শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

যেখানে কাগজের টাকা ওড়ে তুলার মতো

 এম এ কবীর:

নব্বই দশকে সেলিম চৌধুরীর গাওয়া একটি জনপ্রিয় গান, ‘আজ পাশা খেলেবো রে শ্যাম’। পাশাকে নিছক খেলাই মনে হতো অনেকের কাছে। তবে পাশা আর জুয়ার তফাৎ সামান্যই । সম্প্রতি দেশের  কয়েকটি ক্লাবে অভিযান চালানোর পর বেরিয়ে আসে ভয়াবহ চিত্র। ঢাকাতেই পাওয়া যায় ৬০টির অধিক জুয়ার আসর ক্যাসিনো।

ক্লাব বা সংঘ মানেই হলো একই লক্ষ্যে ও উদ্দেশ্যে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর মিলনায়তন। সেবামূলক সংগঠন, যেটা সাধারণত স্বেচ্ছাসেবা অথবা দাতব্য কর্মকা- সঞ্চালন ও পরিচালনা করে। শখ ও খেলাধুলা, সামাজিক কর্মকা-ের ভিত্তিতে নানাধরনের ক্লাব বা সংগঠন থাকতে পারে। তবে কোন সংগঠনই জুয়া, মাদক বা অপরাধ কর্মকা-ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

সমাজে নানা ধরনের ক্লাব যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এসব ক্লাবের সুনির্দিষ্ট নিয়ম, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকে। খেলাধুলার ক্লাব, বিতর্কের ক্লাব, চলচ্চিত্র ক্লাব, সাংস্কৃতিক ক্লাব, সরকারি কর্মকর্তা কল্যাণ ক্লাব, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ক্লাব, ছাত্র কল্যাণ ক্লাব ,বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক ক্লাব, পাঠাগার ক্লাব, ওমেন ক্লাব ইত্যাদি। এসব ক্লাবের কর্তৃপক্ষীয় অনুমোদন রয়েছে। সাধারণত ক্লাবের সদস্যরা নির্ধারিত সময়ে ক্লাবে আসেন এবং ক্লাবঘরেই তাদের কর্মসূচি, অনুষ্ঠান পালন, পত্রপত্রিকা পাঠ, ইনডোর খেলাধুলা, বিনোদন করে থাকেন। এগুলোতে শহরের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী সাহিত্যিক অনেকেই অবসর সময়ে যাওয়া-আসা করেন। নানা ধরনের অনুষ্ঠান এই ক্লাবগুলোতে সচরাচর হতে দেখা যায়। ক্লাবে চাঁদার বিনিময়ে নিয়মিত সদস্য হওয়ার একটি নিয়ম রয়েছে। সেখানে বেশকিছু বিধিবিধানও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা না হলে আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে পারে। ক্লাবের নানা ধরন যেমন রয়েছে তেমন আকার, আয়তন ও পরিসরও রয়েছে। অর্থবিত্ত এবং ধনীদের ক্লাবের নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা থাকায় এগুলোর পরিসর এবং চাকচিক্য অনেকটাই ভিন্ন মর্যাদা নিয়ে অবস্থান করে।

এক সময় দেশে ফুটবল লিগের দাপুটে দল ছিলো ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। স্বাধীনতার পর আবাহনী-মোহামেডানের দ্বৈরথের মধ্যেও বহুদিন ধরে উজ্জ্বল ছিলো আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, ফকিরাপুল ইয়াংমেন্স, এবং ব্রাদার্স ইউনিয়নের মতো দলগুলো। ফুটবলের পাশাপাশি অনেকগুলো দলেরই ক্রিকেট ও হকি দলও ছিলো যেখানে বিশে^র নামি দামি অনেক খেলোয়াড়ও খেলেছেন। তখন ক্লাবের সংগঠকরা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। ক্লাবগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা ছিলো।

ক্রমবর্ধমান সামাজিক অস্থিরতা, সন্ত্রাস, সম্পদের অসমবণ্টন, বিকাশমান বেকারত্ব মানুষের মননে ও জীবনে বাড়িয়ে দিয়েছে ঘাতক হতাশা ও বিষন্নতা। এ কারণে অনেকে সময় কাটাচ্ছেন পাঁচতারকা হোটেলের জলসায়, বিভিন্ন বার বা নতুন মোড়কের ক্লাবে যেটা প্রধানত মাদকের আসর।

আধুনিকতা আর তথ্যপ্রযুক্তির আগ্রাসনে যুব সমাজ আজ টেলিভিশনের বোকা বাকসো আর মুঠোফোনের অন্তর্জালে আটকা। এরা মানবতার কথা বলে না,দেশপ্রেমের কথা বলে না, বলে না মূল্যবোধের কথা, করে না কোন সাহিত্যালোচনা। এরা কোন সামাজিক বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততার কথা ভাবে না, বলেনা এবং সম্পৃক্তও নয়। পারস্পরিক পারিবারিক সম্পর্কও কেমন যেন দায়িত্বজ্ঞানহীন, ছাড়াছাড়া। এরা সবাই আত্মকেন্দ্রিক, সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় পরগাছা।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে দেখা গেছে স্পোর্টস বাদ দিয়ে ক্লাবগুলো মজে আছে জুয়ার এমন আয়োজনে যার আধুনিক নাম ক্যাসিনো। ক্লাবগুলোর নিয়ন্ত্রণের ভূমিকাতেও আর খেলোয়াড় কিংবা সংগঠকরা নেই। তারা মদ, অবৈধ অর্থ উপার্জন ইত্যাদি অপকর্মে জড়িয়ে আছে। ফলে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোর দরজা পুরনো সদস্যদের জন্য বন্ধ। সেখানে ক্রীড়ার উন্নয়ন ঘটানোর মতো পরিবেশ থাকেনি। ক্রীড়া জগতের ওপর যে ইতিবাচক ভূমিকা একসময় ক্লাবগুলো রাখত সেটি হারিয়ে যায়, ছিনিয়ে নেয় ক্যাসিনো স¤্রাটরা। ফলে শুধু ক্রীড়া জগতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি, দেশে ক্লাব সংস্কৃতি স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন এবং উচ্চবিত্তের অভিজাত সংস্কৃতির মধ্যেও ভয়াবহ অপরাধ প্রবণতার বিস্তার ঘটিয়েছে। দেশে গড়ে উঠেছে অবৈধ উপায়ে বিত্ত অর্জনকারী একটি দুর্বৃত্ত শ্রেণিÑ যারা রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ, রাজনীতি, প্রশাসনসহ সব কিছুর জন্য বড় ধরনের সঙ্কট তৈরির ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে। এরা প্রভূত অর্থবিত্তের মালিক হয়ে শহরের অভিজাত অঞ্চলে নানা ধরনের অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য, ভূমিদস্যুতা, বিভিন্ন অপরাধজগত সৃষ্টিতে নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছে। ঐতিহ্যবাহী অনেক প্রতিষ্ঠানে এরা ছদ্মাবরণে ঢুকে পড়েছে।

রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে রাতের আঁধারে মাদক আর নারী নিয়ে মনোরঞ্জনের জন্য গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লাব, সিসা বার ও ডিজে পার্টি। যেখানে থাকে গানের তালে তালে অশ্লীল নৃত্য ও মাদক-ইয়াবার নীল নেশার আনন্দ বাজার। রূপের হাটে রঙের দোকানের ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিনোদনের জন্য যেখানে কাগজের টাকা ওড়ে তুলার মতো।

পাপিয়ার কথা মনে আছে সবার? অভিজাত রেস্টুরেন্ট, বার, ক্লাবে এক শ্রেণির বিকৃত মনের মানুষের খোরাক মেটাতে উঠতি বয়সী তরুণীদের পাঠাতো। প্রতি রাতে বিভিন্ন বারে লাখ লাখ টাকা বিল দিতো। মুনিয়া, পাপিয়া, পরীমনি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

বাস্তব কাহিনী ঘিরেই সিনেমা তৈরি হয়ে থাকে। যাতে থাকে দর্শকদের জন্য শিক্ষণীয়। পরীমনির মতো টপস্টার সেলিব্রিটিরা যখন সিনেমার কাহিনীতে অপহৃত হয়ে যায়, তখন ‘নায়ক’ এসে তাদের সন্ত্রাসী, গুন্ডার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে বোটক্লাবে গভীর রাতে তার সাথে যথোপযুক্ত নায়ককে কেউ দেখেনি।

‘৭০ থেকে ‘৯০ দশকের নায়িকারা যতোটা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, আজকের পরীমনিরা তার ধারে কাছেও আসতে পারবে কী? বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক সময় শাবানা, ববিতা, কবরী, রোজিনা, চম্পা, মৌসুমির মতো কালজয়ী অভিনেত্রীরা অনেক দাপটের সাথে অভিনয় করেছেন। এসব অভিনেত্রীদের কোনো বার বা নাইটক্লাবে গিয়ে আনন্দ ফূর্তি করার খবর কেউ পায়নি।

কী অর্জন করবে বোট ক্লাবের মতো জায়গা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম? বিনয় ভাব মানে দুর্বলতা, শিক্ষিত হওয়া এখন আর গৌরব নয়, অহঙ্কার আর টাকা উপার্জন, নারী মানে যৌনতা এসব সাধারণ জ্ঞান নিয়ে আমাদের সন্তানেরা বড় হয়ে উঠছে।

১৭ জুন জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘ আমাদের ঢাকা শহরে বিভিন্ন ক্লাব আছে, সেসব ক্লাবে আসলে কি হয়- আমরা জানি না। আমরা প্রায়ই দেখি  এখানে ক্লাবে জুয়া খেলা হয়, মদ খাওয়া হয়। আমরা শুনি, বিভিন্ন ক্লাবে মেম্বার হতে নাকি ১৫,৩০ বা ৫০ লাখ টাকা লাগে। এই ৫০ লাখ বা ১ কোটি টাকা দিয়ে কারা মেম্বার হয়? এ সমস্ত লোকের আয়ের উৎস কী? বিশেষ করে অনেক সরকারি কর্মকর্তাও নাকি এসব ক্লাবে মেম্বার হয়, তারা টাকা কই পায়, এসব কীভাবে হচ্ছে?’

উত্তরার বোট ক্লাবে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনায় পরীমনিকেই দোষারোপ করছেন খোদ নারী উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, জয়যাত্রা টেলিভিশনের চেয়ারম্যান এবং বোটক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হেলেনা জাহাঙ্গীর।

দুর্নীতি করে হাতে গোনা কিছু মানুষ আঙ্গুল ফুলে বটগাছ বনে যাবার ফলে ঢাকা এখন মাদক কারবারি, বেহায়া ও বেলেল্লাপনাসহ নরকের নগরীতে পরিণত হয়েছে। দেশের প্রত্যেক মানুষ মাথাপিছু প্রায় ১ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত। এহেন পরিস্থিতিতে ৫০ লাখের অধিক টাকা দিয়ে যারা ক্লাবের সদস্য হয়ে প্রতিদিন গ্যালনের পর গ্যালন মদ পান করে, বেহায়া-বেলেল্লাপনা করে সমাজ, রাষ্ট্রে বিষবাষ্প ছড়ায় তাদের অতীত ও বর্তমান অর্থের উৎস খুঁজে বের করা সময়ের দাবি।

মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা দেয়া কালজয়ী নজরুলগীতি, ‘দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। এ তুফান ভারি, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার ’।

রবীন্দ্রনাথের নৌকাকেন্দ্রিক রচিত পুস্তকসম্ভারে রয়েছে ঘাটের কথা, সোনারতরী, নদী, খেয়া ও নৌকাডুবি। নজরুল, মধুসূদন, শরৎচন্দ্র, শহীদুল্লা কায়সার, জহির রায়হান, রাবেয়া খাতুন, সেলিনা হোসেন নানাভাবে নৌকাকে প্রতিপাদ্য করেছেন তাদের সাহিত্যকর্মে। পল্লীকবি জসীমউদ্দীন রচিত নক্সী-কাঁথার মাঠ, বালুচর, সোজন বাদিয়ার ঘাট, পদ্মা নদীর দেশে, বেদের মেয়ে, পদ্মাপার, মধুমালা, পল্লী বধূ, রঙিলা নায়ের মাঝি, গাঙ্গের পাড় প্রভৃতি গ্রন্থের পরতে পরতে রয়েছে নৌকার কথা। নৌকা নিয়ে রচিত গানের সংখ্যা নিয়ে গবেষণা হয়েছে কি না জানি না। তবে এ সংখ্যা হাজার ছাড়াবে বলে ধারণা করা যায়। নৌকা ভ্রমণ নিয়ে বাংলা ও ইংরেজিতে রচনা শেখেনি বা লেখেনি কিংবা নৌকার ছবি আঁকেনি এমন শিক্ষার্থী অন্তত বাংলাদেশে নেই। বর্ষায় পানিতে কাগজের আর কাদা দিয়ে নৌকা বানানোর স্মৃতি অমলিন থাকে বহুদিন। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি, অদ্বৈত মল্লবর্মণের তিতাস একটি নদীর নাম, শহীদুল্লা কায়সারের সারেং বউ, হুমায়ূন আহমেদের শ্রাবণ মেঘের দিন ও শ্যামল ছায়া প্রভৃতি উপন্যাসে নৌকা জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। চলচ্চিত্রের পর্দায় ছোটগল্প, কবিতা, ছড়া, কারুশিল্প কোথায় নেই নৌকা। বাউল ও আধ্যাত্মিক জগতের মানুষের কাছে জীবনটাই তো একটা নৌকা। মন মাঝি তোর বৈঠা নেরে, কোন মিস্ত্রি নাও বানাইল, দে দে পাল তুলে দে, পাড়ে লয়ে যাও আমায়, প্রভৃতি গানে সাধককূল জীবন নৌকার হিসেব খোঁজেন।

মনে পড়ে নৌকাবাইচের কথা। নদীর পাড়ে হাজারো মানুষের ভিড়। রীতিমতো মেলা বসে যেত নৌকাবাইচ দেখতে। হরেকরকম নৌকা নিয়ে টানটান উত্তেজনায় চলত নৌকাবাইচ। কি সুঠাম দেহ ছিল সেই মাঝিমাল্লাদের। পাহাড়ি খর¯্রােতা নদীতে র‌্যাফটিং বা বিশেষ ধরনের নৌকা চালানো সামরিক প্রশিক্ষণের একটি অংশ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মাবলম্বীর কাছে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নৌকা একটি পবিত্র বাহন। এ চার ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থসমূহে নৌকাকে একটি জীবন রক্ষাকারী বা উদ্ধারকারী নৌযান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পবিত্র আল কোরআনের সুরা আল মুমিনের ২৭ নম্বর আয়াতে হজরত নুহ (আ.)- এর আমলে সৃষ্ট মহাপ্লাবন এবং একটি নৌকার মাধ্যমে নূহ (আ.) তাঁর অনুসারী ও পৃথিবীর সকল প্রকার জীবিত প্রাণিকুলের একটি করে জোড়াকে মহাপ্লাবনে ডুবে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষার বর্ণনা রয়েছে। একই ঘটনা বর্ণিত হয়েছে খ্রিস্টানদের বুক অব জেনেসিসের ৬ থেকে ৯ নম্বর অধ্যায়ে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ভগবতগীতার চতুর্থ অধ্যায়ের ৩৬ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, ‘তুমি যদি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পাপিও হও অথচ তোমার কাছে যদি পবিত্র জ্ঞান নামক নৌকাটি থাকে তবে তুমি দুঃখের সাগরও পাড়ি দিতে পারবে।’ বৌদ্ধদের কাছে পবিত্র আলগাড্ডুপামা সুত্তামের ২২ নম্বর অধ্যায়ে নদীর এক কিনারকে পৃথিবীকে দুঃখ ও কষ্টময় এবং অন্য কিনারকে (পরকাল) সুখের ঠিকানা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর সেই নদী পাড়ি দেয়ার জন্য খড়কুটো, বাঁশ, কাঠ প্রভৃতি দিয়ে ছোট নৌকা বা রাষ্ট্র  তৈরির কথা উপস্থাপিত হয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ কাগজের নৌকা কবিতায় বলেছেন -

‘কোন পথে যাবে কিছু নাই জানা,

কেহ তারে কভু নাহি করে মানা,

ধরে নাহি রাখে, ফিরে নাহি ডাকে,

ধায় নব নব দেশে।

কাগজের তরী, তারি পরে চড়ি

মন যায় ভেসে ভেসে।’

সেই নৌকা আবারও আলোচনার শিরোনামে, তবে নেতিবাচকভাবে এবং ইংরেজিতে বোট (ইড়ধঃ) নামে।

ঢাকার অদূরে বোট ক্লাবে অঘটনের কথা সবার মুখে মুখে। ব্রিজে দাঁড়িয়ে বোট ক্লাবের বিশাল ও অত্যাধুনিক ইমারত দেখা যায়। কিন্তু বোট ক্লাবের কোনো নৌকা কোনো দিন নদে ভাসতে দেখেনি কেউ। এ নিয়ে সংবাদপত্রে খবর হয়েছে, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও বালু নদে ওয়াটার বাস নামক কৃত্রিম নৌকা চালানোর ব্যর্থ চেষ্টায় সরকারের ক্ষতি কয়েকশ’ কোটি টাকা।

মৃত্যুকে হাতে নিয়ে এ দেশের শত শত যুবক তিউনিসিয়া, লিবিয়া হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় চেপে ইউরোপের মৃত্যু যাত্রা মোটেই মানানসই নয়।

ছেলেটা বড় হয়েছে আর মেয়েটা নারী স্বাধীনতা বোঝানোর জন্য সিগারেট টানা শুরু করে। তবে শেষ পর্যন্ত ধূমপানে ক্ষতিই হয়। সিগারেটের পক্ষে যুক্তি নেই একটিও। সিগারেট বড়ত্ব বা স্বাধীনতার সূচকও নয়। আপনি স্বাধীন কিনা, আপনি বড় হয়েছেন কিনা তা নির্ভর করে আপনার জ্ঞানে, আপনার কর্মে। সিগারেট ছেলেটার জন্য যতটা ক্ষতিকর, ততটাই মেয়েটার জন্য। আর বোট ক্লাবে কোনো জিন-পরীর আছর যেন না পড়ে  সে কামনা-ই করে  দেশের মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ