রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ময়নার নতুন স্কুল

মেহেরুন ইসলাম: ময়নার বাবা মেডিকেল অফিসার। তার প্রথম পোস্টিং খাগড়াছড়ি ছিল। কয়েকবছর ওখানে  কাজ করে নিজের এলাকায় চলে আসেন। কিন্তু নিজের এলাকায় বেশিদিন থাকা হলো না। কোনো নোটিশ ছাড়াই  ঢাকা মেডিকেলে তার পোস্টিং হয়। সে অফিসে কথা বলেও কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি। অফিসিয়াল সমস্যার জন্যই তাকে ঢাকায় ট্রান্সফার করা হয়।

বাবার ট্রান্সফারের কথা শুনে ময়নার মনটা খুব খারাপ। তার গ্রাম ছেড়ে যেতে একটুও মন চাইছে না। সারাদিন মন খারাপ করে পুকুরপাড়ে বসে ছিল। কারো সাথে খেলতেও যায়নি। তার বন্ধুদেরও মন খারাপ। ময়না তাদের ছেড়ে চলে যাবে ওরা মানতেই পারছে না। ময়না ছাড়া ওদের খেলার আসর জমে না।

রাতে মোমেন সাহেব বাসায় ফিরেন। ময়নার মা টিকিট কেটে আসছি। কাল সকালেই আমরা ঢাকা যাচ্ছি। ময়না ঘুমের ভান করে জেগে আছে। বাবা মায়ের সব কথা শুনছে সে।

ময়নার স্কুলে কথা বলেছো?

হুম, ওটা নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও।

ময়না এক লাফে উঠে পড়ে।

বাবা আমরা কী আর কোনোদিন গ্রামে আসবো না?

বোকা মেয়ে, আসবোতো।

ছুটি পেলেই চলে আসবো।

তুমি ঘুমাওনি কেন?

বাবা আমার ঘুম আসছে না। জুঁই, বেলি, রিতু, রিহান, সাদ সবাইকে ছেড়ে যেতে আমার খুব কষ্ট হচ্ছে বাবা।

পাগলী মেয়ে, কাঁদে না।

ঢাকাতে তুমি অনেক বন্ধু পাবে। তোমার ঢাকার বন্ধুরাও খুব ভালো। আর ঢাকাতো খুব মজার জায়গা।

কে বলেছে বাবা?

আমি বলছি। ঢাকায় কতোকিছু আছে। দেখেই তোমার মন ভালো হয়ে যাবে।

ঢাকায় কী আছে বাবা?

জাদুঘর, চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, বিমান, ট্রেন আরো কত কী! ছুটির দিনে তোমাকে ঘুরতে নিয়ে যাবো।

এবার খুশিতো?

ময়না মাথা নাড়লো।

তাহলে এবার ঘুমাও মামণি।

সকালে ময়না ও তার বাবা- মা ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে। বিকাল না হতেই তারা ঢাকা মেডিকেল পৌঁছে যায়। তারা মেডিকেল অফিসার কোয়ার্টারে ওঠে।

সকালে মোমেন সাহেব অফিসের উদ্দেশে বেরিয়ে যায়। আর ডলি বেগম মেয়ে নিয়ে স্কুলে যায়।  নতুন স্কুলে ভর্তি করে দেয় ময়নাকে। নতুন স্কুল, নতুন জায়গা ময়নার মন কেড়েছে। বিশাল বড় স্কুল দেখেই সে খুশিতে আত্মহারা।

নতুন স্কুলে সবার সাথে পরিচিত হলো ময়না। তার শিক্ষকরাও খুব ভালো, আন্তরিক। প্রথমদিন ভালোই কাটলো।

দুই-তিন দিন হয়ে গেল। তবুও ময়নার সাথে কেউ ভালোভাবে মেশে না। ময়নার আর এ স্কুল ভালো লাগছে না। তার গাঁয়ে ফিরতে মন চাইছে। মিস করছে তার প্রিয় বন্ধুদের।

ময়না অনেক মেধাবী। সব ক্লাসেই পড়া পারে সে। শিক্ষকদের প্রিয়মুখ কিন্তু শিক্ষার্থীরা তার সাথে হিংসা করে। কেউ তার সাথে মেশে না, কথাও বলে না।

টিফিনের সময় ময়না চুপচাপ ক্লাসরুমে বসে আছে। অথচ সবাই খেলছে, হৈ-হুল্লোড় করছে। এ বিষয়টা তার এক শিক্ষক খেয়াল করলেন।

ময়না তুমি একা বসে আছো কেন?

স্যার আমার ভালো লাগছে না।

কেন ময়না? তোমার কি মন খারাপ?

হা স্যার।

কেন তোমার মন খারাপ আমাকে একটু বলো।

জানেন স্যার ক্লাসের কেউ আমার সাথে মেশে না, ওরা আমাকে খেলতেও নেয় না।

ও, আচ্ছা। মন খারাপ করো না। আমি ওদের বলে দেবো। তোমার সাথে সবাই মিশবে।

টিফিন শেষে সবাই ক্লাসে ফিরলো। স্যারও ক্লাসে এলেন।

তারপর ময়নাকে সামনে ডাকলেন।

তোমরা সবাই একে চেনো?

চিনি স্যার।

তাহলে ওর সাথে মেশো না, খেলতে নাও না কেন?

সবাই চুপ, কেউ কিছু বলছে না।

সবাই চুপ করে আছো কেন? কথা বলো।

এটা কি তোমরা ঠিক করছো?

না, স্যার। আমাদের এটা করা উচিৎ হয়নি।

ময়না তোমাদের নতুন বন্ধু। ও ওর সব বন্ধুদের ছেড়ে তোমাদের কাছে আসছে। এমনিতেই ওর মন খারাপ, তারপরে তোমরা যদি না মেশো, ওর সাথে না খেলো তাহলে কি ওর ভালো লাগবে?

লাগবে না। তাই আজ থেকে তোমরা ওর সাথে মিলেমিশে থাকবে।

সবাই এসে ময়নাকে ঘিরে ধরলো।

আমরা তোমার বন্ধু হবো।

ময়না হাসিমুখে বলবো, আজ থেকে আমরা সবাই বন্ধু। একসাথে পড়বো, খেলবো আর খুব খুব মজা করবো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ