শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

রুনার পোষা বিড়াল

আনিসুর রহমান: 

রুনার পোষা বিড়ালছানাটি দেখতে খুব সুন্দর। গায়ের লোমগুলো ধবধবে সাদা। মাঝে মাঝে কালো ডোরাকাটা। বিড়ালছানাটিকে রুনা ভীষণ আদর করে। ইচ্ছে হলেই তুলতুলে লোমগুলোর উপর আলত করে হাত বুলিয়ে দেয়। খাবার সময় হলে মিঁউ মিঁউ ডেকে রুনার গা ঘেঁষে বসে থাকে। রুনা বিড়ালছানাটিকে শুধু দুধভাত আর মাছের কাঁটা নয়, প্রতিদিন তার পাতের অর্ধেকটা মাছ দিয়ে দেয়।

একদিন রুনার আম্মু বিড়ালছানাকে প্রতিদিন এভাবে মাছ দিতে তাকে বারণ করল। রুনা বিনয়ের সুরে বলল, মা তুমিই তো আমাকে শিক্ষা দিয়েছ যে, বিড়াল দেখলে আদর করতে। কারণ ওরাও আল্লাহর সৃষ্টি প্রাণী। তাই ওদেরকে কখনো কষ্ট দিতে নেই। তোমার কথা শোনেই তো আমি এই বিড়ালছানাটি পুষছি।

আদরযতœ করে চলছি। মা আমি যদি প্রতিদিন বিড়ালছানাটিকে মাছের কাঁটা না দেই, তাহলে তো মনে মনে সে খুব কষ্ট পাবে। ওর কি মাছ খেতে মন চায় না? আর আমি যদি তাকে মাছ না দেই, হয়তো সে আমার প্রতি  রাগ অভিমান করবে। আমি তো আমার পোষা বিড়ালছানাটিকে খুব  ভালোবাসি। তাইতো আমি খাবার খেতে বসলেই দেখ না মিঁউ মিঁউ করে কেমন কাছে এসে চুপটি মেরে বসে থাকে?

এতোক্ষণ ধরে রুনার কথা শোনে তার মা আর কিছুই বলতে পারল না। বরং একটা বিড়ালছানার জন্য মেয়ের এমন দরদ দেখে মুগ্ধ হল। আর মুচকি হেসে বললেন ঠিক আছে মা-মণি তোমার মাছটি তুমি খেয়ে নিবে। বিড়ালছানাকে মাছ আমিই দিব। রুনা মাথা নাড়িয়ে বলল আচ্ছা তাই হবে। এবার তাহলে আমি দাদীমার কাছে যাই। এই বলে রুনা একদৌড়ে তার দাদীর ঘরে চলে গেল। দাদীর কাছে গিয়ে বসতেই সাথে সাথে বিড়ালছানাটিও এসে হাজির। দাদীমা বললেন, বিড়ালছানাটি দেখি সব সময় তোমার পিছন পিছন ছুটে চলে। আসলে দাদুমণি তুমি যেমন বিড়ালছানাটিকে আদরযতœ কর, ঠিক তেমনি সেও তোমাকে ভীষণ ভালোবাসে। তাই তো সব সময় তোমার পিছন পিছন ঘুর ঘুর করে। রুনা বলল, একদম ঠিক বলেছ দাদীমা। আমাকে ছাড়া যেন ওর একমুহূর্তও চলে না। তাই দেখ না আমাকে একটুখানি না দেখলেই কেমন করে মিঁউ মিঁউ ডাকে সারাবাড়ি মাতিয়ে তুলে। আমার জন্য বিড়ালছানাটির এতো ভালোবাসা দেখে মনে মনে ভীষণ আনন্দিত হই। দাদীমা বললেন হাঁ তাই তো দেখছি। রুনা বলল, না দাদীমা। তুমি পুরোটা দেখনি। আমার জন্য বিড়ালছানাটির কতটা ভালোবাসা। একটা ঘটনা বললে তুমিও ভীষণ অবাক হয়ে যাবে! কি বলব? দাদীমা ছোট্ট করে বললেন হাঁ বলতো শুনি কি ঘটনা। রুনা একটু থেমে বলল, ঠিক আছে তাহলে শুনাচ্ছি। এই তো সেদিন রাতের ঘটনা। বাইরে ঘন কুয়াশা আর হালকা বাতাস ছিল। তাই ঘরেও  প্রচ- শীত লাগছিল। আমি আম্মুর সাথে খাটের উপর ভালো করে লেপকাঁথা জড়িয়ে শুয়েছিলাম। বিড়ালছানাটিও প্রতিদিনের মতো আমার পায়ের কাছে লেপের তলে এসে শুয়ে পড়ল। তখন অনেক রাত। লেপের তলে শুয়েও আমার শরীর যেন শীতে কাঁপছিল। তাই হঠাৎ করেই আমার ঘুম ভেঙে গেল। সজাগ হয়ে দেখি আম্মু ঘুমিয়ে আছেন। আর আমার গায়ে লেপ নেই। আর এ জন্যই বিড়ালছানাটি লেপের একমাথায় মুখে কামড় দিয়ে খুব কষ্ট করে টেনে আমার গায়ে লেপটা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। অনেকটা সফলও হয়েছে। কিন্তু পুরো লেপটি আমার গায়ে দেওয়ার আগেই আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমার জন্য বিড়ালছানাটির এমন ভালোবাসা দেখে আমি ভীষণ অবাক হলাম। তারপর ধীরে ধীরে উঠে বসলাম। বিড়ালছানাটিকে কোলে নিয়ে একটু আদর দিয়ে লেপের তলে ঘুমাতে দিলাম। তারপর আবার লেপটা গায়ে জড়ায়ে আমিও ঘুমিয়ে পড়লাম।

রুনার এই ঘটনা শুনে দাদীমা অবাক হয়ে গেলন। এতো দারুণ মজার ঘটনা। এতোদিন বলোনি কেন দাদুমণি। রুনা বলল, দাদীমা তোমাকে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। দাদীমা বললেন আচ্ছা এতে কোন অসুবিধে নেই। তবে এখন থেকে তোমার পোষা বিড়ালছানাটির প্রতি আমার দরদটাও কিন্তু আরো বেড়ে গেল। আর আল্লাহর সৃষ্টিজীবের প্রতি তোমার এমন আদরযতœ, ভালোবাসা দেখে আমি ভীষণ মুগ্ধ। সত্যিই দাদুমণি তুমি মহান। দো'য়া করি এমনিভাবেই যেন তুমি আল্লাহর প্রতিটি সৃষ্টিজীবের প্রতি দরদ দেখাতে পার। ভালোবাসতে পার সৃষ্টির সেরা মনুষদেরকে। আল্লাহ্ তোমাকে সৃষ্টির সেবক হিসাবে কবুল করুন। জ্ঞানেগুণে তুমি হও অনেক, অনেক বড়। সত্য সুন্দরের পথে হও উদার মনের মানুষ।

 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ