রবিবার ১৮ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

ইবরাহীম খলিল : জাতির জীবনে আবারো এসেছে বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস মরণপণ যুদ্ধের পর ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রহানির মাধ্যমে এ মাসেই বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়েছিল। ডিসেম্বর মাস তাই বাঙালির গৌরবদীপ্ত বিজয় ও অহঙ্কারের মাস। আজ মঙ্গলবার ১ ডিসেম্বর। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটেই তা শুরু হয়েছে।
প্রতিবারই ডিসেম্বর আসে দুর্নিবার আকাক্সক্ষার বারতা নিয়ে। আমাদের মানচিত্র, লাল-সবুজ পতাকা, নিজস্ব সত্তা-পরিচয় ও বিকাশের বীজ এ মাসেই পূর্ণরূপে অঙ্কুরিত হয়েছিল। তাইতো যখনই ডিসেম্বর আসে তখন দেশপ্রেম ও দ্রোহের ফল্গুধারায় প্লাবিত হয় গোটা দেশ। একাত্তরের এ দিন ছিল বুধবার। এবারও বিজয়ের মাস উদযাপনে বিভিন্ন সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
বিশ্লেষকদের বিবেচনায় বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক রাজনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় এ মাসে। মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়। এই ডিসেম্বরেই বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল-টানা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অসংখ্য শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় এ দেশের স্বাধীনতা।
১৯৭০ সাল পর্যন্ত আমাদের জাতীয় জীবনবোধে ইংরেজি বছরের শেষ মাসটির তেমন আবেদন ছিল না। পরের বছর ১৯৭১ সাল থেকেই এর সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে যায় বাংলাদেশের নামটি। পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ রাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখন্ড, নিজস্ব মানচিত্র, নিজস্ব প্রশাসন, স্বশাসিত রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুই যেন ডিসেম্বরের বদৌলতে। হয়তো ডিসেম্বর না হলে আমাদের স্বপ্ন কেবলই ফানুস হয়ে উড়তো। তাই তো এ মাস এলেই দেশপ্রেমিক জনতাসহ জাতীয় জীবনের সর্বত্র লাগে উদ্দীপিত আবেগের ঢেউ। এ দিনের সূর্যটাও অন্য দশটা দিনের চেয়ে একটু ভিন্ন আবেশ মাখা। নবজাগৃতির আলোকমালা। দীর্ঘ ছেচল্লিশ বছরের ব্যবধানেও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য সমুজ্জ্বল, চরম আকাক্সক্ষা ও পরম প্রাপ্তির প্রতীক মাসটি।
ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল,স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে। এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানের জেনারেল নিয়াজী। এ সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না বা থাকতে পারেননি বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানীর মতো ব্যক্তিরা।
এদিকে, মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহজাহান খান এমপির নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্য পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা ঐক্যজোট, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন আগামীকাল সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে শিখা চিরন্তন চত্বরে সমাবেশ, শ্রদ্ধা নিবেদন ও শপথ গ্রহণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সম্মিলিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এদিনই সকাল ১০টায় সেগুনবাগিচাস্থ স্বাধীনতা ভবনে সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ আজ দেশব্যাপী মুক্তিযোদ্ধা দিবস পালন করবে। এ উপলক্ষে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। এছাড়াও জাসদ ঢাকা মহানগর পশ্চিম কমিটি সকাল ৮ টায় মিরপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবরস্থানের বাইরের চত্বরে আলোচনা সভার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ