সংগ্রাম ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার মধ্যেই নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার পাকিস্তান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সি, এক্সে, আল জাজিরা, এপি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের ফোনালাপ হয়েছে। এ সময় তারা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনে পাকিস্তানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ফোনালাপে আরাঘচি শান্তি প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ইরানি নাবিক ও জেলেদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সহযোগিতার জন্য তিনি ইসলামাবাদকে ধন্যবাদ জানান।
ইরানে মার্কিন বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও রাডার সাইটে হামলার পর এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে এ হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, দেশটির দক্ষিণে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে তাদের নৌবাহিনী ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এ উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফার একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। গত ১৮ জুন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এরপর থেকে এটি কার্যকর রয়েছে। এই চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া এর অংশ হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে বর্তমানে ৬০ দিনের আলোচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চুক্তি
ওমান উপকূলে পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার পর গতকাল ইরানের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ইরানও আবার মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। এরমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য বিষয়ক সংস্থা ইউকেএমটিও অজ্ঞাত একটি বস্তু হরমুজে ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন হামলার বিষয়টি জানিয়েছেন। অজ্ঞাত বস্তুটি ট্যাংকারের কমান্ড সেন্টারের ওপর পড়েছে উল্লেখ করে ক্যাপ্টেন বলেছেন জাহাজটির সব ক্রু সুস্থ আছেন এবং হামলার জেরে পরিবেশগত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হামলার বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে ইউকেএমটিও।
বাহরাইনে ইরানের ড্রোন হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে বাহরাইন জানিয়েছে, সকালে ইরান তাদের ভূখ-ে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ ড্রোন সরাসরি আঘাত হেনেছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ড্রোন হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছে, শনিবার সকালের এ হামলা বাহরাইনে ভৌগোলিক অখ-তা এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। ইরান নতুন হামলায় বেশ কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে জানিয়েছে বাহরাইন। তবে এগুলো কোন জায়গায় টার্গেট করা হয়েছে সেটি স্পষ্ট করেনি দেশটি। বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে ইরানের ড্রোন হামলা সাধারণ নাগরিকের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলেছিল। এরসঙ্গে এ অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সেটিকেও হুমকিতে ফেলা হয়েছে।
চুক্তি নিয়ে আপত্তি থাকলে ফোন করুন
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে চলছে। তবে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে ইরানের কোনও আপত্তি থাকলে তারা ফোন করে জানাতে পারে। অন্যথায় সহিংসতার জবাব সহিংসতার মাধ্যমেই দেওয়া হবে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। ইরানের বিষয়ে একসময় মার্কিন হস্তক্ষেপের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সংঘাত বিষয়ক প্রধান ব্যক্তি জেডি ভ্যান্স বলেন, আমেরিকানরা যুদ্ধবিরতি চুক্তি যা সমঝোতা স্মারক হিসেবেও পরিচিত তা পুরোপুরি মেনে চলেছে। ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। আমরা সেটি সম্মান করেছি। এই সমঝোতা স্মারকটি যেভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে তা নিয়ে যদি তাদের কোনও দ্বিমত থাকে, তবে তারা ফোনে কথা বলতে পারে। কিন্তু সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।