সোমবার ২৫ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

  আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত মিয়ানমারের জান্তা সরকার দমন-পীড়নে সবচেয়ে সহিংস দিন

৪ মার্চ, রয়টার্স : মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উপপ্রধান সোয়ে উইনের সঙ্গে কথা বলেছেন দেশটিতে নিযুক্ত জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার। এ সময় তিনি সামরিক অভ্যুত্থানের পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করলে সোয়ে উইনের জবাব ছিল, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞায় অভ্যস্ত এবং আমরা টিকে আছি।’

সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে বা একঘরে করে দেয়, তাহলে তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত আছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। গত বুধবার জাতিসংঘের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা বিষয়টি জানান। দেশটিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের ওই কর্মকর্তা। 

মিয়ানমারে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার বলেন, মিয়ানমারে গত  বুধবার বিক্ষোভের সময় গুলিতে ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। সামরিক অভ্যুত্থানের পর চলমান বিক্ষোভে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে সবচেয়ে সহিংস দিন ছিল এটি। আজ শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মিয়ানমার বিষয়ে ব্রিফ করবেন শ্রেনার বার্গেনার। যুক্তরাজ্যের ডাকে এদিন নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি হতে যাচ্ছে।

জাতিসংঘ দূত ক্রিস্টিন শ্রেনার বার্গেনার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর উপপ্রধান সোয়ে উইনের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। এ সময় তিনি সোয়ে উইনকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে সামরিক অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়ায় সেনাবাহিনী কিছু দেশের শক্ত পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে এবং তারা বিশ্ব সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।

জাতিসংঘ দূত বলেন, ‘তার (সোয়ে উইন) উত্তর ছিল, ‘‘আমরা নিষেধাজ্ঞায় অভ্যস্ত এবং আমরা টিকে আছি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যখন সতর্ক করলাম, তাদের বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে, তার উত্তর ছিল ‘‘অল্প কিছু বন্ধুর সঙ্গেই আমাদের চলতে শিখতে হবে।’’

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দেশগুলো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও তার ব্যবসায়িক মিত্রদের চাপ দিতে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা দেওয়ার বিবেচনা করছে। এ ছাড়া মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে রাশিয়া এবং চীনের আপত্তির মুখে অভ্যুত্থানের নিন্দা জানাতে পারেনি। ঘটনাগুলোকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করে দেশ দুটি। রাশিয়া ও চীনের উদ্দেশে শ্রেনার বার্গেনার বলেন, ‘আমি আশা করি, তারা এটাকে শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে দেখবে না, এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বিক্ষোভের পরিকল্পনা আন্দোলনকারীদের : নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩৮ জন নিহতের পরদিন বৃহস্পতিবার আরও বড় পরিসরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকারীরা। সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই রাজপথে নামেন তারা। গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীরা আগের দিনের চেয়েও বড় আকারে মিছিল-সমাবেশের আয়োজন করেছেন। আন্দোলনকারীদের একজন মাউং সাউংখা বলেন, আমরা জানি যে কোনও মুহূর্তেই আমরা গুলিবিদ্ধ কিংবা খুন হতে পারি। তারপরও সামরিক জান্তার অধীনে বেঁচে থাকার কোনও মানে নেই। এ কারণেই এই পথ বেছে নিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বৃহস্পতিবার ইয়াঙ্গুনে অন্তত দুটি বিক্ষোভের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

পুলিশ-সেনা বাহিনীর এই তা-বে আহত হয়েছেন অনেকে। আটক করা হয়েছে তিন শতাধিক মানুষকে। এক মাসের চলমান বিক্ষোভে এক দিনে নিহতের সংখ্যা এটাই সর্বোচ্চ। গত এক মাসের বিক্ষোভে ৫০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা ও দেড় সহস্রাধিক মানুষকে আটক করেছে সেনা-পুলিশ।

৩ পুলিশ সদস্যে, ভারতে আশ্রয় প্রার্থনা : মিয়ানমারের তিন পুলিশ কনস্টেবল সীমান্ত পার হয়ে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে প্রবেশ করেছে। তারা মিয়ানমারের সামরিক সরকারের আদেশ মানতে নারাজ। এজন্যই তারা ভারতে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের একজন পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা এ খবর জানিয়েছে।

মিজোরামের সেরচিপ জেলার পুলিশ সুপার স্টিফেন লালরিনাওমা বলেছেন, “তারা [মিয়ানমার পুলিশের ওই ৩ সদস্য বলছে যে তারা সামরিক শাসন থেকে নির্দেশনা পেয়েছে যেগুলো তারা মানতে পারবে না, তাই তারা পালিয়ে এসেছে।” তিনি জানান, মিয়ানমারের ওই তিন ব্যক্তি বুধবার স্থানীয় সময় বিকালে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ