বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

নটর ডেম কলেজ বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি লাভ কার?

বিশেষ সংবাদদাতা : পৃথিবীতে ভালো কাজ করার প্রথম শর্তই হচ্ছে  স্বাধীনতা। পরাধীন দেশ জাতি অথবা প্রতিষ্ঠান ভালো কাজ করতে পারে না। এরকমই এক উদ্ভট পরিস্থিতির শিকার হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নটর ডেম কলেজ। বিশেষ গবর্নিং বডির সরকারি অনুমতি থাকায় নটর ডেম কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে নিজস্ব অর্থায়নে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করে ঐতিহ্য আর সুনামের শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে নটর ডেম কলেজের নিজস্ব ভর্তি পদ্ধতির বিরুদ্ধে শিক্ষাবোর্ড অনলাইনে ভর্তি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলো। কিন্তু ছাত্রদের অভিভাবক এডভোকেট কদম আলী মল্লিক শিক্ষা বোর্ডের অনলাইনে ভর্তি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট শুধুমাত্র নটর ডেম কলেজের জন্য অনলাইনে ভর্তি ব্যবস্থা ৬ মাসের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অসন্তুষ্ট হয়ে চেম্বার জজ আদালতে ৬ মাসের স্থগিতাদেশ স্থগিতের জন্য আপিল করেন। কিন্তু চেম্বার জজ শিক্ষা বোর্ডের আপিলের আবেদন নামঞ্জুর করে আগামী ৮ জুলাই ফুল বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে ন্যাপ, ভাসানী, জাতীয় জসীমউদ্দীন পরিষদসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন নটর ডেম কলেজকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ তুলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কলেজটির ধ্বংসের পেছনে প্রতিবেশী একটি দেশের দালালরা ইন্ধন যোগাচ্ছে। এসব ব্যাপারে আমরা কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে হাজির হই রিট আবেদনকারী এডভোকেট কদম আলী মল্লিকের নিকট। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্নোত্তর দিয়েছেন।

প্রশ্ন : আপনি স্বেচ্ছায় রিট করেছেন, নাকি কেউ আপনাকে প্রভাবিত করেছেন?

উত্তর : জ্বী না, কেউ আমাকে প্রভাবিত করেননি। আমি দেশের একজন নাগরিক-অভিভাবক হিসেবে জনস্বার্থে স্বেচ্ছায় এই রিট করেছি।

প্রশ্ন : কেন রিট করেছেন?

উত্তর : শিক্ষা বোর্ডের সার্কুলারে দেখলাম, কলেজে ভর্তির বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এতে ছাত্রদের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার খর্ব ও তথ্য অধিকার লঙ্ঘন করা হবে। তাই ছাত্রের অভিভাবক হিসেবে জনস্বার্থে এই রিট করেছি। বিষয়টি ভালো করে বুঝুন, জানুন, শিক্ষা বোর্ড তালিকা করে কলেজে পাঠাবে- সে অনুযায়ী ভর্তি করে নিতে হবে। কিন্তু কলেজকেও ছাত্রদের মার্কশীট দেয়া হবে না। কলেজ জানতেও পারবে না, কোন্ ছাত্রের রেজাল্ট কি? এরপরও শিক্ষা বোর্ডের তালিকা স্বচ্ছ মনে করা যায়?

প্রশ্ন : নটর ডেম কলেজ ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে বন্ধ হয়ে গেলে কারা লাভবান হবে?

উত্তর : শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলাবলি করছেন, নটর ডেম কলেজ বন্ধ হয়ে গেলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ভারত। কারণ, দেশে ভালো কলেজ না থাকায় সবাই তখন ভারতে পড়তে চলে যাবে। এতে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রশ্ন : তৎকালীন নটর ডেম কলেজের ভারতপন্থী শিক্ষকরা কলেজটি ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের লিপ্ত হয়, এ সম্পর্কে জানেন কি?

উত্তর : জেনেছি। শিক্ষক টেরেন্স পিনোরোকে সঙ্গে নিয়ে ক'জন হিন্দু শিক্ষক নটর ডেম কলেজের বিরুদ্ধে কয়েকটি মিথ্যা মামলা করেছিল। মামলাগুলো মোকাবিলা করতে গিয়ে অধ্যক্ষসহ কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনেক কাঠকয়লা পোড়াতে হয়েছে। তারা হয়রানি হতে হতে টিকে রয়েছে।

প্রশ্ন : ২০০৩ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয় নটর ডেম কলেজকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য অপচেষ্টা চালিয়েছিল, তা কি জানেন?

উত্তর : জানতে পেরেছি। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অপচেষ্টা সফল হয়নি এই জন্য যে, কলেজটি বাংলাদেশের উৎকৃষ্টমানের কলেজ। কলেজটির শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে সর্বস্তরে। এ কলেজের প্রাক্তন ছাত্রদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ক'জন হলেন- ড. কামাল হোসেন, ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ড. মঈন খান, ড. এম. জহির, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, হাসান মাহমুদ খন্দকার। তাই যোগ্য সন্তান গড়ার ক্ষেত্রে কলেজটির অবদান অনস্বীকার্য।

প্রশ্ন : ৮ জুলাই ফুল বেঞ্চে শুনানি হবে, ফলাফল কি আশা করছেন?

উত্তর : আমি নিজেও একজন আইনজীবী। ফলাফল আমার পক্ষে যাবে বলে আশা করছি। শিক্ষা বোর্ড হাইকোর্টের ৬ মাসের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজ আদালতে আপিল করে আবেদন জানায়, ৬ মাসের স্থগিতাদেশ স্থগিত করার জন্য। কিন্তু চেম্বার জজ আদালতের জনৈক বিচারপতি এটর্নী জেনারেলের উদ্দেশে বলতে থাকেন, আপনারা সব ধ্বংস করে ফেলেছেন। নটর ডেমকে ধ্বংস করবেন না। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তো আপনাদের কাছে হতে কোনো অনুদান বেতন-ভাতা নেয় না। তখন এটর্নী জেনারেল প্রশ্ন তোলেন, আর কোন কলেজ রিট করেনি নটর ডেম ছাড়া। মহামান্য বিচারপতি উত্তরে বলেন, অন্যান্য কলেজেরও রিট করা উচিত ছিলো। শেষে মহামান্য চেম্বার জজ আদালতে শিক্ষা বোর্ডের আপিলের আবেদন নামঞ্জুর করে আগামী ৮ জুলাই ফুল বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্দেশ দেন।

প্রশ্ন : সকল অভিভাবকদের প্রতি আপনার কোনো উপদেশ আছে কি?

উত্তর : অবশ্যই আছে। আমরা এই কলেজে সন্তান পড়াতে আগ্রহী। ভর্তি করে ধন্য হচ্ছি। সন্তানদের সুশিক্ষার সূতিকাগার নটর ডেম কলেজের ভালোমন্দ দেখভাল করার দায়িত্বও অভিভাবকদের। তাই নটর ডেম কলেজের শিক্ষার ঐতিহ্য রক্ষা করাও অভিভাবকদের পবিত্র দায়িত্ব। আমি মনে করছি, নটর ডেম কলেজের শিক্ষা ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ‘নটর ডেম শিক্ষা ঐতিহ্য রক্ষা কমিটি' করা বাঞ্ছনীয়। এই কাজটি গঠনের জন্য অভিভাবকদের উদ্যোগ নেয়া উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ