শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

রাজশাহীতে ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় উদাসীনতা আইসিবি’র

রাজশাহী অফিস: বিগত ১৬ বছরে ভোগান্তির শিকার ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-আইসিবি’র রাজশাহী শাখার বিনিয়োগকারীগণ। সেখানে উপেক্ষিত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। তাদের ন্যয়সঙ্গত স্বার্থ রক্ষায় একরকম উদাসীন রয়েছেন তারা। অভিযোগ রয়েছে, প্রাত্যহিক লেনদেনে তাদের কাছে প্রধান্য পান মুখচেনা এবং ব্যক্তি কমিশনে ব্যবসা করা বিনিয়োগকারীগণ। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার সরকারি পিএন গার্লস স্কুলের পাশে গাফ্ফার প্লাজায় আইসিবি ও তার সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান আইসিএমএল এবং আইএসটিসিএল শেয়ার ব্যবসার ব্রোকার হাউস হিসেবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। আর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান আইএসটিসিএল-এর পঞ্চম তলার অফিসে ২০০৫ সালে শেয়ার মার্কেটে অনলাইন ট্রেডিং চালু হয়। এখানে তিনটি প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২৫ হাজার বিনিয়োগকারী কেনাবেচা করেন। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে সূচকের ঊর্ধ্বগতিতে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতিতে সরগরম হয়ে উঠে আইএসটিসিএল-এর ব্রোকার হাউজ। প্রতিদিন আড়াই থেকে ৩’শ বিনিয়োগকারী উপস্থিত হয়ে লেনদেন করে থাকেন। গত কয়েক মাসের ব্যবধানে বিশেষ করে অইিসিবি রাজশাহীর সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান আইএসটিএল এর বিনিয়োগকারীদের উপস্থতি কয়েকগুণ বেড়েছে। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন গড়ে ২০ কোটি টাকারও বেশি লেনদেন হচ্ছে বলে সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে। বিনিয়োগকারীরা জানান, দীর্ঘ ১১ বছর থেকে কর্তৃপক্ষকে বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠানটি অন্যত্র স্থানান্তর অথবা লিফট সংযোজনের অনুরোধ করেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ লিফ্ট সংযোজন বা স্থানান্তরের বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ,  সিঁড়ি বেয়ে ৫ তলায় উঠে ট্রেড করতে হাঁপিয়ে পড়েন অনেক বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ ও নারী বিনিয়োগকারীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সিঁড়ি বেয়ে ৫তলায় উঠতে বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ  ও নারী প্রচণ্ড কষ্টবোধ করেন। সিঁড়ির মাঝ পথে তাদের কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিতে হয়। গত ২০১০ সালে পত্রিকায় লেখালিখির পর কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। কিন্তু এরপর রহস্যজনক কারণে আর এখানে লিফ্ট সংযোজন বা স্থানান্তর আলোর মুখ দেখেনি। এ ব্যাপারে আইএসটিসিএল-এর শাখা ব্যবস্থাপক  মো. আহসান উল্লাহ এই প্রতিবেদককে জানান, এই ভবন থেকে অন্যত্র স্থানান্তরের  প্রস্তাবনা ঢাকায় প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু করোনাকালীন সময়ে এধরনের সকল কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এবিষয়ে আইসিবির শাখা ব্যবস্থাপক ডিজিএম মোতালেব হোসেন জানান, অন্যত্র লিফ্ট সম্বলিত ভবনে যাবার প্রস্তাবনা গত বছরের করোনার আগেই ঢাকা হেড অফিসে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রনালয়ে করোনাকালীন সময়ের জন্য এধরনের সকল কার্যক্রমের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। সেটি এখনো  প্রত্যাহার করেনি মন্ত্রণালয়। এ কারণে স্থানান্তরের কাজটি ঝুলে আছে। বিনিয়োগকারীদের আরো অভিযোগ, আইসিএমএল এবং আইসিবিতে লেনদেন করতে গিয়ে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্বিতীয় তলা থেকে বাই-সেল অর্ডার অনুমোদন করিয়ে পঞ্চম তলায় উঠে কেনাবেচা করতে হয়। এছাড়া দ্বিতীয় তলায় সংশ্লিষ্ট অফিসের লোকজনের অসহযোগিতা এবং বিরূপ আচারণ যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাই-সেল অর্ডার অনুমোদন করিয়ে পঞ্চম তলায় উঠতে উঠতে শেয়ার দাম প্রায়শ অনেক বেড়ে বা কমে যায়। যার কারণে অর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন বিনিয়োগকারীরা। প্রতিষ্ঠানগুলোর অসহযোগিতা এবং বিরূপ আচরণের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী এখানকার হিসাব বন্ধ করে অন্য প্রাইভেট বোকার হাউজে লেনদেন করছেন।

আপ্যায়নে দ্বৈত নীতি

বিনিয়োগকারীরা জানান, রাজশাহীর শেয়ার মার্কেটে কর্মকর্তাদের জন্য উচ্চ ও গ্রাহকদের জন্য নি¤œমানের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এটি অনেক অভিজাত গ্রাহকের কাছে অপমানজনক মনে হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বয়োবৃদ্ধ বিনিয়োগকারীর অভিযোগ করেন, নগরীর অন্যান্য ব্রোকার হাউজ-এ নানা উপকরণ দিয়ে প্রতিদিন বিনিয়োগকারীদের মর্যাদার সাথে আপ্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে সালতা সিকিউরিটিজ ব্রোকারেজ হাউজে কোন বিনিয়োগকারী প্রবেশের সাথে সাথে তাঁর সম্মানে চা পরিবেশন করা হয়। ঘন্টাখানের মধ্যে আবারো চা-বিস্কুট পরিবেশন করা হয়।  কোন কোন দিন সিঙ্গাড়া, সামুচা, সাথে চা দেয়া হয় যা কমপক্ষে একজন বিনিয়োগকারীর জন্য ৩০ থেকে ৪০ টাকা খরচ করা হয়। বিনিয়োগকারীদের সাথে সংযত আচারণ এবং তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আইসিবিসহ আইসিএমএল এবং আইএসটিসিএল এর উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ