জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শেষ করা হয়েছে। আগামী ৭ মে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার দিন ধার্য করা হয়েছে।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আদেশ দেন।

আদালতে এদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। আসামী পেেক্ষ শুনানি করেন আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। প্রসিকিউটর তামিম এ মামলায় আনা তিনটি অভিযোগ তুলে ধরেন। ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই কখন, কোথায় কী ঘটেছে; এসবের বর্ণনা দেন তিনি।

এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের ফোনালাপের প্রসঙ্গও উঠে আসে।

একই সঙ্গে অন্য আসামীদের উপস্থিতি ভিডিওতে উঠে এসেছে বলেও ট্রাইব্যুনালে জানান তামিম। প্রসিকিউশন এ মামলায় ২৮ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করে। গ্রেফতার ও পলাতক আসামীদের পক্ষে শুনানি করেন তাদের আইনজীবীরা। আসামীপক্ষ মামলা থেকে আসামীদের অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করে।

এ মামলার মোট আসামী ২৮ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

আসামীদের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখা সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহ-সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।

প্রসিকিউশনের সূত্র মতে, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নৃশংসতা চালায়। আসামীদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলী চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকতসহ ৯ জন শহীদ হন। আহত হন আরও অনেকে। যার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। এছাড়া ৫০ জন সাক্ষী রয়েছেন।

‘হেভিওয়েট’ মন্ত্রীদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে ফের সময় : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও তিন মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৬ জুলাই এ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি এ মামলার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেন। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ করতে আরও তিন মাস সময় চান।

তামিম বলেন, এ মামলায় মোট ৪৬ জন আসামী ছিলেন। এর মধ্যে ধাপে ধাপে অনেকের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে। কয়েকটির বিচারও চলছে। বাকি কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ প্রতিবেদনও আমরা দাখিল করতে পারবো।

শুনানি শেষে আগামী ২৬ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে এ মামলায় ৯ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাংগীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী।