রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

শেখ কামাল ছিলেন নাট্যকার ও ক্রীড়া সংগঠক

স্টাফ রিপোর্টার: সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত শেখ কামাল: ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শেখ কামাল প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ছিলেন কিন্তু তিনি আদর্শবান মানুষ ছিলেন। তিনি ছাত্রলীগের সদস্য হয়েছেন, চাইলে সভাপতি হতে পারতেন কিন্তু তা হননি। শেখ কামাল ছিলেন নাট্যকার, একই সাথে ক্রীড়া সংগঠক। তিনি সত্তরের দশকে আবাহনী ক্রীড়াচক্র প্রতিষ্ঠা করে বিদেশী কোচ নিয়ে এসে ক্রীড়াঙ্গনে আলোড়ন তুলেছিলেন।

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত শেখ কামাল: ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ড. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সঞ্চালনায় আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক কামরুল হাসান খানসহ সংগঠনটির সদস্য এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেছেন, শেখ কামালের পদ-পদবি নিয়ে কোনো চিন্তা ছিল না। তিনি ছাত্রলীগের কেবল সদস্য ছিলেন, সে অবস্থাতেই তিনি উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিটি সময়েই মিছিল-মিটিংয়ে কর্মী থেকে সংগঠক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করে গিয়েছিলেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী শেখ কামালকে নিয়ে বিরোধীরা অপপ্রচার চালিয়েছে।

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, শেখ কামালের সাথে সেদিন যারা ছিলেন তারা কেন সেদিনের ঘটনা বলেন না। তারা আজও তো আওয়ামী লীগের সঙ্গে রয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক আজ। কঠিন সময় পার করেছে আওয়ামী লীগ। শেখ কামালকে নিয়ে কুৎসা রটিয়েছে স্বাধীনতা বিরোধীরা। শেখ কামালকে নিয়ে আমরা স্কুল পর্যায়ে কুইজ প্রতিযোগিতা করতে পারি। তাকে কেবল জন্মদিনে বা মৃত্যুদিনে কেন স্মরণ করতে হবে? তাকে সারাবছরই স্মরণ করতে পারি নানা আয়োজনের মাধ্যমে।

জন্মদিন পালিত  : বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে মাধ্যমে গতকাল শুক্রবার সারাদেশে শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে।

এ উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শেখ কামালের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে ওবায়দুল কাদের দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ কামালের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময়ে প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, আফজাল হোসেন ও মির্জা আজম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়াসহ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তারা ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন। এরপর মরহুমের রূহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। পরে নেতারা শেখ কামালের সমাধিতে ফুল ছিটিয়ে দেন।

এরপর একে-একে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগসহ অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো সকাল ৮টায় ধানমন্ডির আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।

শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল ১৯৪৯ সালের এই দিনে তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহাকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গীপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী শহীদ শেখ কামাল শাহীন স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে বি এ (অনার্স) পাস করেন। বাংলাদেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের শিক্ষার অন্যতম উৎসমুখ ‘ছায়ানট’-এর সেতার বাদন বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ