বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

চিরনিদ্রায় শায়িত হুমায়ুন ফরীদি

স্টাফ রিপোর্টার : অগণিত ভক্ত, সহকর্মী আর স্বজনদের অশ্রু ও ফুলেল ভালোবাসায় চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কিংবদন্তীর অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি। গতকাল মঙ্গলবার অপরাহ্নে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। ভাষা সৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের চরমপত্রের লেখক-উপস্থাপক এম আর আখতার মুকুলের কবরের উত্তর পাশে ফরীদিকে সমাহিত করা হয়।

সকাল ১০টায় তার লাশ বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তাকে সেখানে রাখা হয়। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে হাজারো জনতার ঢল নামে। সেখানে দেশের শিল্পী, অভিনেতা, সহকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষ তার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা-সম্মান আর ভালোবাসা জানান। এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শেষবারের মতো ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শহীদ মিনারে ফরীদির মুখ শেষবারের মতো দেখে অনেকেই অশ্রু ফেলেছেন। শহীদ মিনারে প্রথমে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এ সময় বিউগলে করুন সুর বাজানো হয়।

শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মঞ্চ, টিভি ও চলচিত্রের শক্তিমান- জনপ্রিয় অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদির জাতীয় পতাকায় মোড়ানো লাশ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে তার চতুর্থ জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। তার জানাযায় অংশ নেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, নাট্যব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, আজাদ আবুল কালাম, ক্রিকেটার জাভেদ ওমর বেলিম গোল্লা, কণ্ঠশিল্পী আগুন, অভিনেতা জিতু অহসান, ইরেশ জাকের, রওনফ হাসান প্রমুখ।

এরপর তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। সেখানে তাকে ‘চরমপত্র' খ্যাত এম আর আখতার মুকুলের পাশে সমাহিত করা হয়। হুমায়ুন ফরীদির কফিনের পাশে এদিন উপস্থিত ছিলেন চিত্র পরিচালক ও ফরীদির বন্ধু শহিদুল ইসলাম খোকন, অভিনেতা আফজাল শরীফ, ইত্যাদির উপস্থাপক- পরিচালক হানিফ সংকেত, অভিনেতা জাহিদ হাসান, তুষার প্রমুখ। ফরীদির আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে ছিলেন তার বড় ভাই সেলিম ফরীদি, মেয়ে দেবখানি, দুই বোন জলী ফরীদি ও টিনু ফরীদি প্রমুখ।

উল্লেখ্য, বহুমাত্রিক অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি গত সোমবার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির নতুন ৯/এ'র ৭২ নম্বর নিজের বাসায় ইন্তিকাল করেন। অভিনেত্রী সুবর্ণা মোস্তফার সাথে ২০০৮ সালে বিবাহ-বিচ্ছেদের পর ফরীদি ওই বাসায় একাই থাকতেন। তার জন্ম ১৯৫২ সালের ২৯ মে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা চৌধুরী বাড়িতে। ফরীদির মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ জাতীয় পর্যায়ের বিশিষ্ট জনেরা ও বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেন। মৃত্যুর দিন জোহরের পর ধানমন্ডি আবাহনী খেলার মাঠে তার প্রথম নামাযে জানাযা, পরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের সামনে দ্বিতীয় জানাযা এবং এফডিসিতে তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর রাতে তার লাশ বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ