জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী
সংগ্রাম ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষনা করেছেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হলরুমে তিনি এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। পরপর তিনটি নির্বাচনে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট ছাড়াই ক্ষমতায় থাকা সরকারের আমলে গুম, খুন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইতিহাসে একটি দুঃখজনক অধ্যায়।
এ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান আরো বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতার আন্দোলনে দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হন। এর মধ্যে দুইজন নারী শ্রমিকসহ ১৪৯ জন শ্রমিক শহীদ হয়েছেন এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন।
তিনি বলেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের সম্মান এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আগামী ৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদপতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি’ পালন করবে।
এ সময় কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক লসকর মো. তসলিম এর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কবির আহমদ, মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া, সহ-সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, আব্দুস সালাম, আখতারুজ্জামান, দপ্তর সম্পাদক নূরুল আমিন, সোহেল রানা ,জামিল মাহমুদ, হাফিজুর রহমান প্রমুখ।
কর্মসূচি সমূহ নি¤œরুপ
১. ৫ জুলাই থেকে ১৯ জুলাই-২০২৬ দেশব্যাপী নিন্মোক্ত কর্মসূচি পালন করা হবে:
ক. জুলাই শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়ার আয়োজন করা।
খ. শহীদ, আহত ও পুঙ্গুত্ববরণকারী শ্রমিক পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়।
গ. অসচ্ছল শ্রমিক পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ।
ঘ. সুবিধাবঞ্চিত শ্রমিকদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও রান্না করা খাবার বিতরণ।
ঙ. ব্লাড গ্রুপিং ও ¯সেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন।
চ. জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের অবদান শীর্ষক ডকুমেন্টারী প্রচার করা।
২. ২১ জুলাই থেকে ১ আগস্ট-২০২৬
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত গুম, খুন, অর্থপাচার, দুর্নীতি এবং জুলাই আন্দোলনে হত্যাকান্ডের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান শ্রমিকের অবদান শীর্ষক দেশব্যাপী পেশাভিত্তিক শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ক. ২০ জুলাই, রেল শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
খ. ২১ জুলাই, দোকান কর্মচারী ও হকার্স শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
গ. ২২ জুলাই, দর্জি ও পাটশিল্প শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ঘ. ২৩ জুলাই, নির্মাণ শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ঙ. ২৪ জুলাই, কৃষক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
চ. ২৫ জুলাই, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কর্মচারী শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ছ. ২৬ জুলাই, বাংলাদেশ টিএন্ডটি শ্রমিক কর্মচারী সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
জ. ২৭ জুলাই, নৌ-পরিবহন ও স্থলবন্দর শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ঝ. ২৮ জুলাই, সিএনজি চালিত অটোরিক্সা শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ঞ. ২৯ জুলাই, হোটেল ও ফার্নিচার শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ট. ৩০ জুলাই, রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ঠ. ৩১ জুলাই, পরিবহন শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
ড. ১ আগস্ট নারী শ্রমিক সমাবেশ ও আলোচনা সভা।
৩. ২ আগস্ট-২০২৬
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত সকল গুম, খুন, অর্থপাচার, দুর্নীতি এবং জুলাই আন্দোলনের গণহত্যাকারীদের বিচার তরান্নিত করার দাবীতে উপজেলা/থানা পর্যায়ে শ্রমিক সমাবেশ/আলোচনা সভা/মিছিল।
৪. ৩ আগস্ট-২০২৬
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত সকল গুম, খুন, অর্থপাচার, দুর্নীতি এবং জুলাই আন্দোলনের গণহত্যাকারীদের বিচার তরান্নিত করার দাবিতে সকল জেলায় শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিল।
৫. ৪ আগস্ট-২০২৬
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সংগঠিত সকল গুম, খুন, অর্থপাচার, দুর্নীতি এবং জুলাই আন্দোলনের গণহত্যাকারীদের বিচার তরান্নিত করার দাবিতে
ক. সকল মহানগরীতে শ্রমিক সমাবেশ ও মিছিল এবং
খ. ফেডারেশনের কেন্দ্রের উদ্যোগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা।
৬. ৫ আগস্ট-২০২৬ দেশব্যাপী গণমিছিলে অংশগ্রহণ।
চ-১২ (অ) ০২-০৭-২০২৬
‘জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের
পাপ’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় বুধবার ‘জামায়াতের তুরস্ক কানেকশন এবং একাত্তরের পাপ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
গতকাল বৃহস্পতিবার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে উপস্থাপিত অভিযোগ ও দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আমরা এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, “অ্যারোমেট সার্ভিস লিমিটেডের চেয়ারম্যান শাহরিয়ার নাসের জাহেদী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন- এমন দাবি সম্পূর্ণ অসত্য এবং এর পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।”
এডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, “তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (একে পার্টি) সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো গোপন সম্পর্ক নেই। তুরস্ক বাংলাদেশের একটি বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র এবং মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল, কূটনৈতিক প্রতিনিধি বা গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক ও প্রকাশ্য যোগাযোগ রাখা স্বাভাবিক বিষয়। এর বাইরে প্রতিবেদনে যে ধরনের সম্পর্কের অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”
তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে তুরস্কের সঙ্গে ব্যবসা করা বাংলাদেশিদের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী পরিচালিত মাদরাসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অর্থায়নের যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমন গুরুতর অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য, দলিল বা প্রমাণ প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি। অথচ বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে আইনানুগভাবে মানবকল্যাণমুলক ও ওয়েলফেয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির বেশির ভাগ সুবিধা নিচ্ছে জামায়াত।’ কিন্তু কীভাবে, কোন খাতে বা কী ধরনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে- সে বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণও উপস্থাপন করা হয়নি। এ ধরনের অসত্য, অনুমাননির্ভর ও প্রমাণবিহীন বক্তব্য দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং হলুদ সাংবাদিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
এডভোকেট জুবায়ের বলেন, সংবাদপত্রের দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করা। কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা মহলের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে সংবাদমাধ্যম ব্যবহৃত হওয়া গণমাধ্যমের নৈতিকতা ও পেশাগত মানদ-ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট পত্রিকাকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।