বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

কঠোর লকডাউনেও শিল্পকারখানা চালু রাখতে চান উদ্যোক্তারা

স্টাফ রিপোর্টার: দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকখাতসহ বস্ত্রখাতের অন্যান্য সহযোগী শিল্পসমূহকে লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন এ খাতের শিল্পোদ্যোক্তারা। অর্থাৎ কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও কারখানা খোলা রাখতে চান তারা।
গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে পোশাকখাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমইএ ও ইএবি’র এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, পোশাক কারখানা লকডাউনের আওতার বাইরে না রাখা হলে রপ্তানি বাজার হারাবে বাংলাদেশ। এছাড়া শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে সংকট তৈরি হতে পারে।
বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, এফবিসিসিআইএয়ের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এফবিসিসিআইএয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও ইএবি’র সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শিদী, বিজিএমইএ’র নব-নির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান, বিকেএমইএ’র সভাপতি সেলিম উসমান, প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ফয়সাল সামাদ, সহ-সভাপতি এম এ রহিম ফিরোজ প্রমুখ।
সাংবাদিক সম্মেলনে উদ্যোক্তারা বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণে আমাদের সমন্বয়ের অভাব নেই। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রেখেছি।
কয়েকটি জরিপের উদ্বৃতি দিয়ে তারা বলেন, সেন্টার ফর বাংলাদেশ, ইউকে বার্কলি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ মতে, ৯৪ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন, তারা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গাইডলাইন বিষয়ে সচেতন। ৯১ দশমিক ৪২ শতাংশ শ্রমিক বলেছেন, কারখানা থেকে তাদের কোভিড-১৯ মোকাবিলায় ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে।
ইউরোপ, আমেরিকা, প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বে অনেক উন্নত রাষ্ট্রে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও সেখানে শিল্প-কলকারখানা চালু রয়েছে উল্লেখ করে বিজিএমইএর নব-নির্বাচিত সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‌জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্বার্থে, শিল্প-কলকারখানাকে লকডাউনের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানাই। শ্রমিকরা কারখানার মধ্যে থাকলে সংক্রমণ হার কমবে। শ্রমিকেরা কারখানা সংলগ্ন স্থানেই থাকেন। সেক্ষেত্রে কারখানা চালু রাখা যেতে পারে। এটা নাহলে রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়তে হবে। আবার বিশ্ববাজারও হারাতে হবে।
মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, লকডাউন ঘোষণা হলে রপ্তানি পণ্যের সঠিক সময়ে শিপমেন্ট (জাহাজীকরণ) নিয়েও শঙ্কা তৈরি হবে। অনেক শিপমেন্ট বাতিল হয়েও যেতে পারে। তখন ওইসব পণ্য হ্রাসকৃত দামে বিক্রি করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে তা স্টকও (মজুদ) হয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় বিশেষ ব্যবস্থায় শিপমেন্ট চালু রাখার দাবি জানাই।
সালাম মুর্শেদী বলেন, আমাদের জাতীয় শিল্প পোশাকখাত হলেও আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হয়। লকডাউনে কারখানা বন্ধ থাকলে রপ্তানি হবে না, এতে বাজার হারাতে হবে। কারণ প্রতিযোগী ভারত-ভিয়েতনামের কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত আছে। জীবন থাকলে অনেক কিছুই হবে আবার জীবিকারও প্রয়োজন আছে। সামনে ৩ মাসের মধ্যে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এখানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে হবে। কারখানা বন্ধ থাকলে আমাদের বেতন-বোনাস ভাতা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হবে। তাই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে চাই।
বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ২০১৮-২০ অর্থবছরে আমরা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হারিয়েছি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় রপ্তানি হারিয়েছি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিশেষ করে ওভেন খাতে রপ্তানি সংকট চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ সময়ে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ। শুধুমাত্র মার্চ মাসে তার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ২৪ দশমিক ৭০ শতাংশ।
করোনায় গত বছরের রপ্তানি আদেশ বাতিলের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২০ সালের এপ্রিলের শেষ নাগাদ আমাদের ১১৫০টি সদস্য প্রতিষ্ঠান ৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারের কার্যাদেশ বাতিলের শিকার হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় সারা বিশ্বজুড়ে গৃহীত লকডাউন পদক্ষেপের কারণে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পোশাকের খুচরা বিক্রি কমছেই। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে ইউরোপের খুচরা বাজারে বিক্রি কমেছে ২৮ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে কমেছে ১৬ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে আমাদের পোশাকের ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ শতাংশ হারে দরপতন অব্যাহত আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ