স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপ গতকাল সোমবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ তীরে শুরু হয়েছে। নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরায়ে নেজাম (জোবায়ের পন্থী) অনুসারী ২৩ জেলার মুসল্লিরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

আগামী কাল বুধবার বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে এই ধাপের ইজতেমা শেষ হবে। মঙ্গলবার বাদ আসর অনুষ্ঠিত হবে যৌতুকবিহীন গণবিয়ে।

বিশ্ব ইজতেমার সময়সূচি ও আয়োজনঃ

প্রথম পর্বের দ্বিতীয় ধাপের ইজতেমা গতকাল সোমবার বাদ ফজর আম বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। মুসল্লিরা তাবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শুনছেন এবং ইসলামের দাওয়াতি কাজ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জামাতবদ্ধ হয়ে বের হচ্ছেন।

ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বীরা জানান, এ পর্বের প্রধান বয়ানকারীরা হলেন: সকাল ১০টা: ভারতের মাওলানা আহমেদ হোসাইন

দুপুরে: পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক (বাংলায় অনুবাদ: মাওলানা নুরুর রহমান) বাদ আসর: বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল হক বাদ মাগরিব: ভারতের মাওলানা আহমদ লাট।

উর্দুতে মূল বয়ান হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসিসহ বিভিন্ন ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান জানিয়েছেন, ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পুরো ইজতেমা এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরা, নাইটভিশন ক্যামেরা, ড্রোন, সোয়াট টিম ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, রবিবার আখেরি মোনাজাত চলাকালে ড্রোন দুর্ঘটনায় কিছু মুসল্লি আহত হন। এখন থেকে পুলিশ কমিশনারের অনুমতি ছাড়া কেউ ড্রোন উড়াতে পারবে না।

বিদেশি মুসল্লি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাঃ

৭২ দেশের ৩,২২৫ জন বিদেশি মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করছেন। তাদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও সহায়তা ব্যবস্থার পাশাপাশি ফরেন টেন্টেই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ব্যবস্থা চালু করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সুবিধাঃ

মুসল্লিদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে।

কন্ট্রোল রুমঃ

প্রথম ধাপের মতো এ ধাপেও বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা ও মুসল্লিদের খেদমতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), বাংলাদেশ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের (ডেসকো) পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।