বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শুধু মেঘ নয় প্রধানমন্ত্রীকে সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যাকান্ডের দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে

 স্টাফ রিপোর্টার : সরকার লোক দেখানোর জন্য পত্রিকায় ছাপাতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির সন্তান মেঘ-এর দায়িত্ব নিয়েছে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। আমরা সংশয় প্রকাশ করছি আসলে এই বিচার হবে কি না। অতীতে যদি এমন হত্যাকান্ডের বিচার হতো তাহলে সাগর-রুনির এই পরিণতির কথা ছিলো না। শুধু মেঘের দায়িত্ব নয়, প্রধানমন্ত্রীকে তাদের হত্যাকান্ডের দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাসাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত ‘‘সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি'র নৃশংস হত্যাকান্ড ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে জাসাস মহানগর দক্ষিণের সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক গাজী মাজহারুল আনোয়ার, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক কন্ঠশিল্পী মনির খান, জাসাসের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

ড. মোশাররফ আরও বলেন, সাংবাদিক দম্পতি খুনের মাধ্যমে সরকারের ব্যর্থতার নগ্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, সরকারের সব পর্যায়ে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির কারণ সাংবাদিকরা যখন তুলে ধরার চেষ্টা করছে, তখন সাংবাদিকরা সরকারের আক্রোশের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

সরকার নিজেদের ব্যর্থতার জন্য মিডিয়াকে দায়ী করছে অভিযোগ করে মোশাররফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দিচ্ছে। এ কারণে দুর্বৃত্ত ও অপরাধীরা তাদের ওপর হামলা ও হত্যা করতে সাহস পাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের নিম্ন থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত চরম দুর্নীতি করছে। এজন্য অর্থনীতি ধ্বংস হতে চলেছে। শেয়ারবাজার ধ্বংস হয়ে গেছে। দব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে জনজীবন আজ অতিষ্ঠ। অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটছে মানুষের। চরম হতাশা বিরাজ করছে সবার মধ্যে। এ কারণে দেশে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে।

মোশাররফ বলেন, ৭২/৭৫ সালেও দেশে একই অবস্থা বিরাজ করে। সাংবাদিকদের হত্যা নির্যাতন করেও শেষ রক্ষা না হওয়ায় তারা এক সময় সকল পত্রিকা বন্ধ করে দেয়।

তিনি বলেন, সরকার সারাজীবন ক্ষমতায় থাকতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করায় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। আগামী নিবার্চনও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে তাদের পায়ের তলায় আর মাটি নেই। এজন্য তারা পা পাড়া দিয়ে ঝগড়া করছে। আগামী ১২ মার্চের কর্মসূচিতে তারা বাধা দিতে চায়। এভাবে তারা ইচ্ছা করে দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে চায়।

ড. মোশাররফ বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির মুখে। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চলছে। ভাষার মাসে বিদেশী অপসংস্কৃতি আমদানি করা হচ্ছে। দেশকে অকার্যকর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র করতে ষড়যন্ত্র চলছে। তাবেদার রাষ্ট্র করার জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। কিন্তু দেশের মানুষ তা সফল হতে দেবে না। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের মাধ্যমে ব্যর্থ, অযোগ্য ও তাবেদার সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

সেলিমা রহমান বলেন, এই সরকারের সবাই মাদকাসক্ত। তারা যা ইচ্ছে তাই বলছে। দেশের এই পরিস্থিতিতে তারা দেশবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি বলেন, যারা লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করে তাদের কাছে ন্যায় বিচার আশা করা যায় না।

শওকত মাহমুদ বলেন, এই সরকারের আমলে সাংবাদিক নির্যাতনের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত তিন বছরে দেশে ১৪ জন হত্যা ও দু'হাজার সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা সাংবাদিকদের নির্যাতন করছে। কিন্তু এর একটিরও বিচার হয়নি। বরং সরকার নির্যাতনকারীদের পুরস্কৃত করছে। মন্ত্রী-এমপিরা বক্তব্য দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করতে সন্ত্রাসীদের উস্কে দিচ্ছে। এ কারণে সাংবাদিক সমাজ সবচেয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ