শনিবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

সীমান্ত এলাকায় করোনা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্যবিধি না মানায় সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে বিধিনিষেধ জারির পাশাপাশি, ওইসব এলাকা কিভাবে টিকার আওতায় আনা যায় সেটা নিয়ে ভাবছেন তারা। এরই মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। পরিকল্পনা রয়েছে চিকিৎসক পাঠানোরও। 

এদিকে করোনার টিকা আমদানি নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন । তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে  করোনা ভাইরাসের অক্সফোর্ড -অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজের টিকার ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন দেশকে টিকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সবাই বলছে টিকা দিবে কিন্তু কবে দিবে সেটা বলছে না। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূতের কাছে ওষুধ সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মার ওই অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অনেক টিকা আছে জেনে সঙ্গে সঙ্গে তাদের অনুরোধ করলাম। পরে জানা গেল, করোনা ভাইরাসে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা কম বলে যে দেশগুলোতে টিকা দেয়া হবে তা অগ্রাধিকারের তালিকায় নেই। পরে অবশ্য আমরা জেনেছি আমাদের কিছু অ্যাস্ট্রাজেনেকা দিবে। এছাড়া কোভ্যাক্স থেকেও কিছু টিকা পাওয়ার আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু কবে পাবো সেটা বলেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে টিকা পাওয়ার ব্যাপারে আমরা খুবই আশাবাদী।

প্রসঙ্গত যুক্তরাষ্ট্র কোভ্যাক্সের আওতায় বিভিন্ন দেশে যে টিকা দিচ্ছে, তাতে অগ্রাধিকার তালিকায় আছে বাংলাদেশ। খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের উপহারের এ টিকা বাংলাদেশ আসবে বলে জানিয়েছেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার।

করোনার টিকা সার্বজনীন করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম থেকে বলে আসছেন টিকা যেন সার্বজনীন পণ্য এবং সব দেশের লোকের বৈষম্যহীনভাবে তা পাওয়া উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে মোট টিকার ৯৯ দশমিক শতাংশ আছে ধনী দেশের কাছে এবং মাত্র শূন্য দশমিক তিন শতাংশ গরীব দেশগুলোর কাছে। অনেকে টিকার জন্য হাহাকার করছে। অস্ট্রেলিয়ার ২৫ মিলিয়ন লোকের জন্য ৯৩ দশমিক আট মিলিয়ন টিকা মজুদ থাকার রিপোর্ট পেয়েছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের কাছেও টিকা চেয়েছি। তারাও বলেছে দিবে। কিন্তু কবে দিবে সেটাই দেখার বিষয়। 

গত কয়েক দিন ধরে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণের অস্বাভাবিক উর্ধ্বগতি এবং সামগ্রিকভাবে সারা দেশে এই হার বাড়তে থাকাটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে নানা বিধিনিষেধ জারি করে করোনার লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে তাতে যে সংক্রমণের চিত্রটা তেমন একটা বদলায়নি তা প্রায় স্পষ্ট। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর? উদ্বেগের কারণ হলেও টিকা এবং মাস্কের বিকল্প দেখছেন না স্বাস্থ্যের ডিজি অধ্যাপক আবুল বাশার খুরশীদ আলম। 

তিনি জানান, গ্রামীণ বিশাল জনগোষ্ঠীকে টিকার আওতায় আনাটা চ্যালেঞ্জের হলেও এই মুহূর্তে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোকে। গ্রামে পৌঁছানে যায় এমন টিকার উৎসেরও খোঁজ শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্যের ডিজি আরও জানান, গ্রামের বেহাল স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে যতটা সম্ভব কাজ চলছে। অগ্রাধিকার তালিকা ধরে পাঠানো হচ্ছে নানা সরঞ্জাম। সেই থাকে ঢাকা থেকে চিকিৎক পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলের আমের হাটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ