শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

বিষফোঁড়া হয়েই থাকবে 

আমেরিকার সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচার না হলে খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্টের বিচার না হলে এটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সিএনএন টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। বাইডেন আরও বলেন, ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্টের বিচার চলছে। তবে সিনেটে ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্টের বিচার চললে তা আইন সভার বিভিন্ন কাজ এবং মন্ত্রিসভা গঠন বাধাগ্রস্ত হবে।

এদিকে, সিনেটের প্রায় প্রতিটি রিপাবলিকান সদস্য সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছেন, সাবেক কোনও প্রেসিডেন্টকে ইম্পিচের জন্য বিচারের মুখোমুখি করা স্পষ্টতই সংবিধান পরিপন্থী। তাঁদের এমন ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিনেটে ইম্পিচমেন্ট সংক্রান্ত যে মোশন উত্থাপিত হয়েছে তা ব্যর্থ হবার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইম্পিচমেন্টের বিচার প্রক্রিয়া চলবে কিনা, গত ২৬ জানুয়ারি আমেরিকার কেন্টাকি রাজ্যের সিনেটের র‌্যান্ড পল এ সংক্রান্ত একটি মোশন উত্থাপন করেন। এতে  রিপাবলিকান ৫৫ সিনেটর ইম্পিচমেন্টের বিচার প্রক্রিয়ার বিপক্ষে ভোট দেন। আর পক্ষে ভোট দেন ৪৫ সিনেটর। উল্লেখ্য, ডেমোক্র্যাট সিনেটের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ৫ জন রিপাবলিকান সিনেটর। ট্রাম্পকে ইম্পিচ করতে হলে কমপক্ষে রিপাবলিকান ১৭ সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন। সুতরাং এ মোশন থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, ইম্পিচমেন্ট থেকে বেঁচে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সিএনএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ট্রাম্প যদি ছয় মাস পর বিদায় নিতেন তাহলে বিচারের ফলটা ভিন্ন হতো। ইতোমধ্যেই আলোচনা চলছে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা মাত্র একটি আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে অন্তত রিপাবলিকান ১৭ সিনেটরের সমর্থন জরুরি।

যাইহোক, নিতান্তই ভাগ্যগুণে ইম্পিচমেন্ট থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার রক্ষা পেলেও ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পারদের হামলা এবং মানুষহত্যার জন্য উসকে দিয়ে যে খারাপ নজির স্থাপন করেছেন তা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য বিষফোঁড়া হয়েই থাকবে। আর এ জন্য দায়ী থাকবেন সদ্যবিদায়ী প্রেসিডেন্ট মিস্টার ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ