এক ডিসির বউয়ের অনৈতিক আবদার না মিটানোর কারণে রোষানলে পড়ে জীবন তছনছ হয়ে গেছে ড্রাইভার মমিন উল্লাহর। চাকরি হারিয়ে অসহায় মমিন উল্লাহ পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ড্রাইভার মমিন উল্লাহর বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল থানার রাম নারায়ণপুর গ্রামে। ড্র্ইাভার মমিন উল্লাহ দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ১৯৮৪ সালে তিনি সরকারী পরিবহন পুলে গাড়িচালক পদে চাকরি নেন এবং ১৯৮৫ সালে নীলফামারী জেলাপুলে যুক্ত হন। তার অভিযোগ, স্ত্রীর মন রক্ষায় তৎকালীন নীলফামারি জেলার ডিসি খান শাহাব উদ্দিন মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছেন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করেও এর প্রতিকার না পেয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এর প্রতিকার চান এবং চাকর জীবনের সব সুযোগ সুবিধা দাবি করেন।
ড্রাইভার মমিন উল্লাহ বলেন, চাকরিতে যোগদানের পর ০৯-০৭-১৯৮৭ তারিখে ডিসি শাহাব উদ্দিনের স্ত্রী গরুর জন্য জেলার কৃষি খামার থেকে ভিআইপি গাড়ি দিয়ে খড় আনার কথা বলেন। এতে অস্বীকৃতি জানালে ডিসির স্ত্রী রাগান্বিত হন এবং গালমন্দ করেন। এর দুই দিন পর গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হলে পুল কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে ডিসি বেআইনীভাবে ড্রাইভার মমিন উল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে চাকরির নীতিমালা অনুসরণ করে ৮টি মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে চিঠি ইস্যু করে বিভাগীয় মামলা রুজু করেন।
ড্রাইভার মমিন উল্লাহর অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রেও নিরপেক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ না দিয়ে অধীনস্ত ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল ওয়াজেদকে নিয়োগ দেন এবং লোক দেখানো তদন্ত করে মনগড়া রিপোর্ট তৈরি করে ডিসি বাদী হয়েও নিজেই জমা নেন। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে পরিবহন পুলের কমিশনার তাকে কেন চাকরিচ্যুত করা হবে না মর্মে কারণ দর্শাও নোটিশ দেন। পরবর্তীতে চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করেন।
এদিকে জনপ্রশাসনে চাকরি ফেরত চেয়ে আপীলের পর ড্রাইভার মমিন উল্লাহ আবার দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারান। তিন বছর পর সুস্থ হয়ে জনপ্রশাসনে আপিল করলে তা নাকচ হয়ে যায়।
১৯৮৮ইং সালে নীলফামারীতে বন্যা দেখা দিলে রিলিফ অপারেশনের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর চৌধুরী আবদুল হাসনাতের গাড়ি চালান ড্রাইভার মো. মমিন উল্লাহ। তার প্রত্যয়নে ড্রাইভার মমিন উল্লাহর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দায়িত্ব পালনে কখনো গাফিলতি করেননি বলে উল্লেখ করেন।