রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ৫ জুন শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এস বি পরিবহনের একটি বাস ফেরীতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়া বাসটি ঘটনার পরপরই উদ্ধার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বাসে থাকা চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে।
তবে বাসটি পল্টুনে ওঠার আগেই সব যাত্রী বাস থেকে নেমে যাওয়ায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য গত রমজানের ঈদের পরে ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় সৌহার্দ পরিবহনের একটি বাস ফেরীতে ওঠার সময় পল্টুন থেকে পড়ে নদীতে ডুবির ঘটনায় ২৬ জন মানুষের মৃত্যু হয়, এই ঘটনার ঠিক ৭২ দিনের মাথায় আবার এমন ঘটনা ঘটলো। বারবার এমন দূর্ঘটনা মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে।
ঘাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘এস বি পরিবহন’ এর একটি বাস সকাল সাড়ে ৯টা দিকে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ফেরিঘাটের পল্টুনে এসে পৌঁছায় এবং ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি হঠাৎ পল্টুন থেকে ছিটকে পদ্মা নদীতে পড়ে মুহূর্তেই তলিয়ে যায়।
এসময় বাসে ছিলেন চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার। বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ঘাট শ্রমিকরা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন।
বাসের চালক, হেল্পার ও সুপারভাইজার কে স্থানীয়দের সহায়তায় জীবিত উদ্ধার করে তাদেরকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস বি পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৭ নম্বর ঘাটের পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। সৌভাগ্যবশত পল্টুনে পৌঁছানোর আগেই বাসের সব যাত্রী নেমে গিয়েছিলেন। ফলে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস জানান, বাসটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সহায়তায় চালক ও তার সহকারীদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস, নৌ-পুলিশ এবং কোস্ট গার্ডের যৌথ দল নদীতে ডুবে যাওয়া বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা করেছে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি পানি থেকে তোলা হয়েছে। তবে পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।
পল্টুন থেকে বারবার এভাবে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক এমন দুর্ঘটনার জন্য ঘাটের পল্টুনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ফিটনেসবিহীন যান চলাচল এবং অনভিজ্ঞ চালককেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা।
ঘাট ব্যবহারকারী সাধারণ যাত্রীগণ ফেরিঘাটে যানবাহন এবং জীবনের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।