রবিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২২
Online Edition

বিএনপির পরিকল্পিত লকডাউনটা কি জানতে চান তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির পরিকল্পিত লকডাউনটা কি? সেটা ২০১৩-১৪-১৫ সালে ১৫৮ দিন মানুষকে বন্দি করে রাখার মতো কিনা- লকডাউন নিয়ে বিএনপির লাগাতার সমালোচনার জবাবে এ প্রশ্ন রেখেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকরা লকডাউন নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনার জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুলকে তথ্যমন্ত্রী ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, লকডাউন নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে একেক সময় একেক ধরনের কথা বলা হচ্ছে। লকডাউন দেওয়ার আগে তারা বলেছিল দেশে কঠোর লকডাউন দেওয়া দরকার। আবার লকডাউন দেওয়ার পর বলছে এই লকডাউন অপরিকল্পিত। তাহলে তাদের পরিকল্পিত লকডাউনটা কি, সেই প্রেসক্রিপসনটা তারা দিক।
বিএনপি যে ২০১৩-১৪-১৫ সালে দিনের পর দিন হরতাল অবরোধ ডেকে ১৫৮ দিন মানুষকে বন্দি করে রেখেছিল, জনগণের যে অসুবিধা হয়েছে, সেটা কি তাদের মাথায় ছিল না প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, আজকে তো মানুষের জীবনরক্ষার জন্য লকডাউন দিতে হচ্ছে এবং শুধু বাংলাদেশে নয়, পাশ্ববর্তী দেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী এ সময় বলেন, বাংলাদেশে আজকে প্রায় দেড় বছর ধরে করোনাকাল কাটছে। কিন্তু খেটে খাওয়া মানুষের দেশে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যায়নি। সরকার ও আমাদের দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতার কারণে মানুষের মধ্যে কোনো হাহাকার নেই। সাময়িক অসুবিধা যে হচ্ছে না, তা নয়। অবশ্যই অনেকের সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। তবে এ অসুবিধা সাময়িক। সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে তাহলে লকডাউন বিলম্বিত করতে হবে না।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির তৈরি হিংস্রতার রাজনীতি বিশেষ করে ২০১৩-১৪-১৫ সালে যেভাবে মানুষকে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করা, বহু মানুষকে ঝলসে দেওয়া, বহু মানুষকে জীবনের তরে পঙ্গু করে দেওয়া, এটি বাংলাদেশে আগে কেউ কখনো দেখেনি। পৃথিবীতেও সমসাময়িককালে রাজনীতির জন্য এভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করাও কেউ দেখেনি।
এখন এই লকডাউনের মধ্যে যদি কেউ ফৌজদারি মামলার আসামি হন, তিনি যদি কোনো দল করেন তাহলে তাকে কি গ্রেপ্তার করা যাবে না? প্রশ্ন রেখে ড. হাছান বলেন, মির্জা ফখরুল সাহেবরা ফৌজদারী অপরাধের আসামির পক্ষ কেন নেন। কোনো রাজনীতিবিদও যদি ফৌজদারি মামলার আসামি হন, আইন এবং আদালত তো তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবেন।
এখন গ্রামাঞ্চলেও করোনা ছড়িয়েছে এ পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি মানুষের মধ্যে করোনার শুরুতে যে ধরনের ভীতি ছিল, সেই ভীতিটা নেই। দীর্ঘ একবছর গ্রামে করোনা না ছড়ানোর প্রেক্ষিতে গ্রামের মানুষের মধ্যে একটি ধারণা জন্মেছিল গ্রামে কখনো করোনা আসবে না। কিন্তু আজকে আমরা দেখতে পাচ্ছি, শহরের হাসপাতালগুলোতে যে রোগীরা ভর্তি হচ্ছে তার ৭০ ভাগ গ্রাম থেকে আসছে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আবারও অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান বলেন, নিজের সুরক্ষার জন্যই লকডাউন এবং স্বাস্থ্যবিধি মানা প্রয়োজন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ