বুধবার ৩০ নবেম্বর ২০২২
Online Edition

নব্য ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একসঙ্গে যায় না - রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার: নব্য ফ্যাসিবাদী দল আওয়ামী লীগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একসঙ্গে যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সবতো আপনার নিয়ন্ত্রণে। আপনি কেন পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন ? আমাদের আশঙ্কা হয় আপনার লোকেরা অঘটন ঘটিয়ে আবার উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপায় কিনা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও শাহাদাত হোসেন বিপ্লবের পরিচালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির সহতথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, আনোয়ার প্রমুখ।

রিজভী বলেন, ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কালো আইন করেছে সরকার। এই আইনে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। আদতে গণমাধ্যমের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকেরা পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিএনপি হচ্ছে বাকস্বাধীনতার পক্ষে। বিএনপির শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকার মিডিয়াকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগ আর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একসঙ্গে যায় না। এখন অনেক গণমাধ্যম দেখা যায় ঠিকই, কিন্তু সরকার সেগুলোকে ভয়-ভীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে। যার উদাহরণ এখন পদ্মা সেতু নিয়ে সব গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত করা হচ্ছে। এটাই তো ফ্যাসিবাদ। কই খালেদা জিয়ার শাসনামলে তো অসংখ্য ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে, সেসময় তো এমন ঢাকঢোল পেটানো হয়নি?

তিনি বলেন, আপনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে পদ্মা সেতু থেকে টুস করে ফেলে দেবেন? নোবেল বিজয়ী ব্যক্তিকে চুবাবেন। এখন তো পদ্মা সেতুর নাম শুনলেই ভয় হয়। পদ্মা সেতুর শুরু থেকেই সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে। ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প এখন প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকায় ঠেকেছে। আর কতো হবে তা বলা যায় না। একটি শিশুও জন্মের পর থেকেই ঋণে জর্জরিত। আমরা ভয়ংকর একদলীয় শাসনের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত। রিজভী বলেন, যারা মানুষের স্বাধীনতা হরণ করতে গিয়ে নির্যাতন নিপীড়ন করেছে তারা তো ফ্যাসিস্ট। আজকে ফ্যাসিবাদ আবারো দেখছি। যেমনটি ছিল ১৯৭৫ সালে। তবে এখন কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ইতালিতে যে ফ্যাসিজম ও জার্মানির নাৎসীবাদের আরেক রূপ বাংলাদেশে আওয়ামী বাকশাল বা ফ্যাসিবাদ। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে বাকশাল করেছিল আওয়ামী লীগ। সেসময় চারটি বাদে অন্য সব গণমাধ্যম বন্ধ করা হয়েছিল। সেই আওয়ামী লীগ আবারো ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নামে কালো আইন করেছে। এই আইনে মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ