। পরের নির্বাচনেও তিনি সভাপতি হন। এরপর ২০১৪ সালে বড়ভাই নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০১২ সালের পর আর কোনো ভোটগ্রহণ হয়নি। প্রতিবারই একক প্যানেল ঘোষণা করে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি হয়েছেন তিনি।