আজ ১৮ জুলাই, শনিবার। ২০২৪ সালের এই দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের “কমপ্লিট শাটডাউন” শুরু হয় এদিন। এর আগে ১৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় তারা। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এদিন সংঘর্ষে সারাদেশে ৩১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ ছিল প্রায় অচল। তাদের মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২৪ জন, চট্টগ্রামে ও নরসিংদীতে দু’জন করে এবং রংপুর, সাভার ও মাদারীপুরে একজন করে নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আহত হন প্রায় দেড় হাজার মানুষ। এর আগে ১৬ জুলাই আন্দোলনে সারাদেশে ছয়জন নিহত হন। এ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদের সংখ্যা ৩৭ জনে পৌঁছায়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এদিন ঢাকাসহ সারাদেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। এছাড়া ডিএমপি অনির্দিষ্টকালের জন্য রাজধানীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এদিন বেলা ১২টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে দেশের অধিকাংশ জেলার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। রাত ৯টার পর থেকে ইন্টারনেট সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
অবরোধকারীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশ প্রায় অচল ছিল। এদিন দুর্বৃত্তরা মহাখালীতে সেতু ভবন, স্বাস্থ্য ভবন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবন, দুর্যোগ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। শতাধিক গাড়ি পোড়ানো হয়। দুই দফা আগুন দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এর জেরে অন্তত ১২ ঘণ্টা বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ ছিল। এদিন সকাল থেকে বন্ধ রাখা হয় মোবাইল ফোনের ইন্টারনেট। বিভিন্ন স্থানে ডেটা সেন্টারে অগ্নিসংযোগের পর বন্ধ হয়ে যায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। ফলে কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গোটা দেশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এদিন সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
এদিন শেখ হাসিনার সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর গুলী চালানোর অনুমতি দিয়ে শেখ হাসিনা যে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ফাঁস হওয়া ওই কলটি শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে করেছিলেন গত বছরের ১৮ জুলাই। ওই সময় ছিল বিক্ষোভের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। পুলিশের গুলীতে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। কলটির পরের কয়েকদিনে ঢাকায় সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এমন রাইফেল ঢাকা জুড়ে মোতায়েন ও ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিবিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের একাধিক নথিতে বিষয়টি উঠে এসেছে।
১৮ জুলাই 'সম্পূর্ণ শাটডাউন' কর্মসূচির প্রেক্ষিতে ঢাকায় ও অন্যান্য ৪৭টি জেলায় ব্যাপক সহিংসতা ঘটে। হাজার হাজার শিক্ষার্থী পরিবহন বন্ধ কার্যকর করার জন্য অন্যান্য বিভিন্ন গ্রুপের সাথে যোগ দেয়। পুলিশ ও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বুলেট, শটগানের গুলী ও রাবার বুলেট দিয়ে তাদের উপর গুলী চালালে কমপক্ষে ২৯ জন শহীদ হওয়ার নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়। পুলিশ ও ছাত্রলীগের লোকজন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। আন্দোলনকারীরা বিটিভি ভবন, সেতু ভবন ও অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। সারাদেশে ইন্টারনেট পরিসেবা বন্ধ রাখা হয় এবং মেট্রো রেলের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। ঢাকা ছাড়াও দেশের ৪৭টি জেলায় বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, পুলিশের গুলী ও হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় আহত হয় অন্তত ১৫০০ জন। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে এবং কিছু জায়গায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজনের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। সারাদেশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়।
১৮ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়। ওরা গ্রাফিতি করার জন্য তখন ফান্ড কালেকশন করেছিল। ১৭ তারিখের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল। আন্দোলনের শীর্ষ নেতারাও স্বীকার করেন যে, ১৭ তারিখের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যে ভূমিকা নিয়েছে, তারা যদি সে ভূমিকা না রাখতো তাহলে আন্দোলন টিকে থাকতো কি-না সন্দেহ। আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে তাদের প্রতি সমাজের যে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল তা তারা ভুল প্রমাণ করে দেয়। তারা দেখিয়ে দেয় তারাও বুকের তাঁজা রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে যেকোনো অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
১৮ জুলাই শিক্ষার্থীরা পুনরায় মিছিল বের করে। তবে সংখ্যায় কম হওয়ায় পুলিশের সাথে লড়াই করা কঠিন ছিল। এক পর্যায়ে ক্যাম্পাস সংলগ্ন গেরুয়া এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজন এসে আন্দোলনে যোগ দিলে পুলিশ পিছু হটতে শুরু করে। তারা ক্যাম্পাসের বাইরে চলে যায়। তখন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সকল গেটে তালা লাগিয়ে দেয় এবং ঐদিনই হলের তালা ভেঙে সেখানে অবস্থান করে আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের শঙ্কা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হলে আন্দোলনের মাত্রা স্তম্ভিত হয়ে যাবে কী-না। আন্দোলন চালানো সম্ভব কি-না। তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা জানায় আন্দোলন চলবে। পরদিন যেভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরে তাতে সামগ্রিকভাবে এদেশের মানুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। দেখা গেলো নিজেদের উদ্যোগে স্বতস্ফূর্তভাবে তারা আন্দোলনে জড়িয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এই অবদান শতবছর ধরে মনে রাখা উচিত বলে মনে করেন অংশীজনরা।
১৮ জুলাই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশব্যাপী প্রতিরোধ, সহিংসতা, সংঘর্ষ ও গুলীর ঘটনা ঘটে। রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভেতরে আটকে থাকা পুলিশদের হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করেছে র্যাব। বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার কিছু আগে এ ঘটনা ঘটে।
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’র অংশ হিসেবে রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় সরকারি চাকরিতে কোটার বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পর কিছু পুলিশ সদস্য কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির ভেতরে অবস্থান নেন। পুলিশ ভবনের ভেতর থেকে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে সেই ভবনে ভাঙচুর করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকেই পুলিশ ছররা গুলী ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে আহত হয়েছে অনেকে। এরমধ্যে মেরুল বাড্ডার কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিতে ৩ ঘণ্টা ধরে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে হেলিকপ্টার নিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে র্যাব। প্রথমে কয়েকজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পর আবারও হেলিকপ্টার টহল দেয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ বিনা উস্কানিতে ব্র্যাকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। এমনকি তারা ক্যাম্পাসের ভেতরেও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। পুলিশের হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে বাড্ডা-রামপুরা ছাড়াও রাজধানীর মিরপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়াসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। সারাদেশ থেকেও সংঘর্ষের খবর আসে সেদিন।
১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার আলোচনায় বসতে রাজি বলে জানান তৎকালীন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। শিক্ষার্থীরা যখনই চাইবে তাদের সঙ্গে সরকার বসতে রাজি আছে বলে জানিয়ে দেন তিনি। এদিন জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলের নীচে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরকার নীতিগতভাবে একমত। ফলে আন্দোলনকারীরা যখন রাজি হবে, তখনই সরকার তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে।
সরকার কি আদর্শিকভাবে কোটা সংস্কারের পক্ষে যাচ্ছে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলাটি আদালতে আছে। তাও সর্বোচ্চ আদালতে। আদালতে যখন মামলার শুনানি শুরু হবে সরকারপক্ষ কোটার ব্যাপারে একটা প্রস্তাব দেবে। এবং আমার মনে হয় আমরা যেহেতু সংস্কারের পক্ষে, কোটা সংস্কার করার জন্য প্রস্তাব দেব। সেজন্য আপনারা বলতে পারেন আমরা (সরকার) কোটা সংস্কারের পক্ষে। আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতার ঘটনা খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গ্রহণ করা হয়েছে। হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খন্দকার দিলিরুজ্জামানকে এই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি এবং বিশদভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করেছি, কোমলমতি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যে দাবি ছিল, সরকার তাদের কথা বিবেচনা করে দাবিগুলো মেনে নিতে রাজি হয়েছে। তাই আমার মনে হয়, আজ থেকে আন্দোলন করার আর কোনো প্রয়োজন নেই। সে কারণে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাচ্ছি, পিতৃতুল্য নাগরিক হিসেবে তাদের অনুরোধ জানাচ্ছি, যাতে তারা সহিংসতা বন্ধ করে এবং এই আন্দোলন প্রত্যাহার বা স্থগিত করে।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। পরদিন তো সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশ ছিল প্রায় অচল। এদিন মিরপুর ১০ চত্বরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। এবং দুপুর ২টার আগেই ছাত্র-জনতা মিরপুর ১০ এর আশেপাশের সব এলাকা তাদের দখলে নিয়ে নেয়। পুলিশ শুধু মিরপুর ২ এর থানার সামনে অবস্থান নিতো। আর ১১টার পরে পুলিশ-বিডিআর-আর্মি থাকতো। এদিকে ওইদিন তিনটার দিকে কাজীপাড়ায় হেলিক্যাপ্টার দিয়ে গুলী ছোঁড়া হয়। শেওড়াপাড়ায় হাসপাতালে নেওয়ার আগে এক শিক্ষার্থী শহীদ হলে সেই লাশ নিয়ে তারা মিরপুর ১০ দিকে রওনা হয়। উপর থেকে হামলা করে র্যাব আর নিচে হামলা করে পুলিশ। এদিন মিরপুর এলাকায় রাত ১০টার দিকে পুলিশ গলিতে গলিতে ঢুকে গুলী করা শুরু করে। এমন কি মানুষের বাসায় গিয়ে গুলী চালায়।
যাত্রাবাড়ী রাস্তায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছিল জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে। মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আওয়ামী লীগ গত বছরগুলোতে ব্যাপক নির্যাতন করে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা যাত্রবাড়িতে যে ভূমিকা রাখে তাও অবিস্মরণীয়। বাড্ডা, রামপুরা ও যাত্রাবাড়িতে যদি আন্দোলন কম হতো। হয়তো এই গণঅভ্যুত্থানের চিত্র ভিন্নভাবে হতো বলেও মনে করেন আন্দোলনের স্টেকহোল্ডাররা।
ছাত্র নেতারা মনে করতে থাকেন ১৭ জুলাইয়ের পর আন্দোলন যে মাত্রায় গিয়ে ঠেকে তা সরকার পতন ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। এসময় সরকারের শীর্ষ নেতা এবং মন্ত্রীরা বলা শুরু করেন, আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকেছে। হ্যাঁ, তৃতীয় পক্ষ না ঢুকলে তো সরকার পতন হতো না। আন্দোলনের একটি পক্ষও তো বলেছে আমরা কোটা সংস্কার চাই, সরকার পতন চাই না। যদি তৃতীয় পক্ষ প্রবেশ না করতো তবে এই আন্দোলন একটা পর্যায়ে গিয়ে স্তম্ভিত হয়ে যেত। প্রকৃত পক্ষে কারা সেই তৃতীয় পক্ষ তার দাবিদার অনেকজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এটাই সত্যি যে সেজন্য আন্দোলনে সমাপ্তিতে খুনি হাসিনার বিদায় হয়েছে। যদি তৃতীয় পক্ষ প্রবেশ না করতো হাসিনার পতন হতো না। ১৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের প্রথম ধাপ ২৮ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।