ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মোঃ আবুল কালাম সরকার বলেছেন, ইসলামি গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গবেষণার পদ্ধতিগত উৎকর্ষ, একাডেমিক সততা এবং নতুন গবেষক তৈরির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কনফারেন্স হল-এ কলা ভবনে ‘ইসলামিক রিসার্চ মেথডোলজি’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ আহবান জানান।
১৮ জুলাই ২০২৬, শনিবার দিনব্যাপী এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
গবেষণায় ইসলামী জ্ঞানচর্চার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির সঙ্গে নবীন গবেষকদের প্রশিক্ষিত করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার’এ কর্মশালার আয়োজন করে।
ড. মোঃ আবুল কালাম সরকার কর্মশালার আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আজকের এ ওয়ার্কশপ ইসলামি গবেষণা প্রশিক্ষণে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। তিনি আরো বলেন, ইসলামি গবেষণার মাধ্যমে সঠিক ইসলামি নীতি, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির পুনরুর্জীবন ঘটাতে হবে। ছব্বিশোত্তর বাংলাদেশের স্বাধীন মুক্ত পরিবেশে বিশ্বমানের ইসলামি গবেষক তৈরীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইনস্টিটিউট বিভাগ ও সংস্থার কোলাবরেশনের উপর জোর দিতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে ইসলামের সুমহান আদর্শের প্রচার ও প্রসার করতে হবে।
তিনি কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন।
সমাপনি অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. কামরুজ্জামান শামীম বলেন, ইসলামি গবেষণাকে সমসাময়িক বাস্তবতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দক্ষ করে তোলা সময়ের দাবি। এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টার-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। সমাপনি অনুষ্ঠানের সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট ও বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, জ্ঞানের সর্বক্ষেত্রেই গবেষণা ছাড়া উৎকর্ষ সাধন সম্ভব নয়। আধুনিক এই যুগে ইসলামের সামগ্রিক কল্যাণের দাওয়াত দিতে হলে গবেষণা অপরিহার্য। দেশে ইসলামি গবেষণার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ গবেষক তৈরির লক্ষ্যে সেন্টারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার ধারাবাহিক আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম, তিনি তাঁর ভাষণে বলেন, একটি জাতির জ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতির জন্য মৌলিক ও মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি গবেষণাকে সমকালীন চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত করে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দক্ষ করে তুলতে হবে। আজকের এই কর্মশালায় বিপুল সংখ্যক তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ইসলামি গবেষণার প্রতি তাদের আগ্রহ আমাকে অত্যন্ত আশাবাদী করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এ উৎসাহই দেশে ইসলামি গবেষণার সোনালি দিনের আগমনের পূর্বাভাস বহন করছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাঃ মিজানুর রহমান বলেন, এ যুগ যুক্তি ও তথ্য প্রমাণের যুগ। তথ্য প্রমাণ ছাড়া এখানে কোন কথা কেউ বিশ্বাস করেনা। গবেষণার মাধ্যমেই একজন মানুষ তথ্য প্রমাণে ঋদ্ধ হতে পারে।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক ছিলেন ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন রব্বানী ও ড. মোহাম্মদ নাছের উদ্দিন। প্রশিক্ষকরা গবেষণার বিষয় নির্বাচন, তথ্যসূত্রের যথাযথ ব্যবহার, রিসার্চ আর্টিকে লেখার কৌশল, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার প্রস্তাবনা প্রণয়ন এবং গবেষণা প্রবন্ধ প্রস্তুতকরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উক্ত কর্মশালার দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কওমী ও আলিয়া মাদরাসার গ্রেজুয়েট এবং বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও সংস্থার বিপুল সংখ্যক গবেষক অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ, সময়োপযোগী এবং গবেষকদের জন্য পথনির্দেশক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করে আরো বিস্তৃত আকারে আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। সংস্থার নিবার্হী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সেন্টারের চলমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করেন।