রবিবার ১৮ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

জাবির হলে বাড়ছে শিক্ষার্থী চলছে প্রভোস্টদের অভিযান

মো. শামীম হোসেন, সাভার : কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে জোরপূর্বক ওঠা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ডাইনিং-ক্যান্টিনসহ অন্যান্য আবাসিক সুবিধা বন্ধের মধ্যেই হলে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের গতকাল সোমবার সকাল দশটার মধ্যে হল ছেড়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানেন নি শিক্ষার্থীরা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের বের করতে গতকাল সোমবার সকালে অভিযান চালান প্রক্টরেরা। শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা এখনো যার যার হলে অবস্থান করছেন। সোমবার সকাল সোয়া ১১টায় প্রভোস্টদের নেতৃত্বে আবাসিক হলগুলোতে অভিযান শুরু হয়। এ সময় প্রভোস্টদের সঙ্গে হলের অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা ছিলেন।
আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের প্রভোস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান অভিযান পরিচালনার সময় বলেন, ‘আমরা সরকারের নির্দেশনা জানাতে এসেছি। আইন ভঙ্গ করে হলে অবস্থান করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি, যাতে তারা আইন মেনে হল ছেড়ে দেয়।’
এক প্রশ্নের জবাবে আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যেতে পারে। গেরুয়া এলাকার বিকল্প তো হল হতে পারে না।’ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রক্টর বলেন, ‘গেরুয়া এলাকার সমস্যা নিয়ে আমরা কথা বলছি। আর আশুলিয়া থানায় মামলা করেছি আমরা।’
প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান আরো বলেন, ‘প্রত্যেক প্রভোস্ট তাঁর নিজস্ব হলে অভিযান করছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। সবাইকে অনুরোধ করছি হল ছেড়ে দেয়ার জন্য। তারপর প্রশাসনের অন্যদের সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই হল ছাড়বেন না বলে প্রভোস্টকে জানিয়ে দিয়েছেন।
প্রভোস্টের প্রশ্নের জবাবে ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের অনলাইনে ক্লাস ও পরীক্ষা চলছে। গ্রামের বাড়িতে নেট সমস্যা থাকায় ক্লাস-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায় না।’
মেহেদী আরো বলেন, ‘টিউশনি করে আমাকে চলতে হয় এবং পরিবারকেও টাকা দিতে হয়। হলের বাইরে থাকা আমার জন্য নিরাপদ নয়।’
এর আগে সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রভোস্ট কমিটির সভা শুরু হয়। ১১টায় সভা শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, ‘প্রতি হলে প্রভোস্টদের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হবে। প্রভোস্টরা শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করবেন ও বোঝাবেন, যাতে তারা আইন মেনে হল ত্যাগ করে।’
গত শনিবার শিক্ষার্থীরা হলের তালা ভেঙে হলে অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমকে সিন্ডিকেট আইনের লঙ্ঘন বলে বিজ্ঞপ্তি দেয়। রোববার রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) রহিমা কানিজ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে হল ত্যাগ করতে বলা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা হলেই অবস্থান করছেন।
এর আগে রোববার দুপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘটনার বিচারসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেবার পর শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে গেরুয়া গ্রামের ২৫০ জনকে আসামী করে আশুলিয়া থানায় মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। রাতে এ মামলা দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান চৌধুরী। সকালে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হলে শিক্ষার্থীদের অবস্থান প্রসঙ্গে হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি মোতাহার হোসেন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্বায়ত্তশাসনের মধ্যে পরিচালিত হলেও রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে হল খুলে দেয়ার সুযোগ নেই।
কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারিতে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সরকারি নির্দেশে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ও ২০২০ সালের ১৯ মার্চ থেকে ক্লাস ও হল বন্ধ রয়েছে। তবে অনলাইন ক্লাস চালু রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া বাজার এলাকার গ্রামবাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় জাবি শিক্ষার্থীরা। এতে প্রায় ৪০ জন আহত হয়। এখনো ওই এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। যেকোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে সেখানে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ