শনিবার ০৫ ডিসেম্বর ২০২০
Online Edition

করোনায় চাকরি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় খুলনার কয়েক হাজার কর্মজীবী নারী

খুলনা অফিস: খুলনার খালিশপুরে ইউনাইটেড কিডস্ স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তরুণী ফাহমিদা খাতুন। প্রত্যন্ত দাকোপ এলাকা থেকে খুলনা শহরে এসে বিএল কলেজে পড়াশুনা করতেন। সেই সাথে কিন্ডারগার্টেন স্কুলে চাকরি ও শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের খরচ উপার্জন করতেন। করোনার কারণে গত মার্চ মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে কিন্ডারগার্টেনের বেতন ও প্রাইভেট পড়ানো থেকে আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। চোখে-মুখে একরাশ হতাশা নিয়ে বললেন, ‘জীবনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিজের কাছে কিছু জমানো টাকা ছিল, সেই টাকাও খরচ হয়ে গেছে। এখন আমি কি করব বুঝতে পারছি না। বেশ কিছুদিন বাড়িতে ছিলাম, এখন শহরে এসেছি যদি কোথাও চাকুরি পাই। আমাদের মত নারী কর্মজীবীরা এখন শুধু মানুষের করুণার পাত্র।’

জানা যায়, খুলনায় ফাহমিদা খাতুনের মতো কয়েক হাজার কর্মজীবী নারী করোনাকালে কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন। নগরীর কিন্টারগার্টেন স্কুল, প্রাইভেট হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শপিংমল বিভিন্ন স্থানে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন নারীরা। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুরুষরা দ্রুত অন্যত্র কাজ খুঁজে নিতে পারলেও নারীর ক্ষেত্রে এ সুযোগ কম। ফলে এক প্রকার হতাশা ও নিরব কষ্টের মধ্যে চলছে তাদের জীবন যাপন। খুলনা বয়রা এলাকার কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলের ওয়েটার হাসিনা পারভিন বলেন, ‘আমি এই কর্মজীবী মহিলা হোষ্টেলে ত্রিশ বছর ধরে চাকুরি করছি। আমাদের এই কর্মজীবী মহিলা হোস্টেলে প্রায় দেড়শ’ জনের মত কর্মজীবী মহিলা ছিল। এখন হাতে গোনা কয়েকজন মহিলা আছে। তাছাড়া আমরা বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রানালয়ের আওতাধীন হলেও এখনো সরকারি সুযোগ সুবিধা পাই না। তাছাড়া এই করোনা ভাইরাসের মধ্যেও পাঁচ মাস বেতন পাইনি। কিভাবে আছি আমি ছাড়া কেউ বুঝবে না।’  এ ব্যাপারে খুলনা মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক নার্গিস ফাতেমা জামিল বলেন, আমরা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সংখ্যক মহিলাকে সাহায্য করেছি। যে সকল মহিলারা সাহায্য চেয়েছে তাদের আর্থিক অনুদান ও সেলাই মেশিন দেয়া হয়েছে। তাছাড়া আমাদের কাছে অনেক মহিলা সাহায্য চেয়েছে তাদের একটি তালিকা করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ