বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

দেশের ৬৮ কারাগারে হঠাৎ সতর্কতা জারি

নাছির উদ্দিন শোয়েব : দেশের ৬৮ কারাগারে হঠাৎ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জোরদার করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। কারাগারগুলোতে দ্রুত নিরাপত্তা বাড়াতে ও সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে সংশ্লিষ্ট কারাকর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কারাগারে থাকা বন্দী শীর্ষ সন্ত্রাসী, জঙ্গী ও বিভিন্ন ভয়ংকর অপরাধীদের ওপর কঠোর নজরদারির নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
হঠাৎ কারাগারগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয় নিশ্চিত করেছেন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা।  সোমবার এ চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান, সাম্প্রতিক সময়ে টেলিফোনে ও উড়ো চিঠিতে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা জঙ্গীসহ ভয়ংকর অপরাধীদের ছিনিয়ে নেয়ার বেশ কয়েকটি হুমকি এসেছে। এছাড়া কারাগার থেকে বন্দী পালানোর ঘটনা ঘটেছে। সেজন্যই এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।  চিঠিতে কিছু কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্যের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয় বলেও জানান মাহবুবুল ইসলাম। তিনি বলেন, চিঠি পেয়ে ইতিমধ্যে আমরা ৮ সদস্যের স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করেছি। যেখানে একজন ডেপুটি জেলার, একজন প্রধান কারারক্ষী ও পাঁচজন কারারক্ষী রয়েছে।
আইজি প্রিজন্সের দেয়া ১৮ দফা নির্দেশনায় রয়েছে কারাগারের বাইরের গেটে দায়িত্বপালনকারীদের বুলেট প্রুফ জ্যাকেট, হেলমেট নিশ্চিত করা, আগতদের মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা, ডিউটিতে সশস্ত্র সেন্ট্রি নিয়োগ দেয়া, অস্ত্র ও অস্ত্রাগারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পাশাপাশ কারাগারগুলোতে নিয়মিত মহড়া দেয়া, কারাগারের চারপাশের সীমানাপ্রাচীর সুরক্ষিত রাখা এবং অ্যালার্ম সিস্টেম পরীক্ষা করার নিদেশ দেয়া হয়েছে চিঠিতে। অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মো. আবরার হোসেন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এবং জেল সুপারের কাছে সম্প্রতি চিঠি দিয়ে ও ফোন করে ‘জঙ্গী’ ছিনিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে দেশের কারাগারগুলোতে।
তিনি আরো বলেন, সতর্কতার অংশ হিসেবেই কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের সমন্বয় করে স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যাতে কোনো ধরনের হামলা হলে তা দ্রুত প্রতিহত করা যায়। পাশাপাশি চিঠিতে এ ব্যাপারে মহড়া করার কথাও বলা হয়েছে। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে তার কাছে ডাকযোগে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, কারাগারে থাকা সাথীদের নাকি তারা ছিনিয়ে নেবে। কিছুতেই তাদের ঠেকানো যাবে না বলেও উল্লেখ করা হয়। তিনি আরো জানান, ওই চিঠির পর গত শনিবার একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন দিয়ে ওই একই হুমকি দেওয়া হয়। তবে কারা এই হুমকি দিয়েছে, বা কাদের তারা ছিনিয়ে নিতে চায়- এ ব্যাপারে কিছু বলেননি লালমনিরহাটের ডিসি। হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কারাগারগুলোতে হঠাৎ করে কি কারণে নিরাপত্তা বা কারারক্ষী বাড়ানো হয়েছে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল বলেন, ‘আমাদের কারাগারগুলো সুরক্ষিত করার জন্য এটা করা হয়েছে। আপনারা জানেন, আমাদের একজন আসামী কারারক্ষীদের দুর্বলতার কারণে কারাগার থেকে পালিয়েছে। সেজন্যই আমরা কারাগারকে আরো শক্তিশালী করছি। যাতে করে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে। আমরা সেখানে পাহারা বৃদ্ধি করছি সেটা নয়, কারাক্ষীদের দায়িত্ব যেন সঠিকভাবে পালন হয় সে ব্যবস্থা করেছি। আমরা জঙ্গীর মূল উৎপাটন করে দিতে পারিনি, তবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছি। লালমনিরহাটের কারাগারে উড়ো চিঠির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উড়ো চিঠি ও কাগজ আমাদের কাছে সব সময় আসে ও বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে থাকে। এ বিষয়ে আমরা কখনো মনোযোগ দিই না। তবে আমরা সবসময় তথ্যভিত্তিক কাজ করে থাকি। আমাদের কাছে যখন গোয়েন্দা তথ্য আসে তখনই আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। উড়ো চিঠি যেগুলো আসছে সেগুলো গোয়েন্দাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তারা যদি মনে করেন এগুলোর কোনো তথ্য আছে তাহলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
এদিকে কারা অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, দেশের ৬৮টি কারাগারের বন্দী ধারণক্ষমতা প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু এসব কারাগারে অবস্থানরত বন্দীর সংখ্যা প্রায় ৮৫ হাজারের বেশি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে এসব বন্দীদের একটি অংশকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। শুরুতে সে সংখ্যাটি অনেক বেশি চিন্তা করা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে সে সংখ্যা নেমে আসে তিন হাজারেরও নিচে। মাত্র তিন হাজারের মতো বন্দীকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি কারাগার ও কারা রক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কয়েকজন বন্দী পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। কয়েকজন কারা রক্ষিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ