নাছির উদ্দিন শোয়েব: ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বুধবার রাত থেকে এক্সেলেটর-বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি গুঁড়িয়ে দেয়া শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাড়িটির অর্ধেকের বেশি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে অগ্নিসংযোগও করা হয়। এসময় পাঁচ নম্বর সড়কে শেখ হাসিনার বাসভবন সুধাসদনেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভারতে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেয়ার ঘোষণায় দেশের বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের দম্ভ-স্তম্ভ চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা।

হাজার হাজার ছাত্রজনতা রাতভর দেশের বিভিন্ন জেলায় শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার আত্মীয় ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ভাংচুর করে অগ্নি সংযোগ করে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে থাকা শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙ্গে ফেলা হয়। গতকালও কয়েকটি স্থানে ভাংচুর করা হয়েছে। শুধু ধানমন্ডির বাড়ি নয়, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, বরিশাল, ঝালকাঠি, সিলেট, রংপুর, ভোলা ও পিরোজপুরসহ বিভিন্ন জেলায়। এসব স্থানে শেখ হাসিনার আত্মীয় এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িসহ বিভিন্ন ভাস্কর্য-ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আমির হোসেন আমু, হাসানাত আব্দুল্লাহ, তোফায়েল আহমেদ, মাহবুবুল আলম হানিফ, শাহরিয়ার আলমসহ বেশ কয়েকডজন নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও খুলে ফেলা হয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের নামফলক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার নির্ধারিত সময় রাত ৯টায় হাসিনার ভাষণের আগেই তার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে জড়ো হতে থাকেন তার শাসন আমলে নিপীড়নের শিকার হওয়া ছাত্র-জনতা। রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ভাঙতে শুরু করে বাড়ি। একটা সময় আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় বাড়ি। এরপর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু হয়। গতকাল সকালেও ভবনটিকে বুলডোজার দিয়ে ভাঙতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি ভবনের অর্ধেক এবং আরেকটি ভবনের একাংশ ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। হাজারখানেক উৎসুক জনতা ভবনটির সামনে জড়ো হয়েছেন। এসময় অনেককেই ভবনের ইট, রড খুলে নিতে দেখা গেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ বলছে, হাসিনা যে অন্যায় করেছে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করেছে, তার প্রতিবাদে তারা ভবনের এসব অংশ খুলে নিচ্ছে। কেউ কেউ বলছে, দম্ভের পতনের স্মৃতি হিসেবে তারা ইট কেটে নিয়ে যাচ্ছে। বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ স্থানটি থেকে ভেকু ও বুলডোজার সরিয়ে নিতে দেখা যায়। এর আগে, 'জয় বাংলা' স্লোগান দেয়ায় এবং ভবন ভাঙার জন্য গালাগালি দেয়ায় নারীসহ দুইজনকে মারধর করতে দেখা গেছে। এসময় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ মাসুদ জানান, এখন কোনো সমস্যা নাই। ম্যাক্সিমাম চলে গেছে। এখন আর লোকজন নৈই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, এই মাটিতে স্বৈরাচারের কোনো চিহ্ন থাকবে না। আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এসেছি, আমরা এটি নিশ্চিত করতে চাই আওয়ামী লীগের জন্য কোনো কিবলা অবশিষ্ট রাখব না। দেওয়ালের ইট খুলে হাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন সৈয়দ রিফাত নামের এক ব্যক্তি। এ সময় তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের ধ্বংসস্তূপের প্রমাণ রেখে দেওয়ার জন্য এই ইট রাখলাম। এরপরও যদি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের কেউ ফিরে আসার কথা বলে, এই ইট তার কপালে যাবে। ৩২ নম্বরের আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়। রাত ১১টায় ৩২ নম্বরের বাড়িটি ভাঙার জন্য বুলডোজারের জন্য বাড়িটির সামনে অপেক্ষা করছিলেন ছাত্র-জনতা। সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, ধসে পড়া ছাদ ও রেলিংয়ের ভাঙা অংশ থেকে বেরিয়ে আসা রড সংগ্রহের চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। কেউ আবার হাতুড়ি পিটিয়ে ধসে পড়া ছাদ ভাঙার চেষ্টা করছেন।

সুধাসদনে আগুন : ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ভবনটিতে যখন ভাঙচুর চলছিল ঠিক তখন আগুন দেওয়া হয় ধানমন্ডির ৫-এ শেখ হাসিনার বাসভবন সুধা সদনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ১০টা থেকে পৌনে ১১টার মধ্যে কয়েকজন তরুণ এসে তালাবন্ধ সুধাসদনে আগুন লাগিয়ে দেয়। যদিও ৫ অগাস্ট সুধাসদনে এক দফা হামলা হয়। এরপর সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে তালা মেরে যান। বুধবার রাতে সেই তালা ভেঙে আগুন লাগানো হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন জ্বললেও ফায়ার সার্ভিসকে সেখানে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে তাদের কোনো সদস্য সেখানে যেতে পারেনি।

ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি : আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বড় রাজাপুর গ্রামের মিয়া বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধরা। আন্দোলনকারীরা কেউ বাড়ির ছাদে, কেউ বাড়ির ভেতরে, আবার কেউ বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন। এ সময় তারা বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্র, ছাদের রেলিংয়ে ও সামনে থাকা পোড়া একটা গাড়িতে আগুন দেন। আন্দোলনকারীরা বলেন, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও উসকানিমূলক বক্তব্যের জন্য দায়ী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আজ সেই রাগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন ছাত্র-জনতা। এমন খারাপ রাজনীতি কেউ করলে তাদের এমন পরিণতি হবে, এটাই আমাদের শেষ কথা।

শাহরিয়ার আলমের বাড়ি ভাঙচুর, আগুন: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানীতে থাকা চারঘাট-বাঘা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাসভবনে ভাঙচুর করে আগুন দিয়েছে স্থানীয় জনতা। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রথমে শাহরিয়ার আলমের বাসভবনে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৪০০-৪৫০ জনের একটি মিছিল বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা ওই বাড়ির প্রধান ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশে করে সবগুলো রুমে ভাঙচুর শুরু করে। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে শাহরিয়ার আলমের বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুরো চারতলা ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাসভবনের ভেতরে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটলে তার বিকট শব্দে চারিদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

শামীম ওসমানের বাড়ি ভাঙচুর: নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে সাবেক এমপি শামীম ওসমানের পৈত্রিক বাড়ি আমান ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বুলডোজার দিয়ে আমান ভবন ভেঙে ফেলা হয়। এ সময় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সাচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, ‘শেখ মুজিবের ৩২ নম্বরের বাড়ি ভেঙেছে জনগণ। আমরা তারই ধারাবাহিকতায় শেখ মুজিবের ম্যুরাল বা ছবি ভেঙে দিচ্ছি। এটি নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবি। যেখানে যেখানে আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিবের কোনো ছবি বা স্মৃতিচিহ্ন আছে সবগুলো ভেঙে ফেলা হবে। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ এবং জেলা আদালতের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন আইনজীবীরা। নারায়ণগঞ্জে ম্যুরাল ও বঙ্গবন্ধু কর্নার ভাঙলেন আইনজীবীরা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের ম্যুরালটি প্রথমে ভাঙা হয়। এরপর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় এবং জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনের ম্যুরালটিও ভাঙা হয়।

বরিশাল: বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর কালীবাড়ি রোডে সেরনিয়াবাত ভবনের সামনে বুলডোজার নিয়ে আসে ছাত্র-জনতা। রাত সোয়া ১টার দিকে বুলডোজার চালিয়ে ভাঙা শুরু করে তারা।

আমুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে: ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বরিশালের বাসভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার রাত ২টার দিকে ভবনটি ভাঙা শুরু করে ছাত্র-জনতা। তার আগে দেড়টার দিকে বুলডোজার ও মিছিল নিয়ে ভবনের সামনে অবস্থান নেন তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১২টার দিকে কালীবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর নগরীর জীবনানন্দ দাশ সড়কে অবস্থিত আমির হোসেন আমুর বাসভবনের সামনে আসেন ছাত্র-জনতা। পরে তারা ভাঙা শুরু করেন। আমির হোসেন আমুর বাড়ি ঝালকাঠি পৌর শহরে হলেও তিনি বরিশালের এই ভবনে থাকতেন। এখানে বসেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

তোফায়েলের বাড়িতে আগুন: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও ভোলা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাসভবনে আগুন দেওয়া হয়েছে। এর আগে বাড়িটিতে ভাঙচুর চালান বিক্ষুব্ধ জনতা। বুধবার রাত পৌনে ১টার দিকে ভোলা সদরের গাজীপুর রোডে অবস্থিত তোফায়েল আহমেদের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাড়িটিতে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলাতে এসে প্রিয় কুটির নামের এই বাড়িতে বসবাস করতেন তোফায়েল আহমেদ। বাড়িটিতে বসেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এখানে আর কেউ আসেননি। বাড়িটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

পিরোজপুর: বুধবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করে প্রতিবাদ জানান তারা। রাত ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল এবং তার ভাই পিরোজপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেকের বাড়ি ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

খুলনা: খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা শেখ বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর অগ্নিসংযোগ করেছে ছাত্র-জনতা। বুধবার মধ্যরাতেও বাড়ির ভেতরের অংশে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। রিকশা-ভ্যানসহ বিভিন্ন বাহনে করে ওই বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে যাওয়ার চিত্রও দেখা যায়। শেখ বাড়ি ভাঙার পর আগুন ধেয়া হয় খুবিতে শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুর

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যুরাল ভাঙচুর: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। বুধবার মধ্যরাতে বুলডোজার দিয়ে এটি ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া নগরীর দোলখোলা মোড়ে আওয়ামী লীগ নেতা দেলোর বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য (এমপি) ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এক্সকাভেটর মেশিন দিয়ে বাড়ির গেট ও বাড়ির দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে।

সাতক্ষীরা: বুধবার রাত ৮টার দিকে জেলা শহরের খুলনা রোড মোড়ে জড়ো হয়ে তারা প্রতিবাদ জানান। পরে তারা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদ চত্বর এবং সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

যশোর: যশোর জেলা পরিষদ, সদর উপজেলা পরিষদ, যশোর পৌরসভায় নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ও মনিহার এলাকায় বিজয় স্তম্ভের প্রাচীরসহ অন্তত ৮টি নামফলক ভাঙচুর করেছে ছাত্র ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রাম: সারা দেশের মতো চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে নগরের পাঁচলাইশ থানার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এবং কোতোয়ালি থানার জামালখান এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে। এদিন রাতে চমেক হাসপাতাল এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে ছাত্র-জনতা। এ সময় মিছিল থেকে হাসপাতাল এলাকার একটি ভবনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়। এ ছাড়া নগরের জামালখান এলাকায় একটি মিছিল থেকে সেখানে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের একাধিক ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়।

কুমিল্লা: কুমিল্লা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বুধবার রাত ১টার দিকে নগরীর মুন্সেফে অবস্থিত বাহারের তিনতলা বাড়িতে হামলে পড়েন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এ সময় বাহারের বাড়ির দরজা-জানালা ভাঙার চেষ্টা করা হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধরা। তবে বুলডোজার বা অন্য কোনো মেশিন না থাকলেও হাতে থাকা শাবল, লাঠি দিয়ে ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে অকটেন ও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বাহারের বাড়িটিতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে প্রাঙ্গণে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ থেকে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কলেজের প্রধান ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে দক্ষিণ ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল হাতুড়ি, শাবলসহ বিভিন্ন যন্ত্র দিয়ে ভাঙা হয়।

রাজশাহী: নাটোর সদর আসনের আলোচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম শিমুলের বাসভবন জান্নাতি প্যালেসে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতা শহরের কান্দিভিটুয়াস্থ শিমুলের বাসভবনে আগুন দেয়।

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও সদর উপজেলা চত্বরে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া বুলডোজার দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বুধবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

পটুয়াখালী: পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সামনে ও র‌্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি পৃথক ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থী ও জনতা। বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

সিলেট: সারাদেশের ন্যায় সিলেটেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরালের স্থাপনা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্রজনতা। বুধবার রাতে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত ম্যুরাল দুটির স্থাপনা সম্পূর্ণরুপে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেন ছাত্র-জনতা।

পাবনা: পাবনার ঈশ্বরদীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনা আবাসিক হলের নামফলক ভেঙে দেওয়া হয়। বুধবার রাতব্যাপী এসব ঘটনা ঘটে। পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শেখ রাসেল আবাসিক হলের নামফলকও মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ঈশ্বরদী আলহাজ্ব মোড়ে স্মৃতিস্তম্ভের পাশে নির্মিত বিদ্বেষ ছড়ানো ‘ঘৃণাস্তম্ভ’ ভেঙে গুঁড়িয়ে ফেলেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।