শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

নিয়মনীতি মানার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চরম অবজ্ঞায় বেপরোয়া সংক্রমণ

মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : দেশে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে। দেশে গত শনিবার (১০ এপ্রিল) ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুতে এটা অতিতের রেকড ভেঙ্গেছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৯শতাংশ। এর আগে ৮ এপ্রিল মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ৭৪ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৬৬১ জনে। ওইদিন নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৩৪৩জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত ৬ লাখ ৭৮হাজার ৯৩৭জনে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ বেড়েছে। গত ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত মোট ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়। আর ৪ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল- এই ৭ দিনে মারা গেছেন ৪৪৮ জন। একদিকে করোনার বেপরোয়া সংক্রমণ ও মৃত্যু, অপরদিকে এই সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের দেওয়া নিয়মনীতি মানার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের চরম অবজ্ঞার কারণে সর্বাত্মক  লকডাউনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
এর আগে গত ৮ এপ্রিল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত  দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষকে বাঁচানোর জন্য ভবিষ্যতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিসিএস কর্মকর্তাদের ৭১ তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর পরের দিন ৯ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন দেওয়ার কথা চিন্তা করছে সরকার। তিনি বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। সঙ্গে বাড়ছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা। এমতাবস্থায় সরকার জনস্বার্থে আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তা-ভাবনা করছে। তিনি বলেন, গত সোমবার থেকে চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনে জনগণের উদাসীন মানসিকতার কোনও পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না। উল্লেখ্য, সরকার ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছিল সরকার।
একই দিনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানান, গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময়ের মতো কঠোর লকডাউন আসছে ১৪ এপ্রিল। ওইদিন থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হবে। এ সময় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের সরকারি অফিস আদালত বন্ধ থাকবে। করোনা সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যাওয়ায় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই এক সপ্তাহ মানুষ পুরোপুরি ঘরে থাকবে। তিনি বলেন, ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য আমরা কঠোর লকডাউনে যাচ্ছি। এটি হবে পরিপূর্ণ-কমপ্লিট লকডাউন। যেখানে মানুষজন সকলেই সহযোগিতা করবেন। বাসায় থাকবেন, বাইরে যাবেন না। চলাফেরা থেকে প্রত্যেক ক্ষেত্রেই সংযত আচরণ করতে হবে। পাবলিক লকডাউনের মধ্যে কোনও অফিস-আদালত খোলা থাকবে না। জরুরি সেবা ছাড়া সবকিছুই বন্ধ থাকবে। আমরা চাইবো এক সপ্তাহ মানুষ সম্পূর্ণ ঘরে থাকবেন। সেভাবে প্রস্তুতি নিয়ে কঠোর লকডাউন আমরা মেনে চলবো।
এর আগে সরকার গত ৫ এপ্রিল এক সপ্তাহের জন্য গণপরিবহন, শপিং মল, বিনোদন কেন্দ্রসহ সবকিছু বন্ধ রাখাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু বিধিনিষেধ কার্যকরের দুই দিনের মাথায় গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন সেবা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে শুক্রবার থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত দোকানপাট, শপিং মল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
জানা গেছে, স্বাস্থবিধি মানাসহ অন্যান্য বিধিনিষেধের প্রতি জনসাধারণের অবহেলায় খুবই ক্ষুব্ধ সরকারের নীতিনির্ধারকরা। গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া ১৮ দফা নির্দেশনা জনসাধারণ মানেনি। নানাভাবে আনুনয় বিনয়ের পরেও মুখে মাস্ক পরানো যায়নি। ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ এখনও মাস্ক থুতনিতে ঝুলিয়ে রাখেন। পুলিশ দেখলে মুখে তোলেন। ১৮ দফা নির্দেশনা মেনে চলতে পারলে সংক্রমণের হার নিচের দিকে নামতো। বাধ্য হয়ে সরকার ৫ এপ্রিল থেকে সাত দিনের জন্য গণপরিবহন, শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ রেখে অফিস আদালত সীমিত পরিসরে খোলা রেখে কঠোর নির্দেশনা বা আংশিক লকডাউন দিতে বাধ্য হয়। তবে এই ১০ দফা নির্দেশনা বা আংশিক লকডাউন দেওয়ার দুই দিন যেতে না যেতেই বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে বাধ্য হয় সরকার।
৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়া আদায় ছাড়া কোনও শর্তই বাস্তবায়ন হয়নি গণপরিবহনে। পরের দিন নৌপথে চলাচলের জন্য নৌযান খুলে দেওয়া হলো। সেখানেও বাড়তি ভাড়া আদায় ছাড়া কার্যকর হয়নি কোনও শর্ত। এর পর ব্যাপক দাবি ও বিক্ষোভের মুখে খুলে দেওয়া হলো শপিংমল ও দোকান পাট। রাস্তায় নামলো সাধারণ মানুষের ঢল। ঈদের জন্য জামা-কাপড়ের নতুন ডিজাইন দেখতে, বাজারের অবস্থা বুঝতে মানুষ ছুটতে লাগলো শপিংমলের দিকে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। একদিকে রাস্তায় মানুষের ঢল, অপরদিকে প্রতিদিন করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর প্রতিযোগিতা পাল্লা দিয়ে যেন বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার বাধ্য হয়ে ১৪ এপ্রিল থেকে আপাতত সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশানুরূপ ফল না মিললে সময়সীমা বাড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এবারের সাত দিনের লকডাউনে মানুষ যে যেখানে আছেন, সেখনেই থাকবেন। কেউ কোনও অজুহাতেই এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে পারবেন না। সরকারি-বেসরকারি স্বায়ত্বসাশিত আধা স্বায়ত্তশাসিত সব ধরনের অফিস-আদালত ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। চলবে না কোনও গণপরিবহন। বন্ধ থাকবে প্রাইভেট গাড়ি, লঞ্চ, ট্রলার জাহাজসহ কোনও প্রকার যানবাহন। এমনকি রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা ইত্যাদিও বন্ধ রাখার পরিকল্পনা চলছে। এই সময় বন্ধ রাখতে হবে সব রকমের নির্মাণ কাজ। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত ওষুধ সংগ্রহ বা রোগী হাসপাতালে নেয়া ছাড়া সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না। লাশ দাফন বা সৎকারে থাকবে না কোনও বিধিনিষেধ। তবে জরুরি প্রয়োজনে নদীতে চালু রাখা হবে ফেরি চলাচল। সেবাদানের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন ফায়ার সার্ভিস খোলা থাকবে। খোলা থাকবে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ওষুধের দোকান। দিনে খুবই সীমিত সময়ের জন্য খোলা থাকবে কাঁচাবাজার। তবে সেখানে মানতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। লাইন ধরে তিনফুট দূরত্ব বজায় রেখে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য কিনতে হবে। পুরোপুরি বন্ধ থাকবে সব ধরনের শিল্পকারখানা, গার্মেন্টস। সব কিছুই লকডাউনের আওতায় থাকবে। সংক্রমণ রোধে প্রত্যেক মানুষকে এই লকডাউন মানতে হবে।
এদিকে গত শনিবার ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুতে এটা রেকর্ড। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ৮ এপ্রিল মৃত্যুর রেকর্ড ছিল ৭৪ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৯ হাজার ৬৬১জনে। নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৩৪৩জন। মোট শনাক্ত ৬ লাখ ৭৮হাজার ৯৩৭জনে দাঁড়িয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৩৭ জন এবং এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৭২হাজার ৩৭৮জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে আরো জানানো হয়, ২৪৩টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫হাজার ১৮৫টি নমুনা সংগ্রহ এবং ২৬হাজার ৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪৯শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৪ দশমিক ৩০শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪২শতাংশ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ বেড়েছে। গত ২৮ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্ত মোট ৩৪৪ জনের মৃত্যু হয়। আর ৪ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল- এই ৭ দিনে মারা গেছেন ৪৪৮ জন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছিল। গত বছরের ৩০ জুন দিনে মৃতের সংখ্যা ৬৪ জনে ওঠে, যা ছিল ওই বছরের সর্বোচ্চ সংখ্যা। এরপর ধীরে ধীরে সংক্রমণ কমতে থাকে, নভেম্বর ডিসেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও জানুয়ারি থেকে তা কমতে কমতে মার্চের শুরুতে তা ৫ জনেও নেমে এসেছিল।
কিন্তু এরপর আবার বাড়তে থাকে সংক্রমণ, সেই সঙ্গে মৃত্যুও। কয়েকদিনের মধ্যেই দৈনিক মৃত্যু ৫০ ছাড়িয়ে যায়। ১ এপ্রিল ৫৯ জনের মৃত্যুর খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ৬ এপ্রিল আগের রেকর্ড ভেঙে ৬৬ জনের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে এই সংখ্যা ৬০ এর নিচে আর নামেনি। ৮ এপ্রিল ৭৪ জনের মৃত্যু ঘটলে নতুন রেকর্ড হয়, শনিবার তাও ছাড়িয়ে গেছে।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে ঢাকা বিভাগে, শতকরা হার ৫৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। ময়মনসিংহ বিভাগে সবচেয়ে কম ২ দশমিক ১৫ শতাংশ রোগী মারা গেছেন। গত এক সপ্তাহে ২ লাখ ২০ হাজার ৮২৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। এক সপ্তাহে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা মোট ৪৮ হাজার ৬৬০ জন। এই সংখ্যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুস্থও হয়েছে বেশি রোগী। সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, জনগণের সচেতনতার অভাব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে উদাসীনতাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বাজার ও গণপরিবহণ থেকে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকি। আইইডিসিআরের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাজার ও গণপরিবহণ থেকে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে ৬১ শতাংশ। অন্যদিকে জনসমাগমস্থল থেকে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি শতকরা ৩৫ ভাগ। আইইডিসিআর জানায়, গত ৫ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট হাজার করোনা রোগীর তথ্য পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে রাজধানীর দুই থানা এলাকায় করোনাভাইরাসের সর্বাধিক সংক্রমণের তথ্য পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এই দুই এলাকা হচ্ছে মিরপুরের রূপনগর এবং মোহাম্মদপুরের আদাবর থানা । শনিবার এই সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। সেখান থেকে আরও জানা যায়, এই দুই থানা এলাকা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া আরও ১৭টি থানা এলাকার করোনা শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের ওপরে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে ঢাকায় রূপনগর থানা এবং আদাবর থানা সবচাইতে ঝুঁকিপূর্ণ থানা, যাদের করোনা শনাক্তের হার সর্বাধিক। রূপনগরে ৪৬ শতাংশ এবং আদাবরে ৪৪ শতাংশ।
আইইডিসিআর’র কর্মকর্তারা জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আরও জানা যায়, ঢাকার আরও ১৭টি থানার করোনা শনাক্তের হার ৩০ শতাংশের ওপর অবস্থান করছে। ২৩টি থানায় ২০ শতাংশের ওপরে এবং ৭টি থানায় ১১ শতাংশের ওপরে শনাক্তের হার আছে। ১১ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে আছে তেজগাঁও, উত্তরা পশ্চিম থানা, ভাষানটেক, গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এবং বিমানবন্দর থানা এলাকা।
২১ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে আছে শাহবাগ, বংশাল, লালবাগ, শাহজাহানপুর, রমনা, কামরাঙ্গিরচর, শ্যামপুর, বাড্ডা, বনানী, উত্তরখান, শেরে বাংলা নগর, সূত্রাপুর, যাত্রাবাড়ী, পল্লবী, কাফরুল, ডেমরা, ওয়ারী, ভাটারা, দক্ষিণ খান, খিলক্ষেত, কদমতলি, উত্তরা পূর্ব থানা, পল্টন থানা এলাকা। ৩০ শতাংশের ওপরে আছে রূপনগর, আদাবর, শাহ আলী, রামপুরা, তুরাগ, মিরপুর, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, মুগদা, গেন্ডারিয়া, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, নিউমার্কেট, চকবাজার, সবুজবাগ, মতিঝিল, দারুসসালাম, খিলগাঁও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে যে কয় ধরনের ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে তার মধ্যে ইউকে এবং সাউথ আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট উচ্চ সংক্রমণের অন্যতম কারণ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ