রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সুশাসন ও করোনা সংকট

ইবনে নূরুল হুদা:

মূলত, সুশাসনের অভাবেই রাষ্ট্রের কোন সেক্টরই সুনিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল নয়। ফলে সর্বগ্রাসী লুটপাট ও দুর্নীতি এখন আমাদের নিয়তি হয়ে গেছে। তা থেকে  মুক্ত থাকেনি দেশের স্বাস্থ্যখাতও। এমনিতেই জনসংখ্যা অনুসারে ও প্রয়োজনের তুলনায় আমাদের স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ মোটেই পর্যাপ্ত নয়। সর্বপরি এখাতে রয়েছে লাগামহীন অনিয়ম ও নয়ছয়। করোনা মহামারি মোকাবিলায় যেখানে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বাজেটবরাদ্দ বৃদ্ধি করার কথা, সেখানে এবারের বাজেটে আমাদেরকে হতাশই হতে হয়েছে। মহামারি মোকাবেলায় বাজেটে সুস্পষ্ট কোন নির্দেশনা রাখা হয়নি। দেশে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানোর আবশ্যকতা থাকলেও এক্ষেত্রে আমরা অতীত বৃত্তেই রয়ে গেছি। কারণ, বর্তমান মহামারি ও দুর্যোগকালীন সময়েও এই খাতকে লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন। অবশ্য তিনি স্বাস্থ্যখাতে কোন দুর্নীতির কথা স্বীকার করেননি। তার ভাষায়, ‘আমরা স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিইনি, অবহেলা করেছি। যার ফলাফল আমরা করোনায় পেয়েছি।  করোনা মহামারিতে আমরা কতটা অসহায়, সেটা দেখেছি’। তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি মনে করি স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের জন্য আমাদের আরও বেশি এগিয়ে আসা দরকার। করোনা আমাদের দেখিয়েছে স্বাস্থ্যসেবার যদি বিপর্যয় ঘটে, তাহলে মানুষের কী অবস্থা হয়। দেশের সব উন্নয়ন থেমে যায়, দেশে শান্তি থাকে না, সামাজিক অশান্তি সৃষ্টি হয়’।

দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে বাজারে অনেক কথাই চালু আছে। বাজেটে অপর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং এখাতকে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না দেয়ার অভিযোগ রয়েছে অনেক আগে থেকেই। সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য এসব অভিযোগের আত্মস্বীকৃতি মিলেছে। লাগামহীন দুর্নীতির বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকেছে তার বক্তব্যে। কিন্তু  বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য খাতে কেনাকাটা, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পদায়ন, চিকিৎসাসেবা, জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি, ওষুধ সরবরাহসহ নানাখাতে দুর্নীতির অভিযোগ স্পষ্ট। সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন নেই। সঙ্গত কারণেই দেশের স্বাস্থ্যখাতকে স্বেচ্ছাচারিতা ও নৈরাজ্যমুক্ত হয়নি। মূলত, আইনের শাসনের অভাবেই দেশের স্বাস্থ্যখাতে এই বেহাল দশার সৃষ্টি হয়েছে। এজন্য দেশের ভঙ্গুর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতিকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে  রাষ্ট্রের সকল সেক্টরেই পড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব। এমনকি জাতির এই ক্রান্তিকালে মানুষ যখন নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কায় তখন এক শ্রেণির মানুষ নিজেদের আত্মস্বার্থ চরিতার্থ করার মোক্ষম সুযোগ হিসেবে এই সময়কে বেছে নিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের হোমরা-চোমরাদের বিরুদ্ধে অনিয়মে জড়িত থাকার অনেক অভিযোগও উঠেছে ব্যাপকভাবে। এই বিষয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রামাণ্য সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। আর সে সংবাদ প্রকাশের কারণেই সম্প্রতি প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ে নাজেহালের স্বীকার হয়েছেন। এমনকি তথ্যচুরির কথিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। যা আমাদের ভঙ্গুর মূল্যবোধ চর্চা ও রাষ্ট্রাচারের আদর্শিক দেউলিয়াত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। 

মূলত, কোভিড-১৯ সংক্রমণের শুরু থেকেই সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও ব্যর্থতার কারণে পরিস্থিতি বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। সময়মত সঠিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও সীমিত পর্যায়ে রাখা সম্ভব ছিল। পরীক্ষার হারও শুরু থেকে মোটেই সন্তোষজনক ছিল না বা এখনও নয়। বিশেষ উদ্দেশ্যে সংখ্যা কম দেখানোর কারণে  সঠিক চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়নি। এখন কিন্তু পরিস্থিতি ভিন্ন মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে, সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই করোনা সংক্রান্ত ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। যা সরকার সংশ্লিষ্টরা ছাড়া সকল মহল থেকেই আত্মঘাতী মনে করা হচ্ছে।

মূলত, আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত ও সর্বাধুনিক না হওয়ায় মৃত্যুর হারও বেশি। অনেকেই অপর্যাপ্ত চিকিৎসা, অপচিকিৎসা ও বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ ও ভেন্টিলেটরসহ আইসিইউ শয্যার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকেছে সবসময়। ঢাকার বাইরেও মহানগর, জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ বেড এখনও অপর্যাপ্ত। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের পর থেকে  প্রায় ১৫ মাস অতিক্রান্ত হলেও সরকার হাসপাতলগুলোতে চিকিৎসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে আমাদের সামগ্রিকভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বলতা কাটানো সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের চরম ব্যর্থতা, অযোগ্যতা, উদাসীনতা, দুর্নীতি এবং জনজীবনকে  গুরুত্ব না দেয়ায় এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কথামালার ফুলঝুড়ির মাধ্যমে নিজেদের দায় শেষ করার চেষ্টা করেছেন।

করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পরে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে নাজুক চিত্র বেরিয়ে এসেছিলো তার কতটা পরিবর্তন হয়েছে তা নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। করোনা চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও যথাযথ উপকরণের অভাব, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগ, হাসপাতালে সেবার অভাব, জরুরি সেবা নিশ্চিতে ব্যাপক দুর্বলতার পাশাপাশি একের পর এক দুর্নীতির খবরও গত প্রায় ১৫ মাসে মূলত সরকারি স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশার প্রতি অঙ্গুলি নির্দেশ করে। সম্প্রতি বিবিসির এক প্রতিবেদনে দেশের স্বাস্থ্যখাতের এমন নেতিবাচক দিকই ওঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের ভাষ্যমতে, গত প্রায় ১৫ মাসে কোভিড-১৯ সেবা বাড়লেও সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কাঠামোগত উন্নয়ন খুব একটা হয়নি বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবনতিই ঘটেছে। এটা ঠিক যে এখন ২৫ হাজারের ওপর টেস্ট হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো দীর্ঘ লকডাউনের প্রভাবে এখন রোগীর সংখ্যা খানিকটা কমে এসেছে  কিন্তু এটি যদি কোনো কারণে বেড়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ হয় তাহলে তা সামাল দেয়ার মত অবস্থা আমাদের স্বাস্থ্যবিভাগের নেই। কিন্তু সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের কোন আগাম প্রস্তুতি বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেই বলে অভিযোগ করা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বক্তব্য হলো, করোনা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মীদের অভিজ্ঞতা বেড়েছে কিন্তু করোনাকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে সার্বিক স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এমনকি করোনার ক্ষেত্রেও জেলা উপজেলায় বরাদ্দ, স্বেচ্ছাসেবীদের অর্থ দেয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঙ্কট তীব্রতর হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যবিভাগের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। আর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের ক্ষেত্রে অবস্থার উন্নতি হয়নি বরং অবনতিই হয়েছে। এমনকি সরকার টিকা কার্যক্রমকে নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল করতে পারেনি। আর এজন্য লাগামহীন অনিয়ম ও সুশাসনের অভাবকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ট্রান্সপারেন্সি ন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)র এক প্রতিবেদনে। সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিকা কার্যক্রম ও করোনা মোকাবিলায় গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রমে সুশাসনের ঘাটতি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণকে দীর্ঘায়িত করছে। এছাড়া সঙ্কট মোকাবিলা ও সুশাসনের চ্যালেঞ্জ থেকে উত্তরণের জন্য ১৯ দফা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। ‘করোনা ভাইরাস সঙ্কট মোকাবিলা : কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনায় সুশাসনের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে গত ৭ জুন এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

এ সময় কোভিড-১৯ টিকা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সুশাসনের প্রতিটি নির্দেশকে কৌশলগত ঘাটতি থাকায় এবং ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব ও রাজনৈতিক বিবেচনায় টিকা ক্রয়ের ক্ষেত্রে একক উৎসের ওপর নির্ভর করায়, চলমান টিকা কার্যক্রমে আকস্মিক স্থবিরতা নেমে এসেছে দাবি করেছে সংস্থাটি।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন হাসপাতালের কোভিড মোকাবিলায় বরাদ্দ ব্যয়ে দুর্নীতি ছিল এবং এখনও আছে। যেমন পাঁচটি হাসপাতালে ক্রয়, শ্রমিক নিয়োগ ও কোয়ারেন্টাইন বাবদ ৬২ দশমিক ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ কোটি টাকার দুর্নীতি; ক্রয়বিধি লঙ্ঘন করে এক লাখ কিট ক্রয়; বিধি লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে ক্রয়াদেশ প্রদানের ঘটনা দেখা গেছে। করোনাকালে কারিগরি জনবলের ঘাটতি মেটাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়োগে জনপ্রতি ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপযোগিতা যাচাই না করে হাসপাতাল নির্মাণ এবং তার যথাযথ ব্যবহার না করে হঠাৎ বন্ধ করে দেয়ায় ৩১ কোটি টাকার অপচয় হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে এখনো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। সরকার ঘোষিত মোট ২৩টি প্রণোদনা প্যাকেজে বরাদ্দকৃত এক লাখ ২৮ হাজার তিন শত তিন কোটি টাকার প্রায় ৩৫ শতাংশ বিতরণ করা হয়নি।

গবেষণা প্রতিবেদনে করোনা মোকাবিলায় সুশাসনের ঘাটতি নিরসনে টিকা কার্যক্রম সম্পর্কিত ১১টি এবং অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কিত আটটিসহ মোট ১৯ দফা সুপারিশ প্রদান করে টিআইবি। উল্লেখযোগ্য সুপারিশ হলো, দেশের ৮০ শতাংশ জনসংখ্যাকে কীভাবে, কত সময়ের মধ্যে টিকার আওতায় আনা হবে তার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা করা; উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সক্ষমতাসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে নিজ উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে টিকা উৎপাদনের সুযোগ প্রদান করা; সরকারি ক্রয়বিধি অনুসরণ করে সরকারি-বেসরকারি খাতের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরাসরি আমদানির অনুমতি প্রদান করা; রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ব্যতীত টিকা ক্রয় চুক্তি সম্পর্কিত সকল তথ্য সকলের জন্য উন্মুক্ত করা; টিকা কেন্দ্রে অভিযোগ নিরসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা এবং অভিযোগের ভিত্তিতে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

মূলত, সুশাসনের অভাবেই আমাদের দেশের স্বাস্থ্যখাতে রীতিমত হ-য-ব-র-ল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোভিড ব্যবস্থাপনার ওপর। এমতাবস্থায় শুধু আষাঢ়ে গল্প শুনিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হবে না বরং সবার আগে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিতে হবে। এক্ষেত্রে টিআইবির সুপারিশগুলোও অনেকটাই বাস্তবসম্মত। কিন্তু কে শোনে কার কথা?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ