ঢাকা, সোমবার 25 October 2021, ৯ কার্তিক ১৪২৮, ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী
Online Edition

ইউরোপীয় নেতাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাগিরি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলসহ ইউরোপের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাগিরিতে সহায়তা করেছে ডেনমার্কের গোয়েন্দারা।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম ডেনমার্কস রেডিওর (ডিআর) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে থাকা অংশীদারিত্ব ব্যবহার করেছে।

এই অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে এনএসএর ভূমিকা নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে চলমান বিভাগীয় তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট নয়টি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে ডিআর।

সুইডেন, নরওয়ে, ফ্রান্স ও জার্মানির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে ডেনিশ ইনফর্মেশন ক্যাবলগুলো এনএসএ ব্যবহার করেছে বলেছে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কার্যক্রমের ওপর করা অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। যাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করা হয়েছে তাদের মধ্যে জার্মানির চ্যান্সেলর মের্কেলের পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ভল্টার স্টাইনমায়ার ও দেশটির বিরোধীদলীয় নেতা পিয়ার স্ট্রাইনব্রুকও রয়েছেন।

ডিআরের এই প্রতিবেদনে বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলে জার্মান চ্যান্সেলারির একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করার পরই শুধু তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন।

তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েবে কুফুদ। ছবি: রয়টার্সযুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েবে কুফুদ। ছবি: রয়টার্সসুইডেন, নরওয়ে, জার্মানি, হল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যে যাওয়া ও দেশগুলো থেকে বের হওয়া সাগরতলের ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোর বেশ কয়েকটি প্রধান ল্যান্ডিং স্টেশন ডেনমার্কে; দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। 

ডিআরের তথ্য অনুযায়ী, ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বিভাগের (এফই) অভ্যন্তরীণ এই তদন্ত প্রথম ২০১৪ সালে শুরু হয়েছিল। আগের বছর এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা তথ্যে এনএসএ কীভাবে কাজ করে সে বিষয়টি উঠে আসার পর সৃষ্ট উদ্বেগ থেকে এ তদন্ত শুরু হয়।

রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াশিংটনে এনএসএকে এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে তারা তাৎক্ষণিভাবে সাড়া দেয়নি আর যুক্তরাষ্ট্রের ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের (ডিএনআই) দপ্তর মন্তব্যের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এফইয়ের একজন মুখপাত্রও মন্তব্যের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন। 

ঘটনার বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় জার্মান গণমাধ্যম এআরডিকে স্ট্রাইনব্রুক বলেন, “বন্ধুভাবাপন্ন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অন্যান্য দেশগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের আসলেই বাধা দিচ্ছে ও তাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করছে এটা বেশ অদ্ভুত। রাজনৈতিকভাবে আমি এটিকে একটি কেলেঙ্কারি বলে মনে করি।”

সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিয়েতার হুলৎভিস্ত দেশটির গণমাধ্যম এসভিটিকে বলেছেন, তিনি এসব বিষয়ে ‘পূর্ণাঙ্গ তথ্য দাবি করেছেন’।  

আর এসব ‘অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন’ বলে জানিয়েছেন নরওয়ের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফ্রাঙ্ক ব্যাগি ইয়েনসেন। 

ডিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের তদন্তকে কেন্দ্র করে একটি স্বাধীন বোর্ডকে এফইয়ের কার্যক্রম তদারকি করার দায়িত্ব দেওয়ার পর গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ ও সমালোচনার মুখে গোয়েন্দা বিভাগটির প্রধান এবং আরও তিন কর্মকর্তাকে গত বছরের অগাস্টে তাদের পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়।

গত বছর ডেনমার্ক সরকার জানিয়েছিল, একজন হুইসেলব্লোয়ারের প্রতিবেদনে থাকা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিল তারা। চলতি বছরের মধ্যে এই তদন্ত শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ