রবিবার ১৮ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

সেরাম ইনস্টিটিউটে অগ্নিকাণ্ডে ৫ জনের মৃত্যু

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ভারতের পুনে শহরে অবস্থিত সেরাম ইনস্টিউটের একটি স্থাপনায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।এই প্রতিষ্ঠানেই করোনার ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড তৈরি হয়। 

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে পুনেতে সেরাম ইনস্টিউটের একটি নির্মাণাধীন ভবনে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১৫টি ইঞ্জিন তিন ঘণ্টার চেষ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কয়েক ঘণ্টা পর আবার ওই ভবনে আগুন বাড়তে দেখা যায়।

সেরাম ইনস্টিউটের সিইও আদর পূনাওয়ালা বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে এ অগ্নিকাণ্ডের কোনো প্রভাব পড়বে না। 

মহারাষ্ট্রের পুণের মঞ্জরী এলাকায় একশ একরের বেশি জায়গা জুড়ে গড়ে তোলা সেরাম ইনস্টিউট অব ইনডিয়া পুরো বিশ্বেই টিকা উৎপাদনকারী সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান।

রয়টার্স লিখেছে, অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের টিকার ৫ কোটি ডোজ সেখানে প্রতি মাসে উৎপাদন করা হচ্ছে, যার দিকে তাকিয়ে আছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু দেশ।

বাংলাদেশ সেরাম ইনস্টিউটের কাছ থেকেই তিন কোটি ডোজ টিকা কিনেছে, যার প্রথম চালান ২৫ জানুয়ারির মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা।

ভারত সরকার উপহার হিসেবে বৃহস্পতিবার যে ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে, তাও সেরাম ইনস্টিউটেরই টিকা।

আনন্দবাজার জানিয়েছে, ইনস্টিটিউটের ১ নম্বর টার্মিনালের গেটের পাশে নির্মাণাধীন একটি টিকা উৎপাদন প্ল্যান্টে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সেখানে উৎপাদন শুরু না হলেও প্রস্তুতি চলছিল।

ভবনটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দূর থেকেও সেখানে কালো ধোঁয়া দেখা যায়।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ভবনটি থেকে নয়জনকে উদ্ধার করেন তারা।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেও ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পুনের মেয়র মুরলিধর মহলের বরাত দিয়ে পাঁচজন কর্মীর মৃত্যুর খবর জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

পরে সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান আদর পূনাওয়ালা এক টুইটে এ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির কথা জানিয়ে শোক প্রকাশ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সমবেদনা জানান।  

তার আগে এক টুইটে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদনে এ ঘটনার কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য একাধিক ভবন সেখানে রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, ইনস্টিটিউটের যে জায়গায় করোনাভাইরাসের টিকা কোভিশিল্ডের উৎপাদন চলছে, সেখান থেকে ঘটনাস্থল কয়েক মিনিটের গাড়িদূরত্বে অবস্থিত।

তবে কীভাবে ওই ভবনে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কারও কারও ধারণা, নির্মাণ কাজের সময়ই কোনোভাবে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। 

ভবিষ্যতে জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে সেরাম ইনস্টিটিউটের ওই সাইটে অন্তত আটটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে টিকা তৈরির পাশাপাশি প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও থাকবে।

করোনাভাইরাসের টিকা উৎপাদেনের অগ্রগতি দেখতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত নভেম্বরে সেরাম ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন।

সেরাম ইনস্টিটিউট পোলিও, ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি, হাম ও রুবেলার টিকাও উৎপাদন করে, যা রপ্তানি হয় বিশ্বের ১৭০টি দেশে। 

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ