বিদ্যুৎশ্রমিক সমাবেশে অ্যাড. আতিকুর রহমান
সংগ্রাম ডেস্ক
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিক ময়দানে প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ও জুলাই সনদের চেতনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, বৈষম্য ও শ্রমিক হয়রানির সংস্কৃতি অব্যাহত থাকবে।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনির বিআরইএল মিলনায়তনে বিদ্যুৎ শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে শ্রমিক জনতার আত্মত্যাগকে স্মরণ, গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিসমূহ বাস্তবায়নের দাবিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি নং বি-১৫০৫) এর শ্রমিক সমাবেশে ইউনিয়নের সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লসকর মোঃ তসলিম, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি আব্দুস সালাম, ডিপিডিসি শ্রমিক কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আ. ন. ম. বজলুর রহমান, কেন্দ্রীয় ট্রেডইউনিয়ন সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু।
ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিদ্যুৎ উন্নয়নের সাবেক শ্রমিক নেতা মোজাম্মেল হক, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান এবং অনুষ্ঠানের শুরুতে মহাগ্রন্থ আল কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন শ্রমিক নেতা মাইন উদ্দিন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে একদলীয় ট্রেড ইউনিয়নকে প্রাধান্য দিয়ে ভিন্নমতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানি, বদলি ও দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের আচরণের অবসান হবে বলে প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে অনেক প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ধারা বহাল রয়েছে। কোথাও সংগঠন গড়ে তুললেই সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে শ্রমিক নেতাদের বদলি করা হচ্ছে, যা শ্রমিকদের সাংগঠনিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।
অ্যাড. আতিকুর রহমান বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানপ্রধান রাষ্ট্রের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক পক্ষের স্বার্থে কাজ করতে পারেন না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন জরুরি। অন্যায়ভাবে শ্রমিকদের বদলি বা সংগঠন দমনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে আদর্শভিত্তিক শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ না দেওয়ায় চাঁদাবাজি ও ব্যক্তিস্বার্থনির্ভর ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতির বিস্তার ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী একটি প্রতিষ্ঠানে পাঁচটি ট্রেড ইউনিয়নের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে তা আবার তিনটিতে সীমিত করা হয়েছে, যা নতুন সংগঠনের পথ সংকুচিত করেছে। একইভাবে চাকরি শেষ হওয়ার পর ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃত্বে থাকার সুযোগ সীমিত করার সুপারিশও পরিবর্তন করা হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে কোনো শ্রমিককে হয়রানি বা বদলি করা হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন নীরব থাকবে না। প্রয়োজন হলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে অন্যায়, দুর্নীতি, দলীয়করণ ও শ্রমিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিদ্যুৎ বোর্ড শ্রমিক-কর্মচারীদের উত্থাপিত দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকের স্বার্থ, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং একটি জবাবদিহিমূলক ট্রেড ইউনিয়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সব শ্রমিককে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।