শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

মুসলমান ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী মৈতৈপাঙালদের আত্মপরিচয় সংকট

মো. আব্দুস সামাদ: বাংলাদেশে বসবাসরত মণিপুরি মুসলিম বা মৈতৈপাঙালদের আত্মপরিচয় সংকট’ শীর্ষক আলোচনার আগে আমি পাঠকদের কাছে  মণিপুরি মুসলিম বা মীতৈপাঙালদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরতে চাই। উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি ছোট রাজ্য মণিপুর বা মৈতৈ লৈবাক। মণিপুরে রয়েছে বিভিন্ন জাতির বসবাস।  তবে সেখানকার মূল জনধারাটি মণিপুরি বা মৈতৈ নামে পরিচিত। মণিপুরের অন্যান্য জাতিসত্বাগুলো তাদের স্ব স্ব আত্মপরিচয়ে পরিচিত, মণিপুরি  বা মৈতৈ নামে নয়। সেখানকার শাসকও ছিলেন মণিপুরি বা মৈতৈ। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সেখানকার রাজপরিবারে সংঘটিত কিছু ঘটনার ফলশ্রুতিতে রাজভ্রাতা সানংবা বিদ্রোহ করে পার্শ্ববর্তী রাজ্য কাছাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তিনি কাছাড়ের রাজার সহযোগিতা নিয়ে বেশ কয়েকবার মণিপুর আক্রমণ করেন। কিন্তু তিনি জয়ের মুখ দেখতে ব্যর্থ হন। অবশেষে কাছাড়ের রাজা তাদের প্রতিবেশী রাজ্য সিলেটের শাসনকর্তা বায়েজীদ কররাণীর মাধ্যমে তৎকালীন দক্ষিন সিলেট ও তরফের অধিপতি, পাঠানদের মুকুটহীন সম্রাট এবং মোগল আগ্রাসনের প্রতিরোধকারী বাংলার বারোভুঁইয়াদের অন্যতম ভুঁইয়া খাজা ওসমান খান লোহানীর নিকট সাহায্য কামনা করেন। রাজ্যের পশ্চিম সিমান্তে মোগলদের আক্রমন প্রতিরোধে ব্যতিব্যস্ত খাজা ওসমান রাজ্যের পশ্চাৎভূমির সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মানসে শেখ মোহাম্মদ শানির সেনাপতিত্বে, সাতজন সেনাধ্যক্ষের তত্ত্বাবধানে এক হাজার দুর্ধর্ষ সৈনিককে মণিপুর অভিযানে কাছাড়ী বাহিনীকে সাহায্য করার নিমিত্তে প্রেরণ করেছিলেন। তারা ১৬০৬ সালে কাছাড়ী বাহিনীর সাথে যৌথভাবে মনিপুর আক্রমণ করেন। সে যুদ্ধের স্বাভাবিক পরিনতিতেই তরফ থেকে প্রেরিত পাঠান সৈনিকরা মণিপুরে পুনর্বাসিত হয়েছিলেন। মণিপুরের রাজা তাদের কাছে মণিপুরি মেয়ে বিয়ে দিয়ে, জমিজমা, বসতবাটি বরাদ্দ করে মণিপুরে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মণিপুরের সেনাবাহিনীতে নিয়োগের পাশাপাশি তাদেরকে বিভিন্ন পেশায় পুনর্বাসিত করা হয়। এভাবে মা মণিপুরি আর বাবা বাঙলার পাঠান মুসলিম এর সমন্বয়ে সৃষ্টি হয় এক নতুন জাতিসত্তার। মৈতৈ মা এর মৈতৈ আর বাঙলা থেকে আগত খাঁ-ই-বাঙাল বাবার বাঙাল শব্দের সমন্বয় করে তাদের নামকরণ করা হয় মৈতৈবাঙাল, যা মৈতৈদের উচ্চারণ বিভ্রাট জনিত কারণে মৈতৈপাঙাল এ রূপান্তরিত হয়ে যায়। যা মণিপুরি বানান রীতিতে মৈতৈপাঙল হিসেবে লেখা হয়। এ নব সৃষ্ট জাতিসত্তা তাদের পিতৃধর্ম ইসলামকে ধারণ করার পাশাপাশি মণিপুরি বা মৈতৈ ভাষা ও সংস্কৃতিকে গ্রহণ করে যা মণিপুরের অন্য কোন জাতিসত্তা গ্রহণ করেননি। মৈতৈপাঙালদের মাতৃকুলের উৎসই ছিল মৈতৈ,  যার কারণে বহিরাগত স্বামীকুলকে মণিপুরি ভাষা আর সংস্কৃতি রপ্ত করাতে তুলনামূলক কম সময়ই লেগেছিল বলে জানা যায়। এখানে উল্লেখ্য যে,  প্রথম দিকে মৈতৈপাঙাল পুরুষদের ভাষাজ্ঞান ছিল মৌখিকভাষার মধ্যে সীমাবদ্ধ। লিখিত ভাষা কিংবা মৈতৈ সাহিত্যের সাথে পরিচয় হতে তাদের বেশ কিছু সময় লেগেছিল। তখন তাদের প্রয়োজনীয় লিখন চলতো পশতু এবং ফার্সি ভাষায়। অবশ্য দীর্ঘদিন বাংলায় অবস্থানের কারণে তাদের অনেকেই বাঙলা ভাষার অনেকাংশ রপ্ত করেও ফেলেছিলেন। তাই তারা যখন মৈতৈ ভাষায় কথা বলতো তখন প্রচুর বাংলা, ফারসি এবং পশতু ভাষা ব্যবহার করতেন। যা কালক্রমে মৈতৈ ভাষায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে এ ভাষাকেও করেছে সমৃদ্ধ এবং সহজতর। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো মৈতৈ রাজা পামহৈবা এর ‘গরীব নেওয়াজ’ খেতাব ধারণ। তারপর আসলো আমাদের পরম আত্মীয় মৈতৈদের ধর্মচ্যুতি বা ধর্মান্তর। তারা তাদের একেশ্বরবাদ আদি ধর্ম ত্যাগ করে গ্রহণ করলো হিন্দু সনাতন ধর্ম। বিভেদের একটা হালকা প্রাচীর গড়ে উঠলো মৈতৈ আর মৈতৈ পাঙালদের মধ্যে। কিন্তু এসব কিছু কোন বিচ্যুতি ঘটাতে পারেনি আমাদের আত্মপরিচয়ে।

এবার আসি একজন মানুষের আত্মপরিচয় কিভাবে চিহ্নিত করা যায়- তার ভাষা, ধর্ম, পেশা, লিঙ্গ, বর্ণ, পোশাক, খাদ্যাভাস, সামাজিক ও বৈবাহিক মর্যাদা ইতাদি দিয়ে। একজনের মানুষের যেমন একটি ব্যক্তিগত পরিচয় থাকতে পারে, ঠিক তেমনি তার আবার সংস্থাগত, দলগত, জাতিগত কিংবা ভৌগোলিক পরিচয়ও থাকতে পারে। তবে মানুষের জীবনের একটি অমূল্য সম্পদ তার জাতিগত আত্মপরিচয়। মানুষ যেখানেই থাকুক সে তার জাতিগত আত্মপরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা করে। আর জাতিগত আত্মপরিচয় ধরে রাখার একমাত্র মাধ্যম তার ঐতিহ্যকে চর্চা করা। মানুষ যখন তার ইতিহাস আর ঐতিহ্য ভুলে যায় এবং নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চা থেকে বিরত থাকে তখন তার আইডেন্টিটি বা আত্মপরিচয়কে হারিয়ে ফেলে। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে মণিপুরি মুসলমানরা তাদের উৎসভূমি মণিপুর ছাড়াও ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, দিল্লী, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ুসহ বিভিন্ন রাজ্যে বসবাস করে। তাছাড়াও ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এবং এশিয়া, ইউরোপ,  আমেরিকা, আস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। এর মধ্যে আসাম, ত্রিপুরা,  বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে বসতি স্থাপন করে ১৮১৯ থেকে ১৮২৬ পর্যন্তে মণিপুরে সংঘটিত সাত বছরের বার্মিজ দখলদারিত্বের সময়। আর বাকী দেশ বা স্থানসমূহে আবাসন গড়ে বিচ্ছিন্নভাবে, শিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে নতুবা জীবিকার সন্ধান করতে গিয়ে।

প্রথমে আমরা আলোচনা করবো বার্মিজ দখলদারিত্বের সময় মণিপুরের প্রতিবেশী রাজ্যসমূহে আশ্রয় গ্রহণ করে পরবর্তীতে সেখানে বসতি স্থাপনকারী মণিপুরি মুসলমানদের কথা। আমরা জানতে পেরেছি মণিপুরের প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মণিপুরি মুসলিম বসবাস করে। বার্মিজ দখলদারিত্বের সময় এদেরকে জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে সেখানে বসতি স্থাপন করানো হয়। কিন্তু বার্মিজ কর্তৃপক্ষ তাদের উপর কঠোরভাবে সংস্কৃতিক আগ্রাসন চালিয়েছিল, ফলে আজ তারা তাদের ভাষা, পোশাক পরিচ্ছদ, আচার আচরণ এককথায় বলতে গেলে পুরো সংস্কৃতিই হারিয়ে বসে আছে। ফলে তারা আজ আত্মপরিচয় সংকটে নয় পুরো আত্মপরিচয়টিই হারিয়ে বসে আছে। তারা শুধু জানে তাদের পূর্বপুরুষেরা মণিপুরি মুসলমান এবং মণিপুর থেকে আগত । 

এবার দৃষ্টিপাত করা যাক, আসাম, ত্রিপুরা আর বাংলাদেশে বসবারত মণিপুরি মুসলমানদের দিকে। উক্ত স্থানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে আসামের কাছাড় জেলার মণিপুরি মুসলমানেরা। তাদের অবস্থান মণিপুরের সন্নিকটবর্তী।  মনিপুরের সাথে রয়েছে তাদের সরাসরি যোগাযোগ। তাছাড়াও রয়েছে মাতৃভাষায় লেখা পড়া করার সুযোগ। রয়েছে মণিপুরি ভাষায় উচ্চ শিক্ষা অর্জনের ব্যবস্থাও। তাই সেখানকার সাহিত্য প্রেমিকরা মৈতৈ বা মণিপুরি ভাষায় সাহিত্য চর্চাও করে থাকে। মণিপুরি সাহিত্যে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে অনেকেই মণিপুর থেকে পদক অর্জন করতেও সক্ষম হয়েছেন। এমতাবস্থায় ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের মণিপুরি মুসলিমদের তুলনায় স্বকীয় আত্মপরিচয় তুলে ধরতে তারাই বেশি সক্ষম। ত্রিপুরায় বসবাসরত মণিপুরি মুসলমানরা বাংলাদেশের মণিপুরি মুসলিমদের তুলনায় মণিপুরের সাথে যোগাযোগ রয়েছে বেশি। তবে তারা সংখ্যায় সল্প। তাদুপরি তাদের চতুর্পাশে প্রতিবেশী হিসেবে রয়েছে বাঙালী জনগোষ্ঠী বিশেষ। সেখানে আজ তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কম। সংখ্যাধিক্যের সংস্কৃতিক আগ্রাসনতো রয়েছেই, রয়েছে আধুনিকতার ছাপ।

এবার দৃষ্টি দেয়া যাক বাংলাদেশে বসবাসরত মণিপুরি মুসলিমদের স্বকীয়তার দিকে। বাংলাদেশে মণিপুরি মুসলমানদের আবাসন আজ থেকে প্রায় দুইশত বছর আগে, ১৮১৯ থেকে ১৮২৬ সালের মধ্যে, মণিপুরে সংঘটিত বার্মিজ দখলদারিত্বের সময়। প্রথমত বিদেশ বিভূঁইএ শরণার্থী শিবিরে দিনাতিপাত, খোলা আকাশের নিচে চালচুলোহীন, মানবেতর জীবন, পরবর্তীতে বাংলার পৃত্থিমপাশার জমিদার মোহাম্মদ আলী খান সাহেবের আশ্রয় লাভ, যার শেষ পরিণতি ভানুগাছের পবিত্র ভূমিতে তাদের পূর্বপুরুষের বসতি স্থাপন। সেই কঠিন সময়েও তাদের আত্মপরিচয়কে কিছুতেই বিচ্যুত হতে দেইনি, ধারণ করেছি তার সুউচ্চ মর্যাদায়। মৈতৈদের মতো ধর্মীয় বলয়ে সংস্কৃতি চর্চার তেমন একটা সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও  বিবাহশাদী এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে সংস্কৃতি চর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু এ প্রক্রিয়ায় বাধা এসে দাঁড়ালো তৃতীয় প্রজন্মে এসে, যখন তাদের সমাজের কিছু লোক শিক্ষিত হয়ে উঠতে লাগলো। কারণ স্কুল কলেজে তাদের শিক্ষার মাধ্যম হলো বাংলা। অতপর চাকরির সুবাদে তাদের ক্ষুদ্র সামাজিক পরিম-লের বাহিরে যাওয়ার প্রয়োজন দেখা দিল। সেখানে তাদের সহকর্মীদের ভাষাও বাংলা। তারা অনেকটাই প্রভাবিত হতে লাগলেন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির প্রভাব বলয়ে। তারপরতো রয়েছে মেকি আধুনিকতার পুচ্ছ। শুরু হলো দৈত্য সংস্কৃতির চর্চা। সমাজে আসলে মণিপুরি মুসলিম আর বাহিরে গেলে বাঙালী ধরণের আত্মপরিচয়। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীও অনেকাংশে দায়ী এই আত্মহননে। 

আদিবাসী পরিচয় প্রকাশের পর নানা ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা, তুচ্ছতাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের আত্মপরিচয় হননে প্রলুব্ধ করে। মাতৃভাষায় শিক্ষা অর্জনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়াও স্বরূপ হারানোর আরেকটি মুখ্য কারণ। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান কিংবা বিবাহ শাদীতে মণিপুরি মুসলিম সংস্কৃতির স্থলে অনুপ্রবেশ ঘটলো অপসংস্কৃতি। সিনেগান আর ড্রামের আওয়াজ ম্লান করে দিল তাদের স্বরূপকে।

এবার যারা অন্যত্র শিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে নতুবা জীবিকার সন্ধান করতে গিয়ে বিবাহশাদী করে, বাড়িঘর নির্মাণ করে কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে কর্মক্ষেত্রে অনেকদিন বসবাস করছেন তাদের কথায় আসি। তথ্যানুসন্ধান জানা গেছে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় মণিপুরি মুসলমান শিক্ষা অর্জন করতে গিয়ে তাদের জন্মভূমির বাহিরে বিভিন্ন রাজ্যে,  কোন কোন সময় দেশের সীমানার গন্ডি পেরিয়ে বিদেশ বিভূঁইয়ে গিয়ে থাকেন। এসব শিক্ষার্থীদের একটি অংশ শিক্ষা জীবন শেষে বিবাহ করে, ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট হয়ে নতুবা চাকরি  নিয়ে সেখানে স্থিতিলাভ করেছেন। এসব লোক তাদের স্বজনদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখলেও যেহেতু তারা সমাজ বিচ্ছিন্ন থাকে তাই তারা ধীরে ধীরে  নিজেদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যকে হারিয়ে ফেলে। আর যারা জীবিকার তাগিদে প্রবাসে দীর্ঘদিন জীবন কাটান তারা স্বদেশে আসার সময় বয়ে নিয়ে আসেন বিদেশী ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে।

এবার আলোচনা করা যাক এসবের প্রতিকার কি? 

সর্বপ্রথমে বলতে চাই নিজেদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে তুলে ধরুন।  আপনার ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিই হচ্ছে আপনার আত্মপরিচয়। ভ্রাতৃত্ববোধকে জাগিয়ে তুলুন, লজ্জাকে একবারে প্রশ্রয় দিবেন না। আপনার স্বরূপের উপর  বিশ্বাস স্থাপন করুন, মানবিক হোন, দেখবেন সব সমস্যা  চুকে গেছে। ইতিহাসের অন্তরাল থেকে গৌরব ও ঐতিহ্যের স্মৃতিগুলো তুলে এনে নতুনদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, যাতে আমাদের সন্তানেরা সেটা জানতে পারে। বৈষয়িক প্রয়োজনে আমাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করতে হতে পারে, অসুবিধা নেই সেখানে আপনার ঐতিহ্যকে তুলে ধরুন, দেখবেন আপনার আত্মপরিচয় সমুন্নত হচ্ছে। আমাদের দায়িত্ব আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়া। এতে আত্মপরিচয়ের সংকট দূর হবে এবং একটি আদর্শ জাতিসত্তার বিনির্মাণ সম্ভব হবে। 

 

তথ্য সহায়তাঃ

১) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী জনাব খান, মণিপুরি মুসলিম’ ১৯৭২।

২) অধ্যাপক কাজী হামিদ আলী, ‘The Manipuri Muslim’.1979.

৩) খৈরুদ্দিন চৌধুরী,   ‘The Manipuri Mahammedan’, 1976.

৪) রাজকুমার শ্রী স্নাহাল সিংহ  ‘পাঙল থোরাকপা’ ১৯৮৫।

৫) ‘মীতৈ পাঙল হৌরাকফম’ বি কুলচন্দ্র শর্মা ও বদরুদ্দিন ১৯৯১।

  ৬) R.K. Jaljit Singh, A Short History of Manipur.

৬) সালাম ইরেন,’ The Muslims of Manipur’.

৭) এম.এম. আহমদ, ‘পাঙলগী খুনুং ঈশৈ নৈন-ওয়ারেং’, ২০১৩।

৮) ফজলুর রহমান, সিলেটের মাটি,  সিলেটের মানুষ।

৯) বাংলা পিডিয়া, খাজা ওসমান।

১০) Wikipedia, Khaja usman.

১১) অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইয়ীদ, আত্মপরিচয় সংকট দূর করতে প্রয়োজন ঐতিহ্যের চর্চা, ১৭ জুলাই ২০১৮ জুলাই ২০১৮ তারিখে প্রকাশিত, দৈনিক প্রথম আলো। 

১২) Md. Chingiz Khan and Mohammad Imtiyaj Khan, The Identity Crisis of Manipuri Muslims, Published in Forward Press on May, 22, 2019.

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ