সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

কবিতা

মানব জমিন

হাসান আলীম

 

মানব জমিন পতিত রইলো

আবাদ করলে ফলতো সোনা,

ও মনা,

তুই সারা জনম কাটাই দিলি

ঘুরে ফিরে নষ্ট করলি কাঁচা সোনা

তুই সময় করে সময় দিলি না

ও মনা।

 

তোর ঘরের বেড়ায় উইঁ লেগেছে 

কাঠের খামে ঘুণ ধরেছে 

তাও তোর হুশ হলো না

ও মনা।

 

চারদিকে তুই তাকিয়ে দেখরে 

চক্ষু কর্ণ খুলে রাখরে

আছে তোর কয়জনা,আপন জনা,

ও মনা!

 

সুখসাঁতার

শাহ আলম বাদশা

 

বিন্দুতে সিন্ধুই তুমি, সাগর অতল--

সাঁতারে-সাঁতারে করি পান মিঠেজল।

কখনো বহাও কী যে লবণ-সাগর

দেখাও কখনো বিষ, সাপের বহর!

তবুও সাঁতার কাটি, ফেনিল ছোঁয়ায়

অনিন্দ্য জল তো আহা হৃদয় ধোঁয়ায়।

শাখা-প্রশাখায় তুমি হয়ে যাও নদী-

কোটিকোটি বছর যে চলো নিরবধি।

 

তোমার বুকের শান্তি-সুখের বিলাস

বিবর্ণ পৃথিবী করে শ্যামল-সবুজ;

কখনো উত্তাল তুমি, ফেলে দাও লাশ

ফেনিল জোয়ারে হও কেন যে অবুঝ?

পাগল সাঁতারু চায় সুখের সাঁতার--

তোমার দিকেই ছোটে কাতারে কাতার!

 

হলদে পাখির আমন্ত্রণে

এম.এ. শিকদার

 

নিঝুম গহীন অন্ধকার রাতে,

চারদিকে কোথাও নেই কোলাহল,

প্রকৃতি ও বেশ নিরব।

এমন সময়, এক হলদে পাখি এলো

শিয়রের কাছে,

এসে বলল,ওহে নির্ঘুম তিমির রাতের প্রহরী,

চলো,আমরা ঘুরে আসি নদীর পাড় কিংবা পাড়ায়

বেশ মজা পাবে তুমি,  এই সময়ে! 

চারদিকের পরিবেশ খুবই শান্ত;

কোনো শব্দ নেই,

ঘুমপরীদের দেশে চলেছে সবাই

চলো, তোমার সাথে ঘুরে

একটু হলেও প্রাণে স্বস্তি পাবো। 

অবশেষে তার দরদ মাখা আমন্ত্রণে

ঘুরতে চললাম তিমির রাতে। 

 

শিমুলের রং

শিমুল হোসেন 

       

প্রকৃতির জানালায় এসেছে বসন্ত

চিত্ত দোলে হাওয়ায়,

সুদর্শন শিমুলের রঙ ঝরে পড়ে-

এপাড়ায়-ওপাড়ায়।

 

রক্ত লালে লাল শিমুলের ডাল

সবুজ করেছে ম্লান,

প্রকৃতি তার অনিন্দ্য সবুজ লুকিয়ে

রক্ততে করেছে স্নান।

 

আশিক

শঙ্খশুভ্র পাত্র

 

কেবল ইমেল চিনি ? মিলমিশ ?  তা-ও নয় ঠিক । 

ঠিকানা অতীতে ছিল ।  আজও আছে । স্নিগ্ধ সমকাল

এসেছি ।  গ্রহণ করো ।  ভালোবাসা, কোমল,আশিক...

তুমি না মেলালে মন, ছন্দে আমি পুরো বেসামাল

 

টলোমলো পায়ে হাঁটি ।  খাঁটি কথা ।  অবুঝ প্রণয়

সবুজে কি ঝড় তোলে  জেনেছে শিশির,অবশেষে । 

রৌদ্রকণা, ছায়াবেশ এ সবের মুগ্ধ অভিনয়

কেমন বিবশ করে মিশে যায় ফড়িঙের দেশে

 

বুঝি সে সহজ প্রাণ, মর্মমূলে বিঁধে আছে, ঘাস

এতটা আশিক তুমি, ভালোবাসা, মনের আকাশ...

 

রক্তজবা

শেখ ফয়জুর রহমান

 

আমার বুকপকেটে যে রক্তজবা ছিল

তা শুকিয়ে গেছে রোদের প্রখরতায় ,

মিশে গেছে আমার একমুখী চাওয়া ।

 

যে বসন্তে কোকিলার সুর ছিল না

সে বসন্তে ফুলগুলোও ছিল নির্জীব

আর পোকায় খাওয়া।

 

তার আগমনের অপেক্ষায় ছিল

ব্রহ্মপুত্রের নদ আর একটা শালিক পাখি ।

 

সে আসলো না বলে একদিন বিরহ বেদনায়

খসে গেল একটা তারা 

মরে গেল শুকনো বালি 

 

তাই আমি এখনও পচে যেতে পারিনি !

হৃদয়ের পদাবলি

পারভেজ হুসেন তালুকদার 

 

মনের দেশের সিংহাসনটা

সে ত আজো খালি পড়ে আছে,

শুধু তোমার জন্য।

 

তুমি কি আর আসবে না

ভুলে গেছো, তাই না

কিন্তু আমি

আজো পথটি চেয়ে থাকি।

 

জানো

তোমার বলা সেই কথাটি

প্রতিদিন হৃদয়ের ঘন্টা বাজিয়ে যায়।

 

সেই নির্জন গাছতলা

সেখানে একা একা দাঁড়িয়ে থাকি

কই তুমিও  তো আসো না।

 

যেখানেই থাকো না কেনো

আমার ভালোবাসা তোমার সাথেই থাকবে।

ভালো থাকো প্রিয়া।

 

প্রতিবাদহীন 

ওলি মুন্সী

 

আমার জ্বিহবার পাপে প্রতিবাদ করেনি ঠোঁট

আমার হাতের পাপে প্রতিবাদ করেনি অনুভব

আমার চোখের পাপে প্রতিবাদ করেনি আলো

আমার কর্ণের পাপে প্রতিবাদ করেনি প্রাচীর

আমার পায়ের পাপে প্রতিবাদ করেনি পথ

আমার নাকের পাপে প্রতিবাদ করেনি হাওয়া

আমার মনের পাপে প্রতিবাদ করেনি বিবেক

মুলত আমার আমিত্বে প্রকৃতি কখনো

বন্ধু হতে পারে না।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ