‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগ ১৭৩ দিন হরতাল করেছে’

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক কাঠামোকে হত্যা করেছে। অথচ এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আওয়ামী লীগই ১৭৩ দিন হরতাল করেছে। কিন্তু এখন তারা ক্ষমতায় গিয়ে সব উল্টে দিয়েছে। তবে আবারও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। অন্যথায় দেশে কোনো নির্বাচন হবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় দুঃস্বপ্ন দেখছে, এই বুঝি তাদের গদি গেল। যেটাকে আমরা বলি 'চোরের মন পুলিশ পুলিশ'। তারা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। আওয়ামী লীগ নেতারা এখন লুটেরা দলে পরিণত হয়েছে। বাংলার মানুষ কখনো অন্যায় সহ্য করেনি। এখনো করবে না।’
শনিবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে বিভাগীয় গণসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার নির্যাতনের মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে। তারা এর মাধ্যমেই আবারও অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসতে চায়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ওবায়দুল কাদের কথায় কথায় বলেন- সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কিন্তু কোন সংবিধান অনুযায়ী হবে? যেটা আপনারা রচনা করেছেন। তারা এখন এমন দাবিও করেন যে, গণতান্ত্রিক দেশে নাকি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের নিজেদের ওপর আস্থা নেই বলেই আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশকে ঘিরে ভয় পাচ্ছে। তারা বিএনপিকে আটকাতে তাই আবারও আগুন সন্ত্রাস আর জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করছে।
গণসমাবেশে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জীবন দিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক শামসুজ্জোহা। এই সরকার পাবনার ঈশ্বরদীতে ৯ জনকে ফাঁসি দিয়েছে, ২৫ যাবজ্জীবন ১৩ জন ১০ বছর। আওয়ামী লীগ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দল নেই, এটি এখন লুটেরার দলে পরিণত হয়েছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার এখন বলছে দেশে আবার নাকি জঙ্গি আসছে। কিন্তু দেখি যখন দেশের মানুষকে জেলে পুরতে হবে তখন জঙ্গি সৃষ্টি হয়। আর দেশের মধ্যে কিছু হলেই দুঃস্বপ্ন দেখে ‘বিএনপি আইলো’। অথচ আপনারা এমন দল করেন যে, ছাত্রলীগের ছেলেরা আপনাদের বক্তৃতাই দিতে দেয় না।
নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতি নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপির এই গণসমাবেশকে ঘিরে এই কয়দিন ধরে পুলিশ আপনাদের নির্যাতন করেছে কেন? তাদের উচিত ছিল সমাবেশে আসা মানুষদের সেবা করা। কারণ আপনারা প্রজাতন্ত্রের সেবক, আর আমরা মালিক। কিন্তু আপনারা চুলা বন্ধ করে দিয়েছেন, টয়লেট ভেঙে দিয়েছেন, তাঁবু পর্যন্ত খুলে ফেলেছেন। এভাবে আর কত?
কৃষকরা ধানের মূল্য পায় না দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজশাহী আমাদের আন্দোলনের পথিকৃৎ। ধানের শীষের মধ্যে রক্ত জমে উঠেছে। আমাদের এই আন্দোলন বিএনপির ক্ষমতার জন্য আন্দোলন না, এই আন্দোলন মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলন। এবার শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করতে হবে। কারণ আন্দোলনকারী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় সরকার গঠন করা হবে। আর জাতীয় সরকার দেশের নতুন কাঠামো তৈরি করবে।
এ সময় তিনি ঢাকায় আগামী ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশসহ আগামীতে সরকার পতনের সব আন্দোলন-সংগ্রামের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, জ্বালানি তেল, চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে দলীয় নেতাকর্মী হত্যা, হামলা এবং মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাজশাহীতে এই বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজন করে বিএনপি। এটি ঢাকার বাইরে বিএনপির সর্বশেষ বিভাগীয় গণসমাবেশ। এর আগে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির সর্বশেষ বিভাগীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. এরশাদ আলী ঈসা। পরিচালনা করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ। আরও বক্তব্য রাখেন- বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিনা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ স্থানীয় ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
এদিকে, গণসমাবেশকে ঘিরে আজ মিছিল ও স্লোগানে মুখর ছিল রাজশাহী। গণসমাবেশ ঘিরে সকাল থেকেই সভাস্থলে আসতে থাকেন আশপাশের জেলা-উপজেলা, থানা-ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। জেলা নেতাদের পাশাপাশি সভায় যোগ দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।