স্টাফ রিপোর্টার : ভারতে বসে পলাতক শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক কর্মকান্ড দেশে নুতন করে অশান্তি তৈরি করছে। বুধবার রাতে হাসিনার আত্মঅহংকারি এক ভাষণেই বিরোধ ঘুচিয়ে ফের ঐক্যবদ্ধ হলো ছাত্রজনতা। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের নিয়ে উপহাস এবং দেশের জনগণের ওপর সকল দোষ চাপিয়ে আরও ঘৃণার পাত্রে পরিণত হয়েছেন গণহত্যা চালিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা।

ফ্যাসিবাদি দল আওয়ামী লীগ সভাপতির কর্মসূচি ও বক্তব্য দেওয়ার মতো অপতৎপরতায় বেকায়দায় পড়েছেন দেশে থাকা দলীয় নেতাকর্মীরা। এতে সারাদেশে গ্রেফতার হয়েছেন অসংখ্য নেতাকর্মী। অনেকে গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছেন। এরই মধ্যে বুধবার রাত ৯টায় ছাত্রসমাজের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা। এতে সারাদেশব্যাপী দলীয় নেতাকর্মীরা আরও বিপদে পড়েন।

এরই প্রেক্ষিতে সন্ধ্যার পর থেকেই ছাত্র-জনতা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর অভিমুখে জড়ো হন। দেওয়া হয় আগুন। ভাঙচুর চালানো হয় শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিতে। এছাড়া ভাঙচুর করা হয় সুধাসদন। এর ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের রাঘব বোয়ালদের বাড়ি ঘর ভাঙচুর চালায় ক্ষুদ্ধ জনতা। যদিও এসব রাঘব বোয়াল গত ৫ আগস্ট থেকে পলাতক রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ যেসব অপকর্ম করেছে জাতির কাছে তার ক্ষমা চায়নি। বরং তারা ঠিক করেছে বলেই আবার নতুন নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করছে। শেখ হাসিনা বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য দিচ্ছেন। জনগণের পালস তিনি বোঝেননি। তার আমলে নির্বাচনগুলো যে প্রক্রিয়ায় হয়েছে তা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। এ কারণে তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে।

তারা বলেন, গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যাওয়ার পর সেখানেই অবস্থান করছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি হত্যা, গণহত্যা, গুম ও নির্যাতনসহ একাধিক মামলা করা হয়েছে। চলমান মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় পলাতক ঘোষণা করা হয়েছে শেখ হাসিনাকে। তার প্রত্যর্পণের জন্য গত ২৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। এমনকি প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্য উপদেষ্টারাও শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য।

দলটির নেতাকর্মীরা বলছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দেশ ত্যাগ করে ভারতে গিয়ে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা একের পর এক বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। এমনকি তিনি বিভিন্ন ফোরামে অনলাইনে বক্তব্য রেখে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আরও বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন।

এর আগে আওয়ামী লীগ দলীয় ফেসবুক পেজে কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাবির লিফলেট বা প্রচারপত্র বিলি। এছাড়া রয়েছে ৬ ফেব্রুয়ারি দেশে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ১৬ ফেব্রুয়ারি অবরোধ, ১৭ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে মশাল মিছিল এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক ‘কঠোর’ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিফলেট বিতরণের ভিডিও প্রকাশ করছে দলটি। এতে করে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রিুয়ারি পর্যন্ত লিফলেট বা প্রচারপত্র বিলি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, লিফলেট বা প্রচারপত্র বিলির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে আরও বিপদে ফেলছে দলীয় নেতাকর্মীদের। এরই মধ্যে বুধবার রাত ৯টায় ছাত্রসমাজের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ায় সারা দেশব্যাপী দলীয় নেতাকর্মীরা আরও বিপদে পড়েন।

এদিকে ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দলের প্রধান নেতাকর্মীদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে আছেন, কেউ পলাতক রয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নেতা একাধিক মামলায় আটক হয়ে কারাগারে রয়েছেন। দলের অনেক নেতা বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বিবৃতি দিয়ে যাচ্ছেন। এখন আর দলের কোনো নেতৃত্ব বা কার্যক্রম স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান নয়। এমনকি ঢাকায় দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও ভাঙচুর করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এখন উচিত অহেতুক কর্মসূচি ঘোষণা না করে দেশবাসীর উদ্দেশে ক্ষমা চাওয়া। একই সঙ্গে তার আমলে যেসব অপকর্ম হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে কারা জড়িত সেগুলো খুঁজে বের করা। জনগণের জন্য কীভাবে কাজ করা যায় সেই চেষ্টা করা। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু তিনি তার অপকর্মের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য ও কর্মসূচি দিয়ে নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলছেন।

এদিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা অনভিপ্রেত ও অনাকাক্সিক্ষত বলে মনে করে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে, পলাতক অবস্থায় ভারতে বসে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে জনমনে গভীর ক্রোধের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে মনে করছে তারা। বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ‘গত ছয় মাসে ৩২ নম্বর বাড়িটিতে কোনো ধরনের আক্রমণ, ধংসযজ্ঞ হয়নি। গতকাল রাতে এটি ঘটেছে পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে, যার দু’টি অংশ আছে। একটা অংশ হলো, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা আত্মদান করেছেন শেখ হাসিনা তাদের অপমান করেছেন, করেছেন। শহীদের মৃত্যু সম্পর্কিত অবান্তর, আজগুবি ও বিদ্বেষমূলক কথা বলে পলাতক শেখ হাসিনা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবজ্ঞা করেছেন ও অশ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের মনে জুলাই গণহত্যা নিয়ে যে ক্ষত রয়েছে, সে ক্ষততে শেখ হাসিনা একের পর এক আঘাত করে চলছেন। তার এই সহিংস আচরণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশ ও জনগণের জানমাল রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার যথাযথ চেষ্টা করছে।’

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো: তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্মকান্ডকে ঢাকা উসকানিমূলক বলে মনে করায় দিল্লিকে প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবারো এ ধরনের প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানায়।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ সারাদেশে ভাঙচুরের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বুধবার রাত আড়াইটার দিকে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, ‘গড়ার তাকত আছে আমাদের?’ শিরোনামে একটি ফেসবুক পোস্ট দেন।

লম্বা পোস্টের একটি অংশে তিনি লিখেছেন, ‘ভাঙার পরে গড়ার সুযোগ এসেছে, কিন্তু অনন্ত ভাঙা প্রকল্প আমাদের জন্য ভালো ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবহ না। গড়ার প্রকল্পগুলো খুব দ্রুতই শুরু ও বাস্তবায়ন হবে। আপনারা গড়ার কাজে সক্রিয় হোন।

সার্বিক পরিস্থিতির জন্য পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার উসকানি মূলত দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার রাত পৌনে ১২টায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডা. শফিকুর রহমান তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, সার্বিক পরিস্থিতির জন্য পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার উসকানি মূলত দায়ী। মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনা কখনোই বাংলাদেশের মানুষকে অন্তরে ধারণ করে না। এটি তার ঘৃণিত স্বভাব। তার কিছুক্ষণ আগে একটি স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে দেশবাসীকে কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির।

বিদেশে বসে শেখ হাসিনা গুজব ছড়িয়ে দুর্বৃত্তদের উস্কানি দিচ্ছেন বলেন অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ছাত্র-জনতাকে প্রতিহত করতে শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ-যুবলীগকে গুলী করে হত্যার লাইসেন্স দিয়েছিলেন। আর তিনি (শেখ হাসিনা) হত্যাকান্ড চালিয়ে মায়াকান্নার অভিনয় করতেন। ছাত্রলীগ-যুবলীগ-শ্রমিক লীগসহ সবাইকে ফেলে গত ৫ আগস্ট তিনি একাই পালিয়ে গেলেন। এখন আশ্রিত দেশে বসে মাঝে মাঝে আওয়াজ দেন। গুজবও ছড়াচ্ছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সম্প্রতি বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশে বসে ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধান হত্যাকান্ডের মূলহোতা শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি বাংলাদেশে উসকানিমূলক পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তবে দেশের ছাত্র সমাজ ও জনগণ তা রুখে দিয়েছে। পরাজিত শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইলে তা এ দেশের জনগণ রুখে দিবে। বাংলাদেশের জনগণ যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে তা তারাই রক্ষা করবে।

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারতের পৃষ্ঠপোষকতায় স্বৈরাচার হাসিনার ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া নিয়ে এক ধরনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। সেই আশা নিয়েই অনেক কর্মীকে ঝুঁকি নিয়ে গোপনে গোপনে লিফলেট বিরতরণ করতে দেখা যায়। কিন্তু সর্বশেষ হাসিনার হঠকারি ও উসকানিমূলক এই ভাষণে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সে আশাটুকুও যেন নিভে গেল।

এদিকে, ৫ আগস্টের পর সুবিধাবাদী শেখ পরিবারকে বাদ দিয়ে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে রাজনীতিতে ফেরার জল্পনা চলে আসছে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে। বিদেশী প্রভুরাও বিকল্প নেতৃত্বের মাধ্যমে গণহত্যাকারী দলটিকে ঘুরে দাঁড় করানোর এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছেন- রয়েছে তেমন জল্পনাও।

হাসিনার ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় ৫ ফেব্রুয়ারি অনলাইনে দেয়া এক ভাষণের প্রতিবাদে আবারো গর্জে ওঠে ছাত্রজনতা।

হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজের কমেন্ট সেকশনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগের অনেকেই আশাহত হয়ে হাসিনার হঠকারি বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। আবার উগ্রভক্ত কেউ কেউ নেতাকর্মীদের বিপদে রেখে পালিয়ে যাওয়া নেত্রীর জন্য চাটুকারিতাও করেছেন।

বদরুল ইসলাম লিখেছেন, এইবার থামেন আপা...আপা। ৬ মাস লাপাত্তা থাকার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ, তাও ৫২ মিনিটের মধ্যে ৩০ মিনিট শুধু বাবা আর নিজের গুণগান! অথচ এতোগুলো ছাত্রছাত্রী জনতা মারলেন, —একটা বাক্যও অনুশোচনার জন্য ব্যয় করার প্রয়োজন মনে হলো না! অপরাধ করতে করতে পাথর হয়ে গেছেন, অনুভূতি বলতে কিছু বাকি নেই।

আপনার ভাষ্য মতে, আপনি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাহলে সেই “তৃপ্তি” নিয়েই অবসরে যান, নতুন প্রজন্মকে তাদের দেশ গড়তে দিন। জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল ১৬ বছর দেশ চালিয়ে ৬৭ বছর বয়সে নিজে থেকে সরে গেছেন, কারণ তিনি জানতেন কখন থামতে হয়। যদি আঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে আপনার তুলনা না-ও হয়, অন্তত এইটুকু শিক্ষা নিন!

আর আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার গালি বাহিনীকে তাদের ব্যক্তিগত জীবনে মনোযোগ দিতে বলেন। সারাদিন গালাগাল করে আপনাদের অপকর্ম ঢেকে রাখা যাবে না, সময় আসছে, সত্য ঠিকই প্রকাশ হবে!

হাসান আহমেদ লিখেছেন, এতোগুলো মানুষ প্রাণ কেড়ে নিতে যার বিন্দুমাত্র মায়া আসে নাই।দেশটাকে লুটপাট করে শেষ করে দিয়ে গেছেন। আইনের শাসন শেষ করে গেছেন মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতা দখল করে রেখেছেন। গুম খুন করে ত্রাসের সৃষ্টি করেছেনৃ আর এখন ভারত বসে দেশ ধ্বংসাবশেষ দেখতে চান। সাধারণ নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলে আপনি পালিয়ে গেলেন। কারও জন্যই মায়া হলো না এখন সাধারণ বাড়ি ভাঙার দাবি করছেন। আহঃ আপনি মানুষ নাহ!

মোঃ আমজাদ বেপারী লিখেছেন, আজকের এই ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগই দায়ী। তাদের অতীত কর্মকান্ডের ভুল স্বীকারতো করেইনি বরং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি ক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে বিপ্লবীদের মধ্যে আরও বেশি ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যার প্রতিফলন ঘটছে ।

ভাষণে হতাশ আওয়ামী লীগের এক নেতা লিখেছেন, ইদ্রিস আহম্মেদ লালন লিখেছেন, আপনি এতোগুলা কর্মীকে রেখে পালিয়ে কেন গেলেন,, দেশের মাটিতে থেকে লড়াই চালিয়ে যেতেন, তা না করে পালিয়ে গেলেন, আপনি কি একা আওয়ামী লীগ চালাতেন।