শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

দুই ইঁদুর আর বেজির কাণ্ড 

জহির টিয়া: একদিন বনের রাজা সিংহ এক বিশাল বনভোজনের আয়োজন করল। তার একমাত্র মেয়ের নবজাতকের আগমন  উপলক্ষে। অর্থাৎ  প্রাণপ্রিয় একমাত্র নাতনির জন্য। বনের সকলকে তাতে নিমন্ত্রণ করল। সবাই একে একে সিংহ রাজার  প্রাসাদে ভোজের  জন্য আসতে লাগল। প্রথমে গণ্যমান্যদের দিয়ে ভোজ শুরু হলো। ওই বনে বাস করত দুইটা পুঁচকে  ইঁদুর। তারা ছিল খুবই অসহায়।  ঠিক মতো দু'বেলা  খেতে পেত না। তারাও আমন্ত্রিত অতিথি। কিন্তু তারা গরীব বলে 

সবার পরে খাবারের সিরিয়ালি পেল। যখন তারা খাওয়ার সিরিয়ালি পেল  ঠিক তখন ডেগচিতে কোনো খাবার ছিল না।  মনের ভেতর গভীর কষ্ট নিয়ে তারা বাসায় ফিরছিলো। কিছু দূর আসতেই পথের পাশে একটা পলিথিন মোড়ানো পুটলি  দেখতে পেল। দৌঁড়িয়ে দুজনেই গেল পুটলির কাছে। দুজনে পুটলি ধরে টানাটানি করতে লাগল। একজন  বলে আমি  আগে দেখেছি এটা আমার। অন্যজন বলে, না আমি আগে দেখেছি এটা আমার। টানাটানির একপর্যায়ে পুটলি ছেঁড়ে

 ভেতর  হতে আধলা ইটের সমান একটা মাংসের টুকরা ছিঁটকে পড়ল। সেটা নিয়ে আবার কাড়াকাড়ি শুরু হলো। ওই পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল একটা বেজি। সে তাদের এমন অবস্থা দেখে, কাছে এগিয়ে গেল। তাদের কাছে গিয়ে সব  জেনেশুনে বলল,  'আমি তোমাদের ভাগ করে দিচ্ছি। তোমরা ঝগড়াঝাঁটি করো না।'  ইঁদুর দুইটা এর-ওর মুখ চাওয়াচাওয়ি করে সম্মতি জানালো। বেজি মাংসের টুকরাখানাকে দু'ভাগে ভাগ করে দিলো। ইঁদুরের একজন মাথা নেড়ে বলল, 'ওহ! একটা বড় আর একটা ছোট।' তখন  বেজিটা বড় টুকরায় কামড় দিয়ে কিছু অংশ খেয়ে নিলো। অন্যজন বলল, 'ওহ! আবার তো এটা ছোট হয়ে গেল।'  তখন আবার বেজিটা বড় টুকরায় কামড় দিয়ে কিছু অংশ খেয়ে নিলো। আবারও ইঁদুর দুইটা ছোট-বড় এর আপত্তি জানালো। 

এইভাবে বেজিটা দুই হতে অংশ থেকে খেতে খেতে শেষপর্যন্ত পুরো মাংসের টুকরাখানা শেষ করল। বেজির এমন কাণ্ডকারখানা দেখে ইঁদুরেরা খুব অসহায়বোধ করল।  আর নিজের ভুল বুঝতে পারল। 

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ