রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১
Online Edition

ছুটির দিনে লকডাউনে রাজপথ ফাঁকা অলিগলিতে বাজারে মানুষের ভিড়

সরকার ঘোষিত ৮ দিনের লকডাউন চলাকালীন গতকাল শুক্রবারের সার্ক ফোয়ারা এলাকা -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় গতকাল কঠোর লকডাউনের তৃতীয়দিন রাজপথে জনসমাগম খুব একটা ছিল না। তবে এর উল্টোচিত্র দেখা গেছে অলিগলি এবং কাঁচাবাজারে। বলা যায়, আগের দুইদিনের তুলনায় রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের চাপ ছিল না বললেই চলে। এদিন যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বাসায় ফিরছেন।
গতকাল অন্য দুই দিনের তুলনায় রাজধানীর মহাসড়কে সকাল থেকেই রাস্তায় গাড়ির চাপ অনেকটা কম ছিল। খুব জরুরি কাজে বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাসা থেকে বের হয়েছেন হাতেগনা  কয়েকজন। এছাড়া কেউ বাসা থেকে বের হন না। গত দুই দিনের তুলনায় রাস্তায় প্রাইভেট কার ও রিকশার সংখ্যাও ছিল তুলনামূলক অনেক কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় বিধিনিষেধের মধ্যেও যেসব অফিস খোলা ছিল সেগুলোও বন্ধ। তাই রাস্তায় গাড়ির চাপ কমেছে। অন্য দুইদিন অফিস খোলা থাকায় রাস্তায় গাড়ি ও মানুষ বেশি ছিল। এছাড়া করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় মানুষও খুব জরুরি কাজ বা বাজার সদাইয়ের কাজ ছাড়া তেমন একটা বাসা থেকে বের হননি।
রিকশাচালক মো. মিজান বলেন, গত দুইদিন সকাল সাড়ে ৯টার ভেতরে চার-পাঁচটা ক্ষ্যাপ মারতে পারছিলাম। মানুষ নাই। রাস্তা ফাঁকা। অফিস নাই, তাই হয়ত করোনার ভয়ে কেউ বের হচ্ছে না। ব্যাংকের কর্মকর্তা দিদার হোসেন শাহজাদপুর বাজারে যাচ্ছিলেন সাপ্তাহিক বাজার করতে। তিনি বলেন, ব্যাংক বন্ধ হওয়ায় বাসা থেকে বের হওয়ার ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু সাপ্তাহিক বাজারের জন্য বের হতে হয়েছে। তবে বাজার শেষে বাসায় ফিরে আর নিচে নামব না।
অন্যদিকে রাস্তায় মানুষেরর চাপ কম থাকায় চেকপোস্টেও তেমন ব্যস্ততা দেখা যায়নি। দুয়েকজন যাত্রী চেকপোস্ট দিয়ে মাঝে মধ্যে যাচ্ছেন, তাদের মুভমেন্ট পাস আছে কি না চেক করতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের।  চেকপোস্টে কর্মরত সার্জেন্ট মো. সাহেদ বলেন, অফিস বন্ধ হওয়ায় রাস্তায় আজ তেমন একটা মানুষ নেই। এ পর্যন্ত যারা বের হয়েছেন, তাদের মুভমেন্ট পাস চেক করেছি। তারা জরুরি প্রয়োজনেই বের হয়েছেন।
এদিকে, গতদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার মানুষ-জন হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে সকাল থেকেই বের হয়েছেন। সপ্তাহে শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় স্বাভাবিক নিয়মেই সবাই বাজার সদাই করতে বের হয়েছেন।
এদিকে আগের দুই দিনের তুলনায়  সড়কে যেসব স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে সেগুলোতেও একটু ঢিলেঢালা থাকতে দেখা গেছে। আবার কিছু স্থানে থাকা চেকপোস্ট আগের মতো কঠোর অবস্থানে রয়েছে। উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর খিলক্ষেত বাড্ডা রামপুরা পর্যন্ত সড়কের পাশে পাঠাও রাইড শেয়ার চালকদের যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যদিও পাঠাও অ্যাপ বন্ধ রয়েছে তবুও মোটরসাইকেল নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় ঝুঁকি নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছেন।  
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের তৃতীয় দিন চলছে। অন্যদিকে আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ দুটোর আমেজে রাজধানী ঢাকার রাস্তা আজ ফাঁকা। গত দুইদিনের তুলনায় রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। আর আজ যারা ঘর থেকে বের হয়েছেন, তাদের অধিকাংশই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে বাসায় ফিরছেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গিয়ে দেখা গেছে, শুধু পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ ভ্যান এবং প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাস চলাচল করতে দেখা গেছে। তাও সংখ্যায় খুব বেশি নয়। মাঝে মাঝে দু-একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশাও দেখা যাচ্ছিল। মহাসড়কে চোখে পড়ছে ব্যাটারিচালিত ও পায়ে চলা রিকশা। পায়ে চলা রিকশার প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কিছুটা শিথিল হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা পেলেই আটকে দেয়া হচ্ছিল। রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণ পাশে একসঙ্গে চারটি ব্যাটারিচালিত রিকশা উল্টো করে রাখতে দেখা গেছে।
রাজধানীর বেশকিছু জায়গায় জনসমাগম ঠেকাতে দেওয়া হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড। রাজধানীর গেন্ডারিয়া, স্বামীবাগ, ওয়ারি, নারিন্দা, সেগুনবাগিচা, তেজগাঁও, কারওয়ান বাজার এলাকা ঘুরে এসব দৃশ্য নজরে পড়েছে।  বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে রাস্তা। স্থানীয় বাসিন্দা হাসিবুল হক বলেন, পুলিশই এ ব্যারিকেড দিয়েছে বলে শুনেছি। এটা আসলে সমস্যা বাড়াচ্ছে। কারণ আমরা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাজার করতে পারছি। সেই বাজার নিয়ে বাসায় ফেরাটা কঠিন হয়ে পড়ে।
আরেক বাসিন্দা নিলুফার জাহান বলেন, মানুষকে আসলে নিজেরই সচেতন হতে হবে। কারণ করোনা একা আসে না। সেজন্য এ লকডাউনটা জরুরি ছিল। কিন্তু আমরা যারা মধ্যবিত্ত তাদের অর্থনৈতিক দিকটাও সরকারকে ভাবতে হবে।
টিকাটুলির রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে দিয়ে নারিন্দামুখী রাস্তাটি ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ। সেখানে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) জানান, পথচারীদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে কেন তারা ঘর থেকে বের হয়েছেন। যদি সন্তোষজনক উত্তর না পাই, তাদের ঘরে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। আর ব্যারিকেড দেওয়া হচ্ছে যাতে মানুষ অযথা গাড়ি নিয়ে চলাফেরা করতে না পারেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ