চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ সদস্যরা। তারা সড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামানের পানি ছিটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল শনিবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। আড়াই ঘণ্টার মত অবরোধের পর বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে বিকাল ৩টার দিকে আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ সদস্যরা প্রেস ক্লাবের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে পল্টন মোড় থেকে প্রেস ক্লাব হয়ে কদম ফোয়ারা এলাকায় যানবাহন চলাচল থেমে যায়। যানজট ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের সড়কেও। পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রীজ পর্যন্ত যানজট দেখা দেয়।

জানা গেছে, বিকাল ৩টায় বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ ও ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এর আগে, সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ঠিকাদার পদ্ধতি বাতিল করে সব কর্মচারীকে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে স্থায়ীকরণসহ বিভিন্ন দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে সারাদেশ থেকে আগত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং হিসেবে কর্মরত কয়েক হাজার কর্মকতা-কর্মচারী। বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ ও ঐক্য পরিষদের আয়োজনে সমাবেশ শেষে দাবি আদায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করেন তারা। এসময় ব্যানার হাতে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন অবরোধে যোগ দেওয়া আউটসোর্সিং কর্মীরা। তাদের দাবি, ঠিকাদার পদ্ধতি বাতিল করে চাকরিতে স্থায়ীকরণ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধসহ সকল বৈষম্য দূর করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। এ সময় আর কোনো আশ্বাস নয়, এবার দাবি আদায়ের চূড়ান্ত ফলাফল না পেলে রাজপথ ছাড়বে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন আউটসোর্সিং হিসেবে কর্মরত কর্মকতা-কর্মচারীরা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সদস্যরা। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সদস্যদের আন্দোলনের কারণে সচিবালয় ও আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

আন্দোলনকারীদের একজন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সহকারী প্রোগ্রামার মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামানের পানি ছিটিয়ে আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। রাবার বুলেটে আমাদের প্রায় ১৩/১৪জন আহত হয়েছে। শাহবাগ থানার ওসি মো. খালিদ মনসুর বলেন, ১০/১২ টি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়েছে। আমাদের নিরপরাধ সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পুলিশ আমাদের সরিয়ে দিয়েছে। তিনি জানান, রাস্তা অবরোধ করে যানজট সৃষ্টি করেছিল আউট সোর্সিংয়ের সদস্যরা। পুলিশ জলকামান ও কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাদের সরিয়ে দেয়। জলকামান নিক্ষেপের সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। আউটসোর্সিং কর্মচারীদের অনেকে সড়কে শুয়ে-বসে পড়েন।