‘পথ নবজাতকরা আপনজন, হবে না কোনো বিভাজন’ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে দেশের পরিত্যক্ত নবজাতকদের উদ্ধার এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে ‘ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশন’। এ উপলক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি (অব) সৈয়দ মোঃ জিয়াউল করিম, সুপ্রিম কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হুমায়ুন কবির মঞ্জু এবং ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ নবজাতক হাসপাতালের চেয়ারম্যান মাহমুদা সুলতানা আসমা।

সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. মো. মজিবুর রহমান জানান, অদূর অতীতে আনুষ্ঠানিক পদযাত্রা শুরু হলেও বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে এ কার্যক্রমটি পরিচালনা করে আসছেন। ইতোমধ্যে ৪১ টি পরিত্যক্ত নবজাতককে উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। তাদের অনেককে নিঃসন্তান দম্পতির হাতে তুলে দিয়ে জীবনের অধিকার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তার এ ব্যক্তিগত মানবিক কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে সমাজের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে নিয়ে এই ফাউন্ডেশনটি গড়ে তুলেছেন। তিনি জানান, এই ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য হলো পরিত্যক্ত নবজাতকদের উদ্ধার করা এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা। পাশাপাশি পরিত্যক্ত নবজাতকদের অবস্থা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা সংগ্রহে সমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে এ প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এ সময় সরকারের কাছে ডা. মুজিব নিউবর্ন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি পেশ করা হয়। এ সবের মধ্যে রয়েছে, ১২ এপ্রিলকে জাতীয় পথ নবজাতক দিবস ঘোষণা করা, যাতে এ দিবসটিকে সামনে রেখে প্রতিবছর অসহায় পথ নবজাতকদের জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে সরকারি উদ্যোগে ‘নিউবর্ন হাব’ গড়ে তোলা, যাতে যে কোনো বাবা-মা তাদের জন্ম দেওয়া অনাকাক্সিক্ষত সন্তানকে নিজের নাম-পরিচয় গোপন রেখে সেখানে রেখে যেতে পারেন। মাতুয়াইলের শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট-এ একটি বিশেষায়িত ইউনিট তৈরি করে সেখানে পথ নবজাতক পরিচর্যার সুযোগ তৈরি, যেখানে উন্নত এনআইসিইউ সুবিধা, পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স, সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থাা থাকবে। হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক চালু করে সেখানে নিরাপদভাবে সংরক্ষিত বুকের দুধ সরবরাহ করা। এসব দাবি নিয়ে আগামী ১২ এপ্রিল বিশ্ব পথ নবজাতক দিবস উপলক্ষ্যে ফাউন্ডেশন ঢাকায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করবে বলে জানানো হয়।