রবিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
Online Edition

ফুলপাখির গানে মুখরিত ফালগুন

হাসান মাহমুদ: কাব্যিক ও রোমান্টিক মাস হিসেবে ফালগুন বেশ পরিচিত। ফালগুন বসন্তের আগমন সাদরে গ্রহণ করে। ফালগুনে পাখিদের মিষ্টি গানে মুখরিত থাকে চারদিক। কোকিলের গানে বসন্ত ঋতুরাজের মনোলোভা সকালের ফুল ফোটার দৃশ্য মনে সঞ্চারিত করে তুমুল প্রেম। ফালগুন চিত্তে ফোটায় প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। সব মিলিয়ে ফালগুন মাসে নতুন আবহ দোলা দেয় মনে। ফালগুনে শীতকাল শেষ হয়ে আসে। গরমের তেমন উষ্ণতা থাকে না। শহরে শীতের তীব্রতা একদম কমে আসে। শীত তেমন একটা থাকে না বললেই চলে। না শীত, না গরমের তীব্রতা দেখা যায়। এক  রোমান্টিক আবহ বিলায় ফালগুন। শীত ও বসন্তের অপরূপ মিলনে প্রকৃতি অন্যরকম সাজে মন হিল্লোলিত করে। কবি ফালগুনের নানা রূপে তন্ময় হয়ে কাব্যের পশরা সাজান এভাবে ফুল পাখির গানে/ মুখরিত পাখি ফালগুনে। কবির কাব্যে ফুল, পাখি, পাখির গানের দৃশ্য চিত্রায়িত হয় ফালগুন ও বসন্তকে উপজীব্য  করে। ফালগুন মাস উৎসব আয়োজনের মাস। ঋতুবৈচিত্র্যের মাঝে ফালগুন অনন্য। সেজন্য ফালগুন মাসে সারাদেশ নানা আয়োজনে মুখরিত থাকে। একুশে বইমেলা ফালগুন মাসে হয়ে থাকে। ফালগুন বিপুল ঐশ্বর্য ও প্রকৃতির রূপময়তা নিয়ে হাজির করে বসন্ত। বসন্তের রঙে প্রকৃতি সাজে  অপরূপ হয়ে। বসন্তে গাছে গাছে নতুন ডালপালার কচি কচি শাখা দেখা যায়। পত্র-পল্লব নতুন হয়ে গাছে গাছে পাতাঘ্রাণে শোভা পায়। বসন্ত হৃদয়ের ফলগুধারায় বিচিত্র দৃশ্যপট অবলোকন করায়। বসন্ত মেলে দেয় তার রূপের পেখম। বসন্তের রূপবিভায় শুধু কবি সাহিত্যিক নয় সকল শ্রেণি পেশার মানুষ বসন্তের রূপে মেতে ওঠে। বসন্তে প্রকৃতি উদার হয়ে ওঠে। কোকিলের গান ভ্রমরের গুঞ্জন বিভোর করে তোলে বসন্ত ঋতুকে। বসন্তে কি সুললিত ঝরাপাতার মর্মর ধ্বনি শোনা যায়। দেখা যায় ফুল-ফাগুনে সুরভিত মৌ-ঘ্রাণ। বসন্ত তুলে হৃদয়ে তুমুল অনুরণন। ফালগুনে নানা রঙের ফুল ফোটে। শিমুল, রক্তপলাশ, কাঞ্চন, মাধবী, পারিজাত প্রকৃতির শোভা বাড়ায়। পোলাপ, গাঁদা, ডালিয়া ফুলের সৌন্দর্যে ভরে উঠে কুসুমকানন। বসন্তে সব কিছুতেই পরিবর্তনের মাত্রা যোগ হয়। কবিরা ফালগুনকে নানান কবিতার পশরা দিয়ে বরণ করে নেন কাব্যিক মাধুর্যে। বসন্তের দখিন হাওয়া উদাসী মন চঞ্চল করে তোলে। বসন্তের পুষ্পকানন কবিদের মনে আন্দোলিত করে প্রণয়ের জোয়ার। কুসুমকানন-জুড়ে প্রস্ফুটিত ফুল দেখে কবিরা মুগ্ধ হন। কাজী নজরুল ফালগুন ও বসন্তের রূপময়তা দেখে লিখেন। ফুল ফাগুনের এল মরম, বনে বনে লাগল দোল, কুসুম সৌকিন দখিন হাওয়ার, চিত্ত গীত উতরোল, অতনুর ঐ বিষমাখা শর, নয়  দোয়েল শ্যামার শিস, ফোটা ফুল উঠল ভ‘ওে,কিশোরী বনের নিচোল, রাঙা ফুলে ফুল্ল আনন, দোলে কানন-সুন্দরী, বসন্ত তার এসেছে আজ, বরষ পরে পথ বিভোল। অপরূপ ফালগুন ও বসন্তের কবিতা লিখেছেন কবি কাজী নজরুল। কবিতার চিত্রপট কত সুন্দর। ফালগুন ও বসন্তের সব রূপবিভা কবিতায় নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। বসন্ত সত্যিই নতুন করে প্রকৃতি সাজিয়ে তোলে। বসন্তের সাথে যোগ হয় কবিদের আবেগ-অনুরাগের প্রণয়ের উদারতা। কৃত্রিমতা বর্জিতসাজে সজ্জিত হয় বসন্ত। বসন্তের সাজ যেন অপরূপ মাধুকরী বর্ণিল সাজ। বসন্ত প্রকৃতি মানুষের মন ও মননের খোরাক। মানুষের চিত্ত বিনোদিত করে বসন্ত প্রকৃতির নির্মল প্রাকৃতিক সাজে। বসন্তের কারণে ফালগুন উদার থাকে বসন্তজুড়ে। প্রাাণবন্ত করে তোলে বসন্ত কাব্যিক হৃদয়। হৃদয়ের যশস্বী স্বপন হযে উঠে ঋতুরাজ বসন্ত। বসন্তে ফুলের সৌরভ মৌ-ঘ্রাণে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসে। ফুলের সৌরভে বিমুগ্ধ হন কবি। স্নিগ্ধ হয় পরিবেশ। বসন্তের প্রকৃতি মানুষের মনকে নতুন করে সঞ্চারিত করে বসন্তরূপে। ফালগুনের সেরা সৌন্দর্য  বসন্ত। ঋতুরাজবসন্ত প্রকৃতির অহংকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ