স্টাফ রিপোর্টার : দলে দলে লোকজন আসছে। একুশের বই মেলা থেকে বই কিনে বাসায় ফিরছে। ১০ ফেব্রুয়ারির পর থেকে এই দৃশ্য একুশের বইমেলার। নতুন কথা হলো আজ ছুটির দিন এবং শিশুপ্রহরে মেলা জমবে সবচেয়ে বেশি এই প্রত্যাশা করছেন অধিকাংশ প্রকাশক ও বিক্রেতা। তারা বলছেন তিন কারণে মেলা জমবে আজ। এক হলো শুক্রবার ছুটির দিন এবং মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে। এদিন সবাই বই কেনার নিয়ত করে মেলায় আসবেন। শিশুদের নিয়ে যারা আসবেন তারা নিশ্চিত বই কেনার নিয়ত করে আসবেন। দ্বিতীয়ত, শিশুদের মেলার রেশ সারাটা দিন থাকবে মেলা প্রাঙ্গণে। তৃতীয়ত, ফাগুনের ছোঁয়া লাগবে অমর একুশের বই মেলায়। তারুণ্যের সমাবেশ ঘটবে মেলা প্রাঙ্গণে।

এদিকে গতকাল পর্যন্ত সহস্রাধিক বই মেলায় এসেছে একুশের বইমেলাতে। প্রতিদিন দিনের মতো গতকালও দলে দলে লোকজনকে মেলায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। সবাইকে বই কিনে বের হতে দেখা গেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় জনসমাগম বেশি দেখা গেছে বইমেলাতে। সপ্তাহের শেষ দিন থাকায় অনেকে অফিস শেষে মেলায় চলে এসেছেন সরাসরি। আবার তিন দিনের ছুটির চাপে পড়েছে বই মেলা। বৃহস্পতিবার বিকাল শুক্রবার বিকাল এবং শনিবার বিকাল পর্যন্ত বই কেনার সুযোগ পাচ্ছেন চাকরিজীবীরা। আর তরুণেরাও বই কিনতে আসবেন প্রায় প্রতিদিন। এই ছুটির দিনে অনেকে দূর দূরান্ত থেকে আসবেন বই মেলায়।

এদিকে গতকাল একুশের বইমেলায় যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বিকাল ৪টার দিকে বইমেলাতে প্রবেশ করেন এবং দশবারোটি স্টল পরিদর্শন করেন। জানা গেছে তিনি প্রতিটি স্টল থেকে বই কিনেছেন। সেইসাথে বই উপহারও পেয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমানের বইমেলায় যাওয়ায় পুরো বইমেলাজুড়ে আলোচনা চলছে। এসময় তিনি ইসলামী ছাত্র শিবির কর্তৃক আইসিএস পাবলিকেশনসহ বই মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং বই কিনেন। ড. ফারুক হোসেন সম্পাদিত ৩৬ জুলাই ছাত্র-জনতার বিজয় ফ্যাসিবাদের পতন বইটি কিনতে গেলে স্টল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান থেকে বইয়ের দাম নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে আমীরে জামায়াত সম্মতি না দিলে স্টল কর্তৃপক্ষ বলেন আমরা বইটি গিফট করতে চাই। এতেও তিনি সম্মতি না দিয়ে বলেন, গিফট নিতে নয়, আমি বই মেলায় এসেছি বই কিনতে! আমীরে জামায়াতের এই কথা শুনে আশপাশের লোকজন অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছে। কেউ কেউ ছুটেও এসেছেন। মানবিক নেতা ডা. শফিকুর রহমান কি সত্যি টাকা দিয়ে বই কিনবেন ?- হ্যাঁ তিনি পাঞ্জাবীর পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়ে বললেন বইটির প্রকৃত মূল্য রেখে অবশিষ্ট টাকা ফেরত দিতে। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর আরেক নেতা বইয়ের মূল্য পরিশোধ করতে চাইলে সেই টাকাও ফেরত দিতে বলেন আমীরে জামায়াত। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কোন স্থানে কোন বৈষম্য থাকতে পারবে না, থাকবে না। প্রত্যেককে নিজের সংস্কারের মধ্য দিয়ে বৈষম্য দূর করতে হবে।

এদিন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা গেছে, সাংবাাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আমীরে জামায়াত বলেন, বায়ান্নের এই রক্তাক্ত মাস বাংলার জনগণের হৃদয়ে স্মৃতি বিজড়িত হয়ে আছে। যারা মায়ের ভাষার অধিকার আন্দোলনের জন্য লড়াই করে জীবন দিয়েছিলেন তাদের স্মরণেই একুশে বই মেলা। মাতৃভাষা বাংলা ভাষার স্বীকৃতির জন্য যারা জীবন দিয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদ স্বৈরশাসক থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যারা অকাতরে জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছে, যারা আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে সকল বীর সেনাদের স্মরণ করে তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জনগণ চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে, স্মরণ রাখবে।

তিনি বলেন, যেই জাতি নিজের অতীত ও ঐতিহ্যকে স্মরণ করে সেই জাতি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। এসময় আমীরে জামায়াত নিজেও ভাষা আন্দোলনের শহীদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। আহতদের সুস্থতা কামনা করেও তিনি দোয়া করেন। তিনি মেলায় আগত দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখে বলেন, এটি একটি উৎসবমুখর বই মেলা। বই মেলায় সার্বিক নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের জান ও মালের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রশাসনকে নাগরিকদেরও সহযোগিতা করতে হবে।

আমীরে জামায়াত বই মেলা পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েম, ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এস.এম ফরহাদ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদের সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সহকারী সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমনসহ জামায়াত-শিবিরের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।