দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন মারা গেছেন। এদিকে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা তাপপ্রবাহের পর গতকাল ঢাকাসহ রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগের কিছু স্থানে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সঙ্গে ছিল বজ্রপাত। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র বলছে, চলতি মাসের বাকি কয়েকটি দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তাতে চলমান তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে।

গাইবান্ধা বজ্রপাতে শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা গ্রামে তিনজন, ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি গ্রামে একজন ও সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের একজন রয়েছেন। মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)। এর মধ্যে দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে বজ্রপাতের ঘটনায় শামীম মিয়া নামের আরও একজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া একটি গরু মারা গেছে।

সুন্দরগঞ্জের ধোপাডাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান ম-ল স্থানীয় ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে জানান, এদিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি, কালবৈশাখী শুরু হয়। এ সময় ফুয়াদ চৌধুরী, রাফি চৌধুরী ও মিজান মিয়া বাড়ির পাশের রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ তাঁদের ওপর সরাসরি বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁরা প্রাণ হারান। একই সময়ে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়। আহত শামীমকে দ্রুত উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

অপর দিকে মানিক মিয়া দেলুয়াবাড়ি চরের নদীর ঘাট থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে গরুর খাবার খড় বাড়ি নেওয়ার পথে বজ্রপাতে মারাত্মক আহত হন। তাঁকে আত্মীয়স্বজনেরা চিকিৎসার জন্য সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফুলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান।

এদিকে সাঘাটায় মারা যাওয়া নম্বার আলীর পারিবারিক সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বৃষ্টির সময় বাড়ির পাশেই ছাগল দেখতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হন নম্বার আলী। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর অসুস্থ হন। পরে স্থানীয় মানুষেরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বোনারপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে দুইটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান। অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় বজ্রপাতের ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচ- শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আকাশে মেঘে দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ব্যক্তি ওই গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। এদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন আবদুল হামিদ। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব ম-লের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)। আর আহত ব্যক্তিরা হলেন মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (২৫), সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার নুর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৪) ও একই এলাকার মোহাম্মদ রুমান মিয়ার ছেলে মো. শাওন মিয়া (২৫) এবং সদর উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার সুমন মিয়ার মেয়ে সুখী (১৪)। আহত ব্যক্তিদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, রোববার বিকেলে হঠাৎ জামালপুরে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি এলাকায় বাড়ির ওঠানে থাকা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন মর্জিনা বেগম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। অপর দিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় ফসলের মাঠে কাজ করছিলেন হাসমত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এতে হাসমত আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. শাওন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসমত আলীর মৃত্যু হয়। জানা গেছে, বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একটি ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চারটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান মৃত্যু ও আহত ব্যক্তিদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা-বাগানের পাশে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে মো. মোস্তফাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারা যাওয়া সোহরাওয়ার্দী ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে। তিনি মাত্র আট দিন আগে বিয়ে করেছেন বলে জানা গেছে। হতাহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে ধামোর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম কুদ্দুস বলেন, সকালে সোনাপাতিলা এলাকায় শের আলী নামের এক চাষির চা-বাগান থেকে চা-পাতা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শ্রমিক। এ সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে চা-বাগানের পাশেই ঘটনাস্থলে সোহরাওয়ার্দী মারা যান। ঘটনার সময় তাঁর সামান্য দূরে থাকা অপর দুই শ্রমিক আহত হন। মারা যাওয়া শ্রমিক সোহরাওয়ার্দী আট দিন আগে বিয়ে করেছেন। আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

নাটোরের সিংড়ায় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক ধানকাটা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের ঠেংগা পাকুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। সম্রাট হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সম্রাটসহ কয়েকজন মিলে কেটে রাখা ধান গ্রামে আউয়ালে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঝড়–বৃষ্টি শুরু হলে সম্রাট ধানের বোঝা মাথা থেকে নামিয়ে পাশের এক ঘরে আশ্রয় নেয়। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হয়। পরে অন্য শ্রমিকেরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটে। মারা যাওয়া সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।

জানা যায়, রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশে মাঠে বেঁধে রাখা ছাগল আনতে যান কৃষক সুমন। মাঠে পৌঁছামাত্র বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়। গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিব হাসান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে ।

বৃষ্টি কমাল বৈশাখের তাপ

এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জনপদ বৈশাখের রোদে পুড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা নগরীতে দুই কোটির মতো মানুষ হাসফাস করছিল গরমের কারণে। সেই তাপ কমিয়ে রোববার সকাল থেকে একটু একটু করে জমাট হওয়া মেঘ বিকেলের দিকে অন্ধকার করে ফেলে চতুর্দিক। তারপর বিদ্যুতের চমক, মেঘের ভয়ানক গর্জন। আর তাপ কমানো বৃষ্টি।

বিকেল পাঁচটার দিকে এ আকাশ কালো হয়ে আসে। শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি আর বাতাস। কতক্ষণ চলে। এই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে অনেক মানুষকে রাস্তায় চলতে দেখা যায়। এই বৃষ্টি শীতল হয়ে আসে চারপাশের পরিবেশ।

আগের দিন শনিবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে উত্তরের জেলা রংপুরসহ আশপাশের কিছু এলাকায়। গতকাল সকালের দিকেই আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক ও আফরোজা সুলতানা বলছিলেন, রংপুরের এই মেঘ ধীরে ধীরে ময়মনসিংহ ও রাজশাহীর দিকে সরতে পারে। এর একটি অংশ রাজধানী বা এর আশপাশেও আসতে পারে। আবহাওয়া অফিস অবশ্য বলছে, আজ সোমবার বিকেলেও বৃষ্টি ঝরতে পারে এ নগরীতে। আসলে এ মাসের প্রায় পুরোটা সময়জুড়ে থেমে থেমে এভাবে বৃষ্টি হতে পারে। তাই দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের আশঙ্কা নেই।

ঢাবিতে বজ্রপাতে দুই শিক্ষার্থী আহত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলায় বজ্রপাতে দুই নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা হলেন সুফিয়া আক্তার (২২) ও ফারাহ আক্তার (২২)। দুজনই ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অচেতন অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।

তাদের হাসপাতালে আসা সহকর্মী আগলিনা জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে ঝড়-বৃষ্টির সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় অবস্থানকালে বজ্রপাতে দুইজন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নতুন ভবনে ভর্তি করা হয়। আহত দুজনই ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বজ্রপাতে আহত দুই শিক্ষার্থীকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন।