বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

কুমারখালীর দুইটি তিন গম্বুজ মসজিদ ঐতিহ্যের সাক্ষী 

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : কুমারখালী উপজেলার অন্যতম প্রাচীন স্থাপনা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান শহরের তেবাড়িয়া তিন গম্বুজ জামে মসজিদ ও বানিয়াকান্দী তিন গম্বুজ শাহী মসজিদ। যা কুমারখালী তথা কুষ্টিয়া জেলার প্রাচীন মুসলিম ইতিহাস ঐতিহ্যের এক সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।

ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠান দুটি আজও দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন ইতিহাস ধারণ করে। এ যাবতকালের মুঘল আমলে নির্মিত চুন-সুড়কির সমন্বয়ে তৈরি অত্র স্থাপনা দুটি সরকারিভাবে উন্নয়ন থেকে অনেকটা বঞ্চিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মতামত দিয়েছেন। মসজিদ দুটির দেয়ালের পলেষ্টার অনেক আগেই খসে পড়েছে। অনেক স্থানে ধরেছে ফাটল। রং আর চুন দিয়ে কোনমতে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। গম্বুজগুলোও হয়ে গেছে দুর্বল। কারুকাজ আর নকশা দিনদিন হয়ে যাচ্ছে নষ্ট। 

সম্ভবত মোঘল বাদশা আওরঙ্গজেবের আমলে মসজিদটি নির্মিত হয় বলে প্রসিদ্ধ ইতিহাসবিদ খোন্দকার আবদুল হালিম তাঁর কুমারখালীর ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। দৃষ্টিনন্দন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট বানিয়াকান্দী শাহী জামে মসজিদ উপজেলার বানিয়াকান্দী গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খন্দকার বাড়িতে অবস্থিত। শাহী জামে মসজিদটি পরিচালনা করেন এই গ্রামের সম্মানিত বাসিন্দাগণ। দিল্লী জামে মসজিদের আদলে নির্মিত একটি ছোট আকারের মসজিদ এটি। 

অন্যদিকে কুমারখালী শহরের পূর্বদিকে তেবাড়িয়া এলাকায় অবস্থিত শহরের তেবাড়িয়া তিন গম্বুজ জামে মসজিদ। ১৮৮০ সালের দিকে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন তেবাড়িয়া তিন গম্বুজ জামে মসজিদ সকলের দৃষ্টি কাড়ে আজও। মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা হাজি আলিমুউদ্দিন কর্তৃক ওয়াকফ্কৃত। বিগত দিনে এই মসজিদটি নিয়ে অনেক ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে মসজিদের পাশে নতুন একটি ঈদগাহ নির্মিত হওয়ায় আকর্ষণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। মসজিদের সামনে বিশাল দীঘির সান বাঁধানো ঘাট আরামের জায়গা হিসেবে খ্যাতি পাচ্ছে। মসজিদ দুটির প্রতিষ্ঠাতার বংশধরেরা বর্তমানে মোতাওয়াল্লি হিসেবে পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে দুর-দুরান্ত থেকে অনেকেই মসজিদটি পরিদর্শনে আসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ