পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের বৈঠক হয়েছে। গতকাল রোববার ওমানের মাস্কাটে অষ্টম ভারত মহাসাগর সম্মেলনে (আইওসি) কনফারেন্সের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জয়শঙ্কর ও তৌহিদের আলোচনায় অগ্রগতি হলে আগামী ২ থেকে ৪ এপ্রিল ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় বিমসটেক সম্মেলনে মোদি-ইউনূস বৈঠকের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বেলা ৩টার দিকে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে ঠিক কী কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। ভারত ও ওমান সরকার যৌথভাবে এ বছর অষ্টম ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সের আয়োজন করেছে। এই সম্মেলনে অন্তত ২৭টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যোগ দিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ওমান সরকার যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করছে এবং পরিচালনায় আছে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন। এস জয়শঙ্কর এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে জয়শঙ্কর ও তৌহিদ হোসেনের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। শেখ হাসিনার সরকার বিদায়ের পর বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে ভারত সেখানে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা ও ভারতীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈরী আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, ঢাকা চায় দিল্লীতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য না দেন বা আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি অংশ না নেন। এছাড়া, সীমান্ত নিরাপত্তা, নদীর পানি বণ্টন, বন্যা ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য, সন্ত্রাসবাদে অভিযুক্তদের মুক্তি ইত্যাদি বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই সম্মেলনে চীনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত ঝাই জুন যোগ দিচ্ছেন, যা ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো চীনের কোনো কর্মকর্তার অংশগ্রহণ। এছাড়া, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিবিয়ান বালাকৃষ্ণান ও অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংও সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্যারিস ও ওয়াশিংটন সফর শেষ করে জয়শঙ্কর মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দেন, এরপর তিনি মাস্কাটে পৌঁছান। এবারের ভারত মহাসাগর সম্মেলন সবচেয়ে বড় আয়োজন হতে যাচ্ছে, যেখানে ৪৫টির বেশি দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থার ২০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাম মাধব বলেন, এই অঞ্চলে বিশ্ববাণিজ্যের ৭০ শতাংশ কনটেইনার পরিবহণ হয়। এটি শুধু সমুদ্রপথ নয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতি দিয়ে সংযুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল।