শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু

শাকিব  হুসাইন 

 ছোট্ট মেয়ে সুমাইয়া। খুব মিষ্টি একটা মেয়ে। পড়াশোনায় সে সবার আগে। কিন্তু তার একটা নেশা আছে। রোজ দাদুর কাছে গল্প শোনা। আজও সে দাদুর কাছে গল্প শুনতে গেল। সুমাইয়া বলল, দাদু আজকে একটা মজার গল্প বলবে। দাদু বলল, ঠিক আছে দাদুভাই । দাদু গল্প বলা শুরু করল, সে অনেক দিন আগের কথা। উল্লুকপুর জঙ্গলের প্রাণীদের কথা। তাদের দলের প্রধান ছিলেন সিংহ। আরো অনেক পশুপাখি সেখানে  থাকতো। বানর, হরিণ, খরগোশ, হাতি, ভাল্লুক, শেয়াল আরও অনেকে। তারা সবাই সবার অনেক ভালো বন্ধু। একজনের বিপদ হলে অন্যজন ছুটে যায়। সুখ-শান্তিতেই কাটছিলো তাদের জীবন। হঠাৎ একদিন হাতি তার খাবার আনার জন্য খরগোশকে বলল। নিরীহ প্রাণী খরগোশ। যে যাই বলে সে তাই করে। হাতির কথা মতো তার জন্য খাবার আনতে গেল। পথে যেতে বানরের সাথে দেখা । বানর বলল, কী খরগোশ ভাই কোথায় যাও ?  খরগোশ বলল, ভাই হাতির জন্য খাবার আনতে। তাকে খাবার এনে দিতে হবে। বানর বলল, তুমি কেন খাবার আনতে যাবে?  খরগোশ  বলল, ভাই হাতির খাবার না আনলে হাতি আমার ঘর ভেঙে দেবে। তা ভাই আমি চলি। বানর খরগোশকে পিছন থেকে ডাকলো কিংবা খরগোশ সাড়া দিলো না। বানর সঙ্গে সঙ্গে চলল সিংহের কাছে। 

দাদু একটু থেমে গেল। তারপর কী হলো দাদু?  সুমাইয়া বলল। দাদু বলল, তারপর বানর সিংহকে সব খুলে বলল। সব শুনে সিংহ রেগে গেল হাতির উপর। সন্ধ্যায় সবাইকে ডাকলো তার সভায় । সবাই  এলো। সিংহ বলল, হাতি তুমি  নাকি খরগোশকে ভয় দেখিয়ে  তাকে খাবার আনতে বাধ্য করেছো। হাতি আকুপাকু করে বলতে লাগলো,মানে! আমি তাকে দিয়ে তো শুধু আমার একি নেরই খাবার আনিয়েছি। সিংহ বলল, শোন হাতি কাউকে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে কিছু নেওয়া অপরাধ। আর তোমার নিজের খাবার তোমাকেই যোগাড় করতে হবে নইলে তুমি অলস হয়ে যাবে। হাতি সিংহের কথায় রাগ করে বন ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে গেল । পথে যেতে যেতে দুষ্ট শেয়ালের সাথে দেখা। শেয়াল বলল, তোমাকে বন থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে বুঝি। তুমি কোন চিন্তা করো না। আমি তোমার সাথে আছি। তোমার প্রতিদিনের খাবার আমি এনে দেবো। হাতি তো খুব খুশি। শেয়ালের সাথে চলে গেল হাতি। বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর শেয়াল হাতির খাবার আনতে বিরক্ত হয়ে গেল। সাথে সাথে একটু বুদ্ধি বের করল। কীভাবে হাতিকে তাড়ানো যায়। শেয়াল এসে হাতিকে বলল, হাতি ভাই আমার মনে হয় তুমি দিনদিন মোটা হয়ে যাচ্ছো। আর এরকমভাবে মোটা হতে থাকলে একদিন তুমি মাটির নিচে তলিয়ে যাবে। তাই তোমাকে ব্যায়াম করা জরুরি । হাতি বলল, ঠিক বলেছো। তাহলে চল আমার সাথে খাবার আনতে এতে তোমার ব্যায়ামও হয়ে যাবে, শেয়াল বলল। দু’জনে বনের মাঝ দিয়ে হাঁটতে লাগলো। হঠাৎ করে হাতি একটা গর্তে তলিয়ে গেল। হাতি চিৎকার করে শেয়ালকে ডাকলো কিন্তু কোন সাড়া শব্দ পেল না। গাছের আড়াল থেকে টুনটুনি পাখি সব দেখে ছুটে চলে গেল সিংহের কাছে। সিংহকে সব খুলে বলল। সাথে সাথে সিংহসহ সবাই ছুটে গেল হাতির কাছে। সবাই মিলে হাতিকে গর্ত থেকে বের করে আনলো। হাতি তার ভুল বুঝতে পারলো। সবাই  উল্লুকপুর বনে চলে গেল। তাহলে দাদুভাই এই গল্প থেকে তুমি কী শিক্ষা পেলে?  সুমাইয়া বলল, দাদু আমাদের সবার উচিত নিজের খাবার নিজেকেই যোগাড় করা।  এতে আমাদের শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকবে। আর বিপদের সময় যে বন্ধু কাছে থাকে না সে তো সত্যিকারের বন্ধু নয়। সত্যিকারের বন্ধু সেই যে বিপদের সময়ও বন্ধুর পাশে থাকে । তুমি ঠিক বলেছো দাদুভাই, 

দাদু বলল। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ