স্টাফ রিপোর্টার: ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের ইবাদত বন্দেগি আর দোয়ার মধ্য দিয়ে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদসহ সারাদেশে শুক্রবার রাতে পবিত্র লাইলাতুল বরাত পালিত হয়েছে। এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামায, পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। লাইলাতুল বরাত একটি উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠান হিসাবে বিবেচিত হয় যখন মুসলমানরা আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করে এবং তাদের অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। বিশ্বাস করা হয়, পাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই রাতটি উপয্ক্তু এবং পুরো বছরের জন্য তাদের সৌভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামায, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে কাটান। মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসল্লীরা বিশেষ মুনাজাত করেন। পবিত্র লাইলাতুল বরাত উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার সরকারি ছুটি ছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করেছে। বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা পবিত্র লাইলাতুল বরাত বরাত উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানান। পবিত্র লাইলাতুল বরাত ১৪৪৬ হিজরি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ, দোয়া মাহফিল, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় মসজিদে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের শিক্ষা ও করণীয় বিষয়ে বয়ান করেন। এরপর রাত ৮টায় লাইলাতুল বারাআতের ফজিলত ও তাৎপর্য বিষয়ে বয়ান করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। পরে লাইলাতুল বারাআতের ফজিলত ও তাৎপর্য তুলে ধরে ওয়াজ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গবর্নরসের গবর্নর ও তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ড. খলিলুর রহমান মাদানি।
পবিত্র কুরআর ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বারাআতের শিক্ষা ও করণীয় সম্পর্কে ওয়াজ করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব গভর্নরসের গভর্নর ও চরমোনাই আহসানাবাদ রশিদিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সৈয়দ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানি। নফল ইবাদতের গুরুত্ব ও ফজিলত নিয়ে ওয়াজ করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মিজানুর রহমান এবং ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আখেরি মুনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি হয়। মুনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী। এদিন বিপুল সংখ্যক মুসল্লি কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত করেছেন। এছাড়া গরীব ও দুস্থদের মাঝে অর্থ, খাবার ও মিষ্টান্নও বিতরণ করা হয়।