বুধবার ০৩ মার্চ ২০২১
Online Edition

নালিতাবাড়ীতে ফের বন্যার আশংকা ॥ হতাশায় কৃষক

নালিতাবাড়ী, শেরপুর : ভোগাই নদীর বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ফকিরপাড়া উরফা বেনিপুঁরিরগোপ এলাকা প্লাবিত

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা : অতি বৃষ্টির ফলে আবারও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা ঢলের পানি বাড়ছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পাহাড়ি দূরন্ত ভোগাই চেল্লাখালী ও মালিঝি নদীর পানি। এতে উপজেলার জনগণের মাঝে আবারও বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। টানা ২ মাসের বেশি সময় বন্যার পানির সঙ্গে লড়াইয়ের পর নালিতাবাড়ী ও পাশ্ববর্তী উপজেলা নকলার প্রান্তিক কৃষকরা ৯০ ভাগ রোপা আমনের চারা রোপন করলেও বাকী ১০ ভাগ চাষাবাদের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে আবারও বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। উজান থেকে নেমে আসা ভোগাই নদীর পানি কখনও কমছে ফের কখনও বাড়ছে। পানির এই হ্রাস-বৃদ্ধিতে নদীর অরক্ষিত তীর ভাঙ্গনের আশংকাও রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে বন্যার আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যায় ফসল হারানো কৃষক আবার নতুন করে ফসল লাগানোর প্রস্তুতি নিলেও তারা এখন আতংকে আছে। গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টির কারনে পাহাড়ি তিনটি নদীর পানি বাড়ায় মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ফের বন্যার কোনো সতর্ক বার্তা দেয়নি বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কী করন কেন্দ্র। এ কারনে এবারও সেপ্টেম্বরে বন্যার আশংকায় অনেক কৃষক শীতকালিন সবজির আবাদ শুরু করতে দ্বিধায় ভুগছেন। এছাড়া সাম্প্রতি বন্যায় এখনো বির্ধস্ত বন্যা দুর্গত এলাকা গুলো। ভেঙ্গে যাওয়া ঘরবাড়ি মেরামত করতে পারেনি নিম্ন আয়ের মানুষ রাস্তা ঘাট ভেঙ্গে চৌচির। সড়কে তৈরী হয়েছে খানাখন্দন ব্রিজ-কালভাটের সংযোগ সড়ক পানির তোড়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হযে পড়েছে। বন্যার পানি নামলেও শুরু হয়নি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামতের কাজ। দীর্ঘ দিনের বন্যায় অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। এতে নদীতে পানি বাড়তে দেখলেই আতংকে জেঁকে বসছে বন্যা দূর্গত এলাকার মানুষের মধ্যে। নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানা যায়, উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নে প্রায় ২২ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের চাষ হয়। এর মধ্যে নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও, নয়াবিল, নন্নী, বাঘবেড়, রামচন্দ্রকুড়া, নালিতাবাড়ী, রূপনারায়নকুড়া মরিচপুরান, যোগানিয়া,কলসপাড় ও পৌরসভাসহ সর্বাদিক পরিমান জমিতে আমন চাষ করা হয়। গত বছর আমন চাষের মৌসমে রেকর্ড পরিমান জমিতে চিনি শাইল ও তুলশী মালা ধানের চাষ হয়েছিল। এতে করে কৃষকরা ব্যাপক লাভবানও হয়েছিল। এবার আগাম বন্যার পানি মাঠে চলে আসায় রূপা আমন চাষ ব্যাহত হতে পারে। উপজেলার কোন্নগর গ্রামের নূরল হক বলেন, আমাদের দক্ষিন কোন্নগর বোরো আবাদ কেটে শেষ না করতেই দক্ষিন কোন্নগর মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মাঠ পানিতে ভরে গেছে। জমির পানি একটু কমলেও আবারও বাড়ার কারনে আমন ধানের আবাদ এবার করা সম্ভব হবে না। এ মাঠের মাঝে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল ছিলো সে খালটির উৎস মুখ বন্ধ রয়েছে। মালিঝি নদী খনন কাজের সময় খালটি মাটি ভারাট করে বন্ধ করে দেয়া হয়। কৃষক নবী হোসেন বলেন, আমাদের মরিচপুরান ইউনিয়নের কোন্নগর এলাকার জমিগুলোতে যেমন বোরো আবাদ হয়, তেমনি আমন ধানের আবাদও ব্যাপক হয়। গত বছর আমরা প্রচুর পরিমানে চিনি শাইল ও তুলশী মালার আবাদ করছিলাম। তাতে প্রচুর ফলন হয়েছিলো ভালো। তবে এবার মাঠের পানি বের করতে না পারায় বীজ তলা তৈরী করা সম্ভব হয়নি। নকলা উপজেলার উরফা বেনিপুঁরিরগোপ এলাকার কৃষক মুনছুর আলী বলেন, এবার ভোগাই নদীর বেরিবাঁধ বিগত বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ায় আমনের রোয়া রোপন করলেও উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় রয়েছে কৃষকরা। নালিতাবাড়ী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: আলমগীর কবির দৈনিক সংগ্রামকে জানান আকস্মীক পাহাড়ি ঢলের পানি বৃদ্ধির ফলে মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। নদীর পানি কমলে মাঠের পানি কমে যাবে। আমরা আশা করছি মাঠের পানি নেমে গেলে কৃষকরা লাগানো বাকী জমি গুলো আমন আবাদ করতে পারবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ