ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, বাংলার জমিনে ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় হাজী শরীয়তুল্লাহর অবদান অবিস্মরণীয়। ইসলামের ফরজ বিধান প্রতিষ্ঠায় তাঁর এ অবদান কোনদিন অস্বীকার করা যাবে না। হাজী শরীয়তুল্লাহকে জানা মানে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে জানা। গতকার শুক্রবার সকালে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাহাদুরপুর মাদরাসার ৮০তম ওয়াজ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

এদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় হাজী শরীয়তুল্লাহর অবদান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, বাংলার মানুষ মাথায় টুপি পরিধান করে, নামাজ পড়ে, রমযানে রোজা রাখে, ইসলাম ধর্ম পালন করে- এসবের পিছনে হাজী শরীয়তুল্লাহর বিশেষ অবদান রয়েছে।

ধর্ম উপদেষ্টা আরো বলেন, ব্রিটিশ শাসকরা এদেশের কৃষক ও শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করতো। কৃষকের কাছ থেকে কমদামে নীল কিনে নিতো। নীলচাষে বাধ্য করত। জোর করে তাদেরকে দিয়ে কাজ করাতো। শ্রমিকদেরকে নায্য মজুরি দিতো না। কৃষকদের ওপরেও জুলুম করতো। এর প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল মাদারীপুর থেকে। হাজী শরিয়তুল্লাহ এই প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি ব্রিটিশদের শাসন বিরোধীতা করতে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ফরায়েজী আন্দোলন।

ড. খালিদ বলেন, আমরা যখন পড়াশোনা করেছি তখন ফরায়েজী আন্দোলন ও হাজী শরীয়তুল্লাহর অবদান সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তবে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় তাঁর সম্পর্কে জানার সুযোগ নেই। তিনি শিক্ষা অধিদপ্তরের সাথে পরামর্শক্রমে পাঠ্য বইয়ে হাজী শরীয়তুল্লাহর ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ড. খালিদ বলেন, ফরায়েজী আন্দোলন বাংলাদেশের একটি পুরাতন সংগঠন। তবে এই পুরাতন সংগঠনটি এখনও নিবন্ধন পাইনি, এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয়। তিনি এই সংগঠনটির নিবন্ধনের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

এসময় বাহাদুরপুর পীর মঞ্জিলের গদিনশীন পীর মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসান, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল কাদের, শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রতন শেখসহ ফরায়েজী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।